আইপিএল ক্রিকেটে চিয়ারলিডারদের নিয়ে কিছু অজানা তথ্য, যা আপনি কোনওদিন জানতেনও না…

গত একদশক ধরে ভারতে এপ্রিল-মে মাসের গরমকালটা ঠিক যেন উৎসবের মতো করে পালিত হচ্ছে। ২ মাস ধরে ভারতবাসী এককাট্টা হয়ে ক্রিকেট খেলাতে মেতে থাকে। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে আন্তর্জাতিক তারকাদের আনাগোনা আর স্পনসরদের টাকার থলি। আর এই রোমাঞ্চকর উন্মাদনাকে মাদকতাময় করে তোলে চিয়ারলিডারদের উপস্থিতি। চার-ছয়ের তালে তালে সুন্দরী স্বল্পবসনাদের কোমর দোলানো দেখবেন বলে অনেকেই মাঠমুখো হন এসময়। আইপিএল ক্রিকেটের শুরু থেকে বিদেশিনীরা ভারতীয় ক্রিকেট অনুরাগীদের মোহিত করে আসছেন। তবে, তাঁদের কাজটাকে অনেকেই ছোটো চোখে দেখেন। আর না হলে নাক সিঁটকান।

কিন্তু, এই চিয়ারলিডারদের যে অসীম ধৈর্য্য রয়েছে, তা অনেকেই জানেন না। গ্ল্যামারের পিছনে আছে অনেকে না জানা কথা। ২০১৫ সালে ইংরেজি দৈনিক টাইমস অফ ইন্ডিয়া আইপিএল ক্রিকেটে চিয়ারলিডার হিসেবে কাজ করা এক মহিলাকে নিয়ে খবর করেছিল। সামনে এসেছিল অনেক গোপন কথা। খুব একটা আনন্দদায়ক নয়, তাঁদের জীবন। সহ্য করতে হয় অনেক লাঞ্ছনা। আইপিএল ক্রিকেটের দ্বিতীয় দশক শুরু করার আগে একবার সেই অচেনা মহিলাদের জীবনে নজর দেওয়ার চেষ্টা। তাঁদের জীবনের পাঁচটি সত্য তুলে ধরা।

আইপিএল ক্রিকেটে চিয়ারলিডারদের পাঁচটি অজানা তথ্য –

১. দর্শকরা যা পারেন ছুঁড়ে মারেন

খেলা দেখতে আসা দর্শকরা কি নিয়ে মাঠে প্রবেশ করবেন, তা নিয়ে বাধ্যবাধকতা আছে ঠিকই, কিন্তু কয়েন, মোবাইলের চার্জার, লেমনেডের বোতল কেউ নিয়ে আসা আটকাতে পারেন না সবসময়। কোনও না কোনওভাবে কেউ না কেউ নিয়েই চলে আসেন। এরকম অনেকেই করেন। তারওপর গ্যালারির নিচ থেকে পপকর্নের বাকেট ও জলের বোতল কিনতে দেওয়ার অনুমতি দিতে বাধ্য। আর সেখানেই বিপত্তি। গ্যালারির চারপাশে বড়বড় লোহার জালের বেড়া আটকানো থাকলে কি হবে, দর্শকরা ওই সব বোতল, কয়েন ছুঁড়ে মারেন চিয়ারলিডারদের দিকে। ওই চিয়ারলিডারের স্বীকারোক্তি ছিল, ”যা ইচ্ছে হয় ছুঁড়ে মারা হয় আমাদের দিকে। এমনকি আবর্জনাও।”

২. যৌন ইঙ্গিতমূলক কটুক্তি

এই ব্যাপারটা চিয়ারলিডারদের সবচেয়ে বেশি সহ্য করতে হয়। মহিলা সেলিব্রিটিরাও এর থেকে বাদ যান না। যাইহোক, খেলা দেখতে আসা দর্শকরা সবসময় যে চিয়ারলিডারদের দিকে খারাপ নজরে তাকান, এমনটাও নয়। তবে, ব্যাপারটা বেশ অস্বস্তিকর যে কারও পক্ষে। ব্যাপরটা আরও বেশিদূর গড়িয়ে যায় অনেক সময়তেই। যৌন উৎপীড়নমূলক মন্তব্য ছুঁড়ে দেওয়া হয় গ্যালারি থেকে। অনবরত চলতে থাকে এসব। আর কিছু বলারও নয়। চিয়ারলিডারদের মাঠে আনাই হয় দর্শকদের চোখ ও মনকে আনন্দ দেওয়ার জন্য। ফলে, পুরুষ দর্শকদের কাছ থেকে যৌনউত্তেজনামূলক শব্দ উড়ে আসাটা স্বাভাবিকভাবেই ধরা হয়।

”যখন আমি দর্শকদের দিকে মুখ ফেরাই, তখন কোনও দিকে বিশেষ করে তাকাই না। শুধুমাত্র ওই দিকে মুখ ফিরিয়ে এদিক-সেদিক দেখার চেষ্টা করি। কারণ, তার মধ্যে এমন কিছু অভদ্র পুরুষ রয়েছে, যারা আমায় দিকে চুম্বন দেওয়ার ইঙ্গিত করে মুখ দিয়ে, অনেকে আমার ছবি তোলে। আমি সেসবকে পাত্তা না দেওয়ার চেষ্টা করি।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: