ভারতের এমন পাঁচ স্পিনার যারা আশা জাগিয়েও ব্যর্থ হয়েছেন

ভারতীয় ক্রিকেটের এখন নতুন সেনসেশান কুলদীপ যাদব-যোগবেন্দ্র চাহাল জুটি। দক্ষিণ আফ্রিকায় ওয়ানডে সিরিজে চোখধাঁধানো সাফল্য পেয়ে কুলদীপ-চাহাল এখন আগামী বছর বিশ্বকাপে স্কোয়াডে থাকার মুখে দাঁড়িয়ে। বিরাট কোহলি এখন থেকেই জানিয়ে দিয়েছেন কুলদীপ-চাহালরা ২০১৯ বিশ্বকাপে দলের তুরুপের তাস হতে চলেছেন। অশ্বিন-জাদেজাদের জন্য তাহলে কী সীমিত ওভারের ক্রিকেটের দরজা বন্ধ হয়ে গেল! প্রশ্নটা উঠতে শুরু করেছে। এই প্রশ্নটার মাঝে জানিয়ে দেওয়া যাক, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শুরুতে এসে দারুণ করেও পরে তাদের বল রিড করে ফেলায় বেশ কয়েকজন ভারতীয় স্পিনার নিভে গিয়েছিলেন। যাদের একটা সময় মনে হয়েছিল আগামীর তারকা, তারাই পরে প্রত্যাশাপূরণ করতে না পেরে দল থেকে বাদ পড়েন।

দেখুন দেশের এমনই পাঁচ স্পিনারদের-যাঁরা শুরুতে জ্বলে উঠেও নিভে যান

৫) পীযুষ চাওলা


২০০৬ সালে আন্তর্জাতিক ম্যাচে খেলার তাঁকে প্রথম সুযোগ দেন রাহুল দ্রাবিড়। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে মোহালি টেস্টে কুম্বলে-হরভজনের সঙ্গে তৃতীয় স্পিনার হিসেবে খেলতে নেমেছিলেন উত্তরপ্রদেশের স্পিনার পীযুষ। তবে টেস্টে একেবারেই চলেননি। ২০০৭ সালে বিশ্বকাপের ওয়ানডে-তে সুযোগ পাওয়ার পর পীযুষের বোলিং অনেকের মন জিতেছিল। মনে করা হয়েছিল কুম্বলের উত্তরসূরি হয়ে ওঠার ক্ষমতা ছিল। ২০১১ বিশ্বকাপ জয়ী দলের সদস্য পীযুষের বলে বৈচিত্র্য ছিল। কিন্তু প্রথমে সাফল্য পেলেও কিছুদিনের মধ্যে তাঁর সব জাড়িজুড়ি ধরা পড়ে যায়। ৩টে টেস্ট, ২৫টি ওয়ানডে আর ৭টি আন্তর্জাতিক টি টোয়েন্টি খেলেই শেষ হয় কেরিয়াকর। টেস্টে পান ৭টি, ওয়ানডে-তে ৩২টি ও টি টোয়েন্টিতে চারটি উইকেট। দিল্লিতে ২০১১ বিশ্বকাপের গ্রুপ লিগে নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে ম্যাচে খেলার পর সেই যে বাদ পড়েছিলেন আর সুযোগ পাননি। মানে বিশ্বকাপ হাতে তুলেই শেষ হয় তাঁর ওয়ানডে কেরিয়ার। এরপর অবশ্য গোটা তিনেক আন্তর্জাতিক টি টোয়েন্টি খেলেছিলেন।

৪) সুনীল যোশী

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কর্নাটকের তারকা স্পিনার সুনীল যোশীর আগমন সেই সময় যখ জাতীয় নির্বাচকা হন্যে হয়ে অনিল কুম্বলের পার্টনার খুঁজছেন। কুম্বলেকে কিছুতেই অন্য প্রান্তে সহায়তা করার জন্য ভাল স্পিনার মিলছে না। ভেঙ্কটপতি রাজুকে বারবার সুযোগ দেওয়া সত্ত্বেও কিছুই করতে পারছেন না। ঘরোয়া ক্রিকেটে চমকপ্রদ সাফল্য পাওয়া যোশীকে অনেক আশা করে সুযোগ দেওয়া হয়। শুরুতে মন্দ বল করছিলেন না। টেস্টের থেকে ওয়ানডে-তেই বেশি কার্যকরী হবেন সেটা বোঝা গিয়েছিল। ১৯৯৯ সালে কেনিয়ায় ত্রিদেশীয় সিরিজে যোশী অসাধারণ এক কাণ্ড ঘটালেন। নাইরোবিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে করলেন অবিশ্বাস্য এক স্পেল। মাত্র ৬ রান দিয়ে ৫ উইকেট নিলেন যোশী। পুরো দশ ওভার বল করে নিলেন ৬টা মেডেন, আর দিলেন মাত্র ৬ রান, পেলেন ৫ উইকেট। দক্ষিণ আফ্রিকা তখন ওয়ানডে ক্রিকেটে এক নম্বর দল। ওই একটা পারফরম্যান্সের পর সাড়া পড়ে গেল সুনলীকে নিয়ে। মনে করা হল এতদিন পর কুম্বলকে সঙ্গ দেওয়ার মত স্পিনার পাওয়া গেল। কিন্তু না, সীনল এরপর সেভাবে আর দারুণ কিছু করতে পারেননি। ঘরোয়া ক্রিকেটে ৬১৫ উইকেটের মালিক সুনীল শুরুতে জ্বলে উঠেও নিভে যান।

৩) প্রজ্ঞান ওঝা


অনিল কুম্বলের অবসরের পর ভারতীয় ক্রিকেট যখন স্পিনারের সন্ধানে তখনই ওঝার ডাক পড়ল। শুরুতে দারুণ বোলিং করলেন। বেশ কয়েকবার ইনিংসে পাঁচ উইকেটও নিলেন। খুব তাড়াতাড়ি টেস্টে একশো উইকেটের মালিকও হলেন। তার চেয়েও বড় কথা তিনি কিন্তু সীমিত ওভারের ক্রিকেট নয়, উইকেটটেকিং টেস্ট বোলার। যেটা ভারতে সচারচর মেলে না। তবে যত দ্রুত উত্থান, তত দ্রুত পতন। বোলিং অ্যাকশনে সমস্যা ধরা পড়ায় ওড়িশার এই স্পিনারকে সেই যে বিশ্রামে পাঠানো হয়, সেটা কার্যত চির বিশ্রামে পরিণত হয়। ২০০৯ সালে টেস্ট অভিষেক হওয়ার পর ২৪টি টেস্টে ১১৩টি উইকেট নিয়ে ২০১৩ সালে কার্যত শেষ হয়ে গিয়েছে তাঁর আন্তর্জাতিক কেরিয়ার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: