ভারতীয় দলে দিনেশ কার্তিকের পরিবর্ত হতে পারেন পাঁচ তারকা উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান!

এজবাস্টনে ভারত ব্যর্থ। সেখানে বলতে গেলে ম্যাচটা উপহার দিয়ে আসে ভারত। কিন্তু, লর্ডসে সিসিজের দ্বিতীয় টেস্ট যেভাবে হেরেছেন বিরাট কোহলিরা, তাতে আর চোখ বন্ধ করে বসে থাকার ফুরসৎ নেই। ক্রমাগত উপেক্ষিত হতে হতে কার্তিক যখন সুযোগ পেলেন, তখন ফর্ম হারিয়ে বসলেন। প্রস্তুতি ম্যাচে বড় ইনিংস খেলে দেন। টিমের হয়ে সবচেয়ে বেশি রান তার ব্যাট থেকেই আসে। বার্মিংহামের ব্যর্থতাকে ততোটা গুরুত্ব না দেওয়া হলেও লর্ডসের ব্যর্থতাকে গুরুত্ব দিতেই হবে। একটা ম্যাচে ফর্মে ঘাটতি হতে পারে। কিন্তু, সেটা ধারাবাহিক হয় গেলেই মুশকিল।

প্রথম টেস্টে অল্পের জন্য হারতে হয়। কিন্তু, দ্বিতীয় টেস্ট নিজেদের প্রমাণ করার অনেক সুযোগ ছিল। সেটা কাজে লাগাতে পারেননি দিনেশ কার্তিক। বর্তমান ভারতীয় দলে অভিজ্ঞতার বিচারে তিনি বিরাট কোহলির থেকেও সিনিয়র ক্রিকেটে। তাঁর কাছ থেকে অন্তত একটা ভালো ইনিংস আশা করে টিম ম্যানেমেন্ট। সিনিয়র ক্রিকেটারদের কাজটাই তাই। অভিজ্ঞতার জোরে কঠিন পরিস্থিতিতে ম্যাচ বের করে তুলনায় কম অভিজ্ঞদের সামনে উদাহরণ হিসেবে উঠে আসা।

মহেন্দ্র সিং ধোনি টেস্টের আসর থেকে সরে দাঁড়ানোর পর লাল বলের ক্রিকেটে ভারতীয় দলে অটোমেটিক চয়েস হয়ে ওঠেন বাঙলার ঋদ্ধিমান সাহা। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের সময় চোটের কবলে পড়েন তিনি। তারপর থেকে নানারকম চোটে ভুগে চলেছেন। আইপিএল মরশুম শেষে আঙুলের হাড় ভেঙে বসেন। সেটা সারার পর জাতীয় অ্যাকাডেমিতে ফিটনেস নিয়ে খাটতে গিয়ে কাঁধের চোটটাও বাড়িয়ে বসেন এবং ইংল্যান্ড সফর থেকে ছিটকে যাওয়া এই কারণেই। আশা করা হচ্ছে, অস্ট্রেলিয়া সফরের সময় টেস্ট সিরিজে তাঁকে পাওয়া যাবে। তবে, পুরোটাই অনিশ্চয়তা। যতদিন না পাকাপাকি কোনও খবর আসছে, ততদিন ভারতীয় দলকে বিকল্প বন্দোবস্তে চোখ রাখতে হবে।

শ্রীলঙ্কার মাটিতে ত্রিদেশীয় টি-২০ টুর্নামেন্ট নিদহস ট্রফি আর একাদশ আইপিএল মরশুমে দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের নমুনা তুলে ধরা কার্তিককে সাহার পরিবর্ত হিসেবে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে টেস্ট ম্যাচ সুযোগ দেওয়া হয়। সেখান পারফর্ম করে ইংল্যান্ডে সফরে অটোমেটিক চয়েস হয়ে ওঠা কার্তিক এখন ফর্ম হারিয়েছেন। ফলে, টিমে তাঁর বিকল্প দরকার।

ভারতীয় দলে কার্তিকের বিকল্প হতে পারেন যে পাঁচ তারকা –

৫. পার্থিব প্যাটেল

সৌরভ গাঙ্গুলি আমলে জাতীয় দলে আসা গুজরাতি উইটেককিপার-ব্যাটসম্যান পার্থিব তিরিশের কোটা পার করে গিয়েছেন। চালিয়ে খেলার ক্ষমতা থাকলেও ধারাবাহিকতার অভাবে জায়গা পাকা করতে পারেননি। এখন ঘরোটা ক্রিকেটে গুজরাত টিমকে নেতৃত্ব দেন পার্থিব। আন্তর্জাতিক আসরে খেলার মতো অভিজ্ঞতা তাঁর রয়েছে। বছরের শুরুতে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরেও জাতীয় নির্বাচকদের নজরে ছিলেন। পার্থিব স্কোয়াডে থাকলে একটা সুবিধা, তাঁকে দিয়ে ওপেন করানো যাবে প্রয়োজনে।

৪. সঞ্জু স্যামসন

সঞ্জু স্যামসনকে নিয়ে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা বেশ আশাবাদী। ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে শুরু করে আইপিএল মঞ্চ, নিজের প্রতিভার পরিচয় তিনি দিয়েছেন বারবার। সঞ্জুর কিপিংও ভালো। সেই সঙ্গে টপ অর্ডারে ব্যাট করতে পারেন। বিশ্বমানের বোলারদেরও যে তিনি পিটিয়ে ঠান্ডা করতে পারেন আইপিএল ক্রিকেট তা দেখিয়ে দিয়েছেন। ফলে, টেস্টের আসরে তাঁকে সুযোগ দিয়ে দেখা যেতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: