আইসিসি’কে হুমকি বিসিসিআই’য়ের : প্রবল চাপে ক্রিকেট নিয়ামক সংস্থা!

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থার সঙ্গে আবার লড়াইতে নামল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। ২০২১ সালে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি এবং ২০২৩ সালে ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব ভারতকে দেওয়ার পর, এখন তা ফিরিয়ে নিতে চাইছে আইসিসি। কারণ, ভারত সরকার এই দুই টুর্নামেন্ট আযোজনের জন্য আইসিসি’কে কোনও রকম কর ছাড় দেবে না বলে দিয়েছে। ফলে, আইসিসি চাইছে টুর্নামেন্ট অনত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার। যেটা বিসিসিআই কোনওভাবেই চায় না। শুধুমাত্র কর ছাড়ের অজুহাতে, টুর্নামেন্ট ভারতকে আয়োজনের দায়িত্ব দিয়ে তা কেড়ে নেওয়া অপমানের ব্যাপার। আর তাতেই চটেছে বিসিসিআই। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড আইসিসি’কে হুমকি দিয়েছে, টুর্নামেন্ট দু’টি আয়োজনের ভার তাদের হাত থেকে কেড়ে নেওয়া হলে মেম্বার্স অফ এগ্রিমেন্ট – এমপিএ, ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসবে ভারত।

খবরে প্রকাশ, ভারত সরকারের কাছ থেকে কর ছাড়ের ব্যাপারটি নিয়ে সহযোগিতা না পাওয়ায় আইসিসি কর্তারা অসন্তুষ্ট হন। এই সুযোগে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড তাদেরকে প্রস্তাব দেয়, চাইলে তাঁরা মিনি বিশ্বকাপ (আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি) আয়োজনের দায়িত্ব পাকিস্তানকে দিতে পারে। পাক সরকার আইসিসি’র দাবি মেনে নিয়ে কর ছাড় দেবে। আর তাতে আইসিসি কর্তারা ইতিবাচক সাড়া দিতে চাওয়ায় বিসিসিআই অত্যন্ত রুষ্ট হয়েছে। কারণ, বিসিসিআই ও আইসিসি যৌথভাবেই ভারত সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছিল। এখন ভারত সরকার কর ছাড় দিতে রাজি হয়নি, তাতে বিসিসিআই’য়ের কোনও দোষ নেই। ফলে, এই অজুহাতে কোনওভাবেই ভারতের হাত থেকে টুর্নামেন্ট আয়োজনের দায়িত্ব কেড়ে নেওয়া যায় না। আর বিসিসিআই’য়ের থেকে বছর বছর আইসিসি যা আয় করে, তা সম্মিলিতভাবে সবকটি ক্রিকেট খেলিয়ে দেশও জোগাড় করে দিতে পারে না।

এমপিএ থেকে বিসিসিআই বাইরে বেরনোর অর্থ?

ভারতের বহুল প্রচারিত একটি ইংরেজি দৈনিকের দেওয়া রিপোর্ট বলছে, আইসিসি টুর্নামেন্ট আয়োজনের দায়িত্ব কেড়ে নিলে, ভারত আইসিসি’র সঙ্গে সবচুক্তি বাতিল করবে। আর ভারত চুক্তিভঙ্গ করলে চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা। আইসিসি ও বিসিসিআই’য়ের এক ঘনিষ্ঠ সূত্রের বক্তব্য, ”ভারত সরকার কাছে কর ছাড় না পাওয়ার অজুহাতে আইসিসি যদি টুর্নামেন্ট অনত্র সরাতে সচেষ্ট হয়, তাহলে নিজেদেরই ক্ষতি করবে। বড় সমস্যার সৃষ্টি হবে এর ফলে। ভারত তাহলে সব চুক্তি ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসবে।”

বিসিসিআই স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, আইসিসি আশায় আছে, যেহেতু শশাঙ্ক মনোহর তাদের চেয়ারম্যান, তাই ভারত সরকারের সঙ্গে কথাবার্তা এগোতে পারে এব্যাপারে। সূত্রের দাবি, ”একেবারে হাস্যকর ব্যাপার। ব্যক্তি বিশেষরা নিজের গদি বাঁচানোর চেষ্টা করছে। আর্থিক ছাড় চাইছে, যার কোনও ভিত্তি নেই। ব্যাখ্যাও নেই।”

এখানে বলে রাখা ভালো, আইসিসি ও বিসিসিআই মধ্যে গত বছর থেকেই ঝামেলা চলছে। আইসিসি যে আর্থিক মডেল চালু করেছে গত বছর থেকে, তা বিসিসিআই’য়ের একেবারেই পছন্দ নয়। এজন্য তারা বারবার বিরোধিতাও করে আসছে। আর তাতেই দূরত্ব আরও বেড়েছে। আর আইসিসি যে কর ছাড় চাইছে, তাতে তাদের ১০ কোটি মার্কিন ডলার লাভ হবে। এই কারণে আইসিসি টুর্নামেন্ট অনত্র সরাতে চাইছে।

সুত্রের বক্তব্য, ”এবার বিসিসিআই একদম ছেড়ে দেবে না। এমপিএ মোতাবেক নিজের অধিকার প্রয়োগ করবে। আইসিসি যে রেভেনিউ প্রথা চালু করেছে নতুন করে, তাতে বিসিসিআই’য়ের যে ক্ষতি হবে, তাতে তাদের কিছু এসেও যায় না। কারণ, একটা বা দু’টো দ্বিপাক্ষিক সিরিজ আয়োজন করিয়ে ওর চেয়ে বেশি অর্থ আয় করে ভারতীয় বোর্ড। (স্টার চ্যানেলই ৪৩ কোটি টাকা দেয় বিসিসিআই’কে এক একটি ম্যাচের জন্য। চুক্তি নতুন করে হলে আরও বাড়বে তার পরিমাণ।) টুর্নামেন্ট আয়োজনের এরকম পরিবেশ আর কোথাও নেই (ক্রিকেট) বিশ্বের।”

Source : TIMES NOW

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: