আইপিএল চালু হওয়ার পর থেকে ক্রিকেটের নিয়মে যে বড় পরিবর্তনগুলি এসেছে

সময়ের সঙ্গে যে তালে তাল মিলিয়ে চলতে পারে, সেই নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পারে। কালের নিয়মের সঙ্গে পরিবর্তিত হওয়াটাই বিবর্তন। সময়ের চাহিদা অনুযায়ী ক্রমশ বিবর্তিত হতে হয়। মানুষের জীবনের মতো ক্রিকেট খেলাটাও তেমন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যত আধুনিক হয়েছে সভ্যতা। ক্রিকেটও সেভাবে উন্নিত করেছে নিজেকে প্রযুক্তি নির্ভর করে তুলে, আবার কখনও নিয়মের বদল এনে।

টেস্ট ক্রিকেট থেকে একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের আবির্ভাব। আবার এসেছে আরও ছোটো ফরম্যাট কুড়ি-কুড়ি ওভারের ক্রিকেট। খেলাটা এখন ছোটো হতে হতে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। সেই সঙ্গে একঘেঁয়েমি দূর করতে এসেছে নিয়মে একের পর এক বদল। ২০০৮ সালে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের সূচনা করে। বর্তমানে তা একদশক পূরণ করার পথে। আর গত দশবছরে অনেক নিয়ম বদলেছে ক্রিকেটে।

আইপিএলের সূচনার পর থেকে ক্রিকেট যেভাবে বিবর্তিত হয়েছে –

৫. রানার নেওয়ার নিয়ম তুলে দেওয়া

ব্যাটিংয়ের সময় প্রয়োজন পড়লে রানার নিয়ে ব্যাট করার নিয়ম ছিল ক্রিকেটে। কিন্তু, ২০১১ সাল থেকে আইসিসি সেই নিয়ম তুলে দেয়। এর পিছনে কারণ ছিল ব্যাটসম্যানরা নাকি নিয়মের ইচ্ছাকৃতভাবে ফায়দা তুলছেন। আইসিসি’র বক্তব্য ছিল, ম্যাচ চলাকালীন চোট না লাগলেও অধিকাংশ ব্যাটসম্যানরা চোটের বাহানায় রানার নিয়ে ম্যাচের ফলাফলে প্রভাব আনার চেষ্টা করছিলেন। তারপর থেকে ক্রিকেটে রানার নিয়ে ব্যাট করার প্রথা বিলুপ্ত। যদিও মাইকেল ক্লার্কের মতো বিশ্বকাপজয়ী অজি অধিনায়ক বারংবার রানার নেওয়ার প্রথার পক্ষে ছিলেন।

৪. দুই প্রান্ত নতুন সাদা বলের ব্যবহার

ওডিআই ক্রিকেটকে আর বিচক্ষণ করে তুলতে সাত বছর হয়ে গেল আইসিসি নতুন নিয়ম চালু করেছে। দুই প্রান্ত থেকেই সাদা বলের ব্যবহার করতে পারেন বোলাররা এখন। ২০১১ সাল থেকে এই নিয়ম চালু হলেও ১৯৯২ বিশ্বকাপের সময় আইসিসি এই নিয়ম পরখ করেছিল। ২টি সাদা বল নেওয়ার ফায়দা হলো, বোলাররা নতুন বল পেলে অনেক বেশি সময় বল সুইং করাতে পারবেন। আর ব্যাটসম্যানদেরও অসুবিধা হবে না। কারণ, সাদা বল পুরনো হয়ে এলে ব্যাটসম্যানদের দেখতে অসুবিধে হয়।

৩. ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম

২০০৮ সালে ভারত বনাম শ্রীলঙ্কা টেস্টে আইসিসি প্রথমবার ডিআরএস ব্যবহার করে। তবে, পরীক্ষামূলকভাবে। যদিও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডই সবার শেষে এই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে রাজি হয়। বাকি পূর্ণ সদস্যদের ক্রিকেট খেলিয়ে দেশের বোর্ডরা অনেক আগেই এই ডিআরএস গ্রহণ করে। এই ব্যবস্থায় টেলিভিশন রিপ্লে তে বল ট্র্যাক্রিং টেকনোলজি ব্যবহার করা হয়। বল পিচে পড়ার কোনদিকে মোড় নিতে পারে, তা সহজেই অনুধাবন করা যায় এর সাহায্যে। স্টাম্প মাইক্রোফোন ব্যবহার করা হয় স্নিকোমিটারের জন্য। আর আল্ট্রাএজ সিস্টেমের সাহায্য নেওয়া হয় বল যদি আলতো করে ছুঁয়ে বেরিয়ে যায়, তা বুঝতে। ডিআরএস প্রযুক্তিতেও এখন অনেক বদল এসেছে। আগের তুলনায় এখন অনেক উন্নত এই প্রযুক্তি। আইপিএল ক্রিকেটেও এই প্রযুক্তি এবার থেকে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিসিআই।

২. পাওয়ার প্লে’তে পরিবর্তন

২০১১ সালে পাওয়ার প্লে নিয়ম চালু করে আইসিসি। ওয়ান-ডে ক্রিকেটে বোলিং ও ব্যাটিং পাওয়ার প্লে চালু করা হয়। তুলে দেওয়া হয় প্রথম ১৫ ওভারের ফিল্ডিং রেস্ট্রিকশনের পুরনো প্রথা। তার বদলে ১৬ ওভার থেকে এবং ৪০ থেকে দশ ওভারের করে পাওয়ার প্লে ভেঙে দেওয়া হয়। যাইহোক এই নিয়মেও অনেক পরিবর্তন এসেছে সময়ে সময়ে। প্রথমে পাওয়ার প্লে চলাকালীন দু’জন ফিল্ডার বাইরে রাখা যেত। কিন্তু, ব্যাটসম্যানরা অত্যাধিক মাত্রায় রান তুলে নিচ্ছেন দেখে এখন বোলিং পাওয়ার প্লেতে পাঁচজন করে ফিল্ডার রাখার নিয়ম চালু বাউন্ডারি আটকানোর জন্য। তবে, প্রথম পাওয়ার প্লের সময় এই নিয়ম চার ফিল্ডারের জন্য প্রযোজ্য।

১. অভব্য আচরণ করলে লাল কার্ড

২০১৭ সাল থেকে অনফিল্ড আম্পায়ারদের হাতে এই ক্ষমতা ন্যস্ত করেছে আইসিসি। কোনও ক্রিকেটার অভব্য আচরণের মাত্রা ছাড়ালে আম্পায়ার চাইলে তাঁকে মাঠ থেকে বের করে দিতে পারবেন লাল কার্ড দেখিয়ে। কারণ, মাঝেমধ্যে ক্রিকেটাররা এমন আচরণ করেন আম্পায়ারদের সঙ্গে যে তাঁরা এই কাজ থেকে সময়ের আগেই অবসর নিয়ে নিতে বাধ্য হন। বিশেষ করে জুনিয়র লেভেলে এটা বেশি করে দেখা যায়। তাই আইসিসি বাধ্য হয়ে এই নিয়ম চালু করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে এই নিয়ম চালু হওয়ায় ক্রিকেটাররা সংযত হবেন এবং আম্পায়াররা অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস পাবেন খেলা পরিচালনা করতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: