ক্রিকেট দুনিয়ার সবচেয়ে করুণ এক প্রেম কাহিনি- যা শুনলে চোখে জল আসতে বাধ্য

ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে চর্চিত প্রেমের কথা উঠলেই আসে- শেন ওয়ার্ন, হম্মদ আজহারউদ্দিন-বিরাট কোহলিদের নাম। এখন খবরের ওয়েবসাইট খুললেই ক্রিকেটারদের প্রেম কাহিনি-লাভ সেক্স ধোকা-ওয়াগ জল্পনা নিয়ে খবর হয়। কিন্তু আজ এমন এক ক্রিকেটারের প্রেম কাহিনির কথা বলা হবে, যখন গোটা বিশ্বে ওয়াগ (ওয়াইফ অ্যান্ড গার্লফ্রেন্ডের মিলিত সংক্ষিপ্ত নাম) কথাটার চল আসেনি, তখনও ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত জীবন পেজ থ্রি-র খবর হত তা নিয়ে মানুষ ভাবত না।

এক ক্রিকেটারের চোখে জল এনে দেওয়া প্রেম কাহিনি

সালটা ১৯১০। ইংল্যান্ডে কাউন্টি মরসুম তখন মাঝপথে। কাউন্টি ক্রিকেট মানে তখন মানুষের ঢল, ঐতিহ্যের সমাবেশ। ইংল্যান্ডের এক কাউন্টি-র সঙ্গে অন্য কাউন্টির ম্যাচ ঘিরে ধুন্ধুমার লড়াই। তখনও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সেভাবে জাঁকিয়ে শুরু হয়নি। এমনই একটা সময় খেলতে নেমেছিল নটিংহ্যামশায়ার ও ইয়র্কশায়ার। তখন সেই ম্যাচটাকে বলা হত ডার্বি ম্যাচ। ম্যাচের প্রথম দিনে নটিংহ্যামশায়ার সারাটা দারুণ ব্যাট করলেও শেষের এক ঘণ্টায় ৬টা উইকেট হারানোয় খুব বড় রান করতে পারেনি।

দ্বিতীয় দিনে আবার খুব খারাপ শুরু করেও শেষের দিকে দারুণ ব্যাটিং করে নটিংহ্যামশায়ারের খুব কাছাকাছি রানটা নিয়ে যায় ইয়র্কশায়ার। সামান্য কয়েকটা রানের লিড নিয়ে তৃতীয় দিনে ব্যাট করতে নটিংহ্যামশায়ার ২০০ রানের মত স্কোর গড়ে। জবাবে ইয়র্কশায়ার ব্যাট করতে নেমে মাত্র দশ রানের জন্য হেরে যায়। কিন্তু এতো গেল শুকনো স্কোরবোর্ডের কথা। এখানে আবার প্রেম কাহিনি কোথা থেকে এল!!!

আসলে এই ম্যাচে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামার কথা ছিল অ্যাসলে সামারের। কিন্তু ইয়র্কশায়ারের ২ উইকেট পড়ার পর যখন সবাই সামারের নামার অপেক্ষায়, তখন স্কোরবোর্ড দেখে সবাই হতবাক। গোটা মাঠ মাথা নিচু করে দেয়। স্কোরবোর্ড লেখা হয়, সামার ক্যান নট ব্যাট, বিকজ হি সুইসাইড…

সুইসাইডের পিছনে ছিল এক প্রেম কাহিনি
কেন্টের এক কলেজ তরুণীর প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছিলেন সামার। কিন্তু সেই তরুণী ৩২-এর সামারকে সেভাবে পছন্দ করতেন না। মুখচোরা সামার বিভিন্নভাবে বোঝানোর চেষ্টা করতেন তিনি সেই তরুণীটিকে কতটা ভালবসাতেন। সামার ছিলসেন খুব পরিশ্রমী আর শৃঙ্খলাপরায়ন ক্রিকেটার। দলের বাকিদের মত পার্টিতে মেতে থাকতে বা মদ্যপ অবস্থায় তাঁকে দেখা যেত না। সেই সামার একবার দলের প্র্যাকটিশে যোগ না দিয়ে সোজা চলে যান তরুণীর সঙ্গে দেখা করতে। শাস্তি না দিয়ে সামারকে ডেকে পান দলের কোচ। কোচ সহ দলের ক্রিকেটাররা পাশে দাঁড়ান সামারের।

কিন্তু সেই তরুণ কিছুতেই সামারের প্রস্তাবে রাজি হচ্ছেন না। শেষ অবধি সামারের সতীর্থরা একবার শেষ চেষ্টা করতে সেই তরুণীর সঙ্গে দেখা করেন। সেখানেই বলেন, ১৯১০ সালের ডার্বি দেখতে তিনি মাঠে আসুন, আর সেখানেই ম্যাচ শেষে সামারের সঙ্গে তাঁর আঙটি বদল হবে। তরুণী হ্যাঁ বা না বলে হাসি মুখে চলে যান। এদিকে, সতীর্থরা মজা করে ফিরে সামারকে জানান, নটিংহ্যামশায়ারের বিরুদ্ধে ম্যাচের পর মাঠে সেই তরুণী তাঁকে ম্যাচ শেষে বিয়ে করবেন। সামার দারুণ খুশি হন। কিন্তু ম্যাচের প্রথম তিনটে দিনে সেই তরুণীকে মাঠে দেখা যায়নি। সামার টেলিগ্রাম পাঠান সেই তরুণীকে, লেখেন, তুমি কবে আসছো। ম্যাচের মাঝেই সেই টেলিগ্রাম পোস্টের জবাব পাঠান..ইউ মাই ফুট…। ম্যাচ চলাকালীন বিষ খেয়ে প্যাভিলিয়নে আত্মহত্যা করেন সামার। সামারের মৃতদেহ যখন মাঠ থেকে বের করে শেষকৃত্যের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, গোটা শহর থমকে যায়। সেই তরুণীর ভবিষ্যতের কথা ভেবে আর তাঁকে নিয়ে আলোচনা হয়নি। তবে শোনা যায় মৃত্যুর খবর পেয়ে সেই তরুণীও নাকি অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করেন। সেই তরুণী নাকি কোনওদিন আর বিয়ে করেননি। এমনও শোনা যায়, সেই টেলিগ্রামটা নাকি তিনি পাঠাননি। সেদিন তিনি মাঠে আসার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন, কিন্তু জাহাজের টিকিট বাতিলের কারণে তিনি আসতে পারেননি।

সে যাই হোক। এত বিয়োগান্ত প্রেম কাহিনি বাইশ গজে সেভাবে শুনতে পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: