ইতিহাসের ৪ বিধ্বংসী ওপেনার, যারা টেস্ট ক্রিকেটের ভোল পাল্টে দিয়েছেন!

বলা হয় টেস্ট ক্রিকেট আর জীবনের মধ্যে অনেক মিল রয়েছে। জীবন যুদ্ধে যেমন দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর সুসময় আসে, তেমনই টেস্ট ক্রিকেটে একটা বড় ইনিংস খেলতে গেলে চাই ধৈর্য্য, অধ্যাবসায় আর দৃঢ় চেতা মানসিকতা। আর এই কারণে ক্রিকেটে টেস্টের আসরকে পরীক্ষার সবচেয়ে বড় অধ্যায় বলে বর্ণনা করা হয়। কোনও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ততটাই গ্রেট, তিনি পাঁচদিনের ফরম্যাটে যতটা সফল হতে পেরেছেন।

ক্রিকেটের অন্যান্য ফর্ম্যাটের মতো এখানেও ওপেনিং একটা বড় ব্যাপার। টেস্টের আসরে কোনও টিমের হাতে যদি ভালো ওপেনার থাকে, তাহলে সেই টিম ম্যাচ জেতার দিক থেকে ততটা এগিয়ে থাকে। কারণ, জমাট গোড়াপত্তন হলে পরের দিকের ব্যাটসম্যানরা ইনিংস খুব সহজেই টেনে নিয়ে যেতে পারেন পাহাড় প্রমাণ রানের দিকে।

টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে আমরা সুনীল গাভাস্কার, গ্রেম স্মিথ, অ্যালিস্টার কুক, মাইক অ্যাথারটনের মতো দুর্দান্ত ওপেনারদের দেখেছি। এঁরা সকলেই টেকনিক ও অধ্যাবসায়ের দিক থেকে সর্বকালের সেরা টেস্ট ওপেনার। এঁরা যেন ক্রিকেটের টেক্সট বুককে গুলে খেয়েছিলেন আন্তর্জাতিক আসরে নামার আগে।

তবে, টেস্ট ক্রিকেটে আবার এমন চার ওপেনারকেও পেয়েছে, যাঁরা সজ্ঞাটাই বদলে দিয়েছেন ওপেন করার। এঁরা আবার প্রথাগত জমাটবাধা টেকনিকে ভর করে সময় নিয়ে ইনিংস গড়া নয়, শুরু থেকেই বিপক্ষ দলের বোলারদের আক্রমণ করে ব্যাকফুটে ঠেলে দেওয়া নীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন। আর তাঁদের সেই প্রথাবিরোধী মনোভাবের জন্য টেস্ট ক্রিকেট আজ এতোটা আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে।

টেস্ট ক্রিকেটের সজ্ঞা বদলে দেওয়া চার ওপেনার –

৪. ডেভিড ওয়ার্নার (ডেবিউ – ২০১১)

অজি তারকা ওপেনার বর্তমানে ক্রিকেট থেকে নির্বাসিত এক বছরের সময়কালের জন্য। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলার কোনও অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও, ওয়ার্নারকে ব্যাগি গ্রিন ক্যাপ দেয় ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। ডেভিড একমাত্র ব্যতিক্রম এক্ষেত্রে। আর তারপর থেকে ফিরে তাকাতে হয়নি। এই প্রজন্মে টেস্টের আসরে ভোল পাল্টে দিয়েছেন তিনি। ওয়ার্নের টেস্ট ব্যাটিং গড় ৪৮.২০। স্ট্রাইক রেট ৭৪.৫০।

 

৩. ম্যাথিউ হেডেন (১৯৯৩-২০০৯)

কেরিয়ারের প্রথম পর্বে সফল হননি। কিন্তু দ্বিতীয় পর্বে তিনি লেজেন্ড হয়ে ওঠেন। ২০০১ সালে ভারতে সফরে এসে স্টিভ ওয়ার নেতৃত্বে অজি টিম মুখ থুবড়ে পড়ে, সেই সিরিজ থেকেই আন্তর্জাতিক আসরে উত্থান হেডোসের। টেস্টের আসরে ম্যাথু দুর্দান্ত ওপেনার ছিলেন। গত দশকে অজি টিমের রাজত্ব করার এটাও একটা বড় কারণ। হেডেনের ৩৮০ রান টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে স্বল্পসময় সর্বোচ্চ রান ছিল। টেস্ট ক্রিকেটে হেডেনের গড় ৫০.৭৩। স্ট্রাইক রেট ৬০.১০।

 

২. বীরেন্দ্র সেহওয়াগ (২০০১-২০১৩)

শ্রেফ হ্যান্ড-আই কোঅর্ডিনেশনে ভর করে বীরু ক্রিকেট বিশ্বে অন্যতম তারকা হয়ে উঠেছিলেন। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ওপেন করতে নেমে যেরকম খুনে মেজাজ ধরতেন, তৎকালীন ভারত অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলি সেটাকেই টেস্টের আসরে আনেন। আর সেটাই টেস্টের আসরের ঐতিহাসিক বিবর্তন হয়ে দাঁডায়। বীরু টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসের সবচেয়ে বিপজ্জনক ব্যাটসম্যান ও ওপেনার হিসেবে পরিচিত। ব্রেট লি, শন পোলক, মাখায়া এনটিনি কাউকেই রেয়াত করতেন না বীরু। আন্তর্জাতিক আসরে দু’টি ট্রিপল সেঞ্চুরি রয়েছে নজফগড়ের নবাবের। বীরুর টেস্ট গড় ৪৯.৩৪। স্ট্রাইক রেট ৮২.২৩।

 

১. গর্ডন গ্রিনিজ (১৯৭৬-১৯৯১)

বিগত প্রজন্মের সেরা টেস্ট ওপেনার। আধুনিক প্রজন্মের আমার তিন বিধ্বংসী টেস্ট ওপেনারকে দেখেছি। কিন্তু গ্রিনিজ যে সময় ওপেনারের ভূমিকায় বিধ্বংসী রূপ নিয়েছিলেন, সে সময় এই ধরণের খেলার চল ছিল না। বলেতে গেলে ওপেন করতে নেমে টেস্টের আসরেও যে বিধ্বংসী ব্যাটিং করা যায়, সেটা এই ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান গ্রেটই প্রথম দেখিয়েছিলেন। ইংল্যান্ডকে টেস্ট সিরিজে দোর্দণ্ডপ্রতাপ ক্যারিবিয়ান টিম একবার ৫-০ ব্যবধানে হারায়। সেসময় একে ব্ল্যাকওয়াশ আখ্যা দেওয়া হয়েছিল। আর তার অন্যতম কারণ ছিল গ্রিনিজের বিধ্বংসী ব্যাটিং। টেস্টের আসরে ক্যারিবিয়ান টেস্ট লেজেন্ডের গড় ৪৪.৭২। স্ট্রাইক রেট ছিল ৬০.২৮।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: