ধোনি না কার্তিক – উইকেটকীপার হিসেবে প্রথম পছন্দ কে? জানলেন নির্বাচক!

বোর্ড অফ কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়ার প্রাক্তন নির্বাচক সন্দীপ পাটিল উইকেটকীপার হিসেবে মহেন্দ্র সিং ধোনির পাশে দাঁড়ালেন। এই প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটারের তার বিবৃতির পেছনে শক্ত কারণ রয়েছে। ৬১ বছর বয়েসী পাটিল বাস্তবে স্বীকার করেছেন যে আরও একজন উইকেটকীপার ব্যাটসম্যান দীনেশ কার্তিকও যথেষ্ট ম্যাচিওরিটি দেখিয়ে চলেছেন। পাটিল সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, “ মনে হচ্ছে দীনেশ ঠিক করেই ফেলেছেন… এবং তিনি টিম ম্যানেজমেন্ট এবং নির্বাচকদের বিশ্বাসনীয় বিকল্প দিয়েছেন।

ফাইনালে ওর পারফর্মেন্স নিশ্চিতভাবেই ওর জন্য অনেককিছু এনে দেবে”। ধোনি সম্ভবত তার সেরা সময় পেরিয়ে এসেছেন, কিন্তু তিনি ক্রিকেটের ক্ষেত্রে এক অমিট ছাপ ছেড়েছেন। যদিও টাইগারদের বিপক্ষে সাম্প্রতিক উত্তেজনাময় ক্যামিও ইনিংস খেলার পর, সীমিত ওভারের ক্রিকেটের জন্য কার্তিকের নাম ফের সামনে উঠে এসেছে। কোচ হিসেবে বহু অভিজ্ঞতার অধিকারী পাটিল বিশ্বাস করেন প্রাক্তন অধিনায়ক ধোনি অবশ্যই প্রথম পছন্দ হওয়া উচিৎ সাম্প্রতিক ক্রিকেটের বৃহৎ প্রতিযোগিতায়। এ ব্যাপারে পাটিল জানিয়েছেন, “ আমি এখনও ধোনির সঙ্গেই যাব।

Indian cricketer Washington Sundar (L) celebrates with wicketkeeper Dinesh Karthik after dismissing Sri Lankan cricketer Kusal Perera during the fourth Twenty20 (T20) international cricket match between India and Sri Lanka of the tri-nation Nidahas Trophy at the R. Premadasa stadium in Colombo on March 12, 2018. / AFP PHOTO / ISHARA S. KODIKARA (Photo credit should read ISHARA S. KODIKARA/AFP/Getty Images)

আইসিসির ইভেন্টে ১৭ বা ১৮ জন প্লেয়ারকে নেওয়া যাবে না। আমি চাই ধোনি ২০১৯ এর ওয়ার্ল্ড কাপ খেলুক”। মুম্বাইকর পাটিল ধোনির প্রশংসা করেছেন তার ফিটনেসের জন্য সেই সঙ্গে যোগ করেছেন যে ধোনির অভিজ্ঞতা গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তিনি আশা করেছেন যে যে ধোনির পোটেনশিয়ালিটি রয়েছে মুশকিল সময়ে কাঙ্খিত পরিণাম এনে দেওয়ার। এ ব্যাপারে পাটিল জানিয়েছেন, “ ওর ফিটনেস দুর্দান্ত, ওর শোষণ ক্ষমতা সামান্য নীচে নেমে গেছে, কিন্তু এটা প্রত্যেক ক্রিকেটারের সঙ্গেই সয়ে থাকে। যে অভিজ্ঞতা ওর রয়েছে… তাতে ও এখনও চাপের মুখে পারফর্ম করতে পারে, কারণ বিশ্বকাপের সময়ের চাপ সম্পূর্ণ অন্যরকম থাকে এবং ধোনির সেটা নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে”।

ডানহাতি ব্যাটসম্যান কার্তিক তার সম্পূর্ণ কেরিয়ার জুড়ে যথেষ্ট নাম করেছেন, কিন্তু ধোনির সঙ্গে তার তুলনা চলায় দুজনেই যথেষ্ট মজা উপভোগ করছেন। পাটিল পুনরাবৃত্তি করেন এবং ব্যক্ত করেন যে কার্তিকের ব্যাটিং সক্ষমতা বিশেষ করে দলের পক্ষে উপযোগী প্রমানিত হবে। সাম্প্রতিক শেষ হওয়া নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কার্তিকের ৮ বলে ২৮ রানের ধ্বংসাত্মক ব্যাটিং ভারতকে শেষ বলে জয় এনে দেয়। অদ্ভূতভাবে শেষ বলে ভারতের দরকার ছিল পাঁচ রান এবং কার্তিক জাভেদ মিয়াঁদদের মত সৌম্য সরকারের বলে কভারের উপর দিয়ে ছক্কা মারেন।

এর আগে ২০০৪ এ যখন পার্থিব প্যাটেল চোটে ভুগছিলেন। যদিও সেই সময় নির্বাচক চেয়ারম্যান সৈয়দ কিরমানি জোর করে সেই সময়ের প্রাক্তন ইন্ডিয়া এ কোচ পাটিলকে জোর করেন, প্রাথমিকতাকে পূর্ণ করার জন্য। তার চিন্তাকে পরিস্কার করে পরে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে কার্তিকের পারফর্মেন্স দেখে তার নাম সাজেস্ট করেন। এই স্টাইলিশ ব্যাটসম্যানকে সেই সময় ইংল্যান্ডের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে শামিল করা হয়।

মজার ব্যাপার ভারত এ র সঙ্গে পাটিন সিলেকশন এবং নন সিলেকশন নিয়ে হারারে তে ধোনি কার্তিককে ডাকার কথা স্মরণ করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলে যে এটা তার কর্তব্য যে তার বলা কথাকে কম্ফোর্টেবল করা। পাটিল সে কথা স্মরণ করে বলেন, “ আমি একটা ফোন পাই (নির্বাচকদের কাছ থেকে)। আমি কার্তিকের নাম সাজেস্ট করি। আমি তাকে অল দ্য বেস্টের শুভেছা জানাই। তারপর, আমি ধোনিকে নিজের রুমে ডাকি। এবং তাকে এক্সপ্লেইন করি কেন আমি কার্তিকের নাম সাজেস্ট করেছিলাম এবং তার নাম করি নি”।

প্রাক্তন নির্বাচক চেয়ারম্যান পাটীল জোর দিয়ে বলেন কিভাবে ধোনিকে তিনি কনভিন্স করেছিলেন এই বলে যে পরে তার সুযোগ পাওয়া নিশ্চিত। শেষ পর্যন্ত রাঁচীর এই ক্রিকেটার নিজের উপযোগীতা প্রমান করেন এবং তিনটি আইসিসির প্রতিষ্ঠিত ট্রফি নিজের দখলে নেন। এ ব্যাপারে পাটিল বলেন, “ আমি তাকে বলেছিলাম যে তার সময় অবশ্যই আসবে, এবং এটাও বলেছিলাম যে ও অবশ্যই সুযোগ পাবে। আমি ওকে বলেছিলাম যে কোচ হিসেবে, এটা আমার কর্তব্য তোমাকে বলা যে কার্তিককে পাঠানোর পেছনের কারণ হল যে ও সেঞ্চুরি করেছিল এবং ও কিপিংও করেছিল”।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: