বাদ পড়া ভারতীয় দলের সদস্যকেই, সিএসকে টিমে ধোনি চেয়েছিলেন; কিন্তু কি কারণ?

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ ক্রিকেটে চেন্নাই সুপার কিংস একমাত্র ফ্র্যাঞ্চাইজি যারা পরপর দু’বছর কাপ জিতেছিল। প্রতিটি মরশুমেই কোয়ালিফায়ার বা ফাইনালে খেলা যেন অভ্যেস দলটার। অথচ সেই দলটাই যখন ২০১৫ সালে দু’বছরের জন্য নির্বাসিত হলো, ক্রিকেটপ্রেমীরা প্রচণ্ড দুঃখ পেয়েছিলেন। গত দুই মরশুম চেন্নাই ফ্র্যাঞ্চাইজিকে ছাড়া আইপিএল ক্রিকেট দেখতে হয়েছে অনুরাগীদের। তবে, নির্বাসনের ওই পর্ব শেষ, এবছর থেকে আইপিএল ক্রিকেটে ফিরছে দু’বারের চ্যাম্পিয়নরা। জোরদার কামব্যাক করার লক্ষ্যে জবরদস্ত টিম বানিয়েছে সিএসকে। মহেন্দ্র সিং ধোনিকেই অধিনায়ক রাখা হয়েছে। এছাড়া, দলের আরও দুই গুরুত্বপূর্ণ সদস্য সুরেশ রায়না এবং রবীন্দ্র জাদেজাকে রেখে দেওয়ার পর অকশন থেকে বেছে বেছে ক্রিকেটার কিনেছে চেন্নাই, আর তা সবই ধোনির পরামর্শ মেনে। যদিও অকশনে ক্রিকেটার কেনার ব্যাপারে চেন্নাই টিমের কিছু কিছু পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞ মহলকে অবাক করে দিয়েছে।

যেমন বেশিরভাগ ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলি তরুণ প্রতিভার ওপরে নজর দিয়েছে, সেখানে সিএসকে অভিজ্ঞ ক্রিকেটার কেনার ওপর জোর দিয়েছে। অনেকে তো মজা করে সিএসকে টিমকে প্রবীনদের ক্রিকেট টিম বলেছে আড়ালে আবডালে। তবে, কেদার যাদব, ফা দু প্লেসি, হরভজন সিং’কে ধোনির দলে চাওয়ার পিছনে যথেষ্ট কারণ রয়েছে। আর সেই কারণেই সিএসকে ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকরা অকশনে অভিজ্ঞ ক্রিকেটার কেনার ওপর জোর দেন।

কি কারণ?

ফ্র্যাঞ্চাইজির এক কর্তার নিজেই জানালেন এর পিছনে আসল কারণটা কি। এবার অকশনে ভারতীয় দলের ক্রিকেটার কেদার যাদবকেই সবচেয়ে বেশি অর্থ দিয়ে কিনেছে সিএসকে। টিমের মুখ্য কার্যনির্বাহী অধিকর্তা বলছেন, কেদার যাদবের জন্য অতোটা টাকা খরচ করার একটাই কারণ, ব্যাট ও বল দুই বিভাগেই সমান দক্ষ জাতীয় দলে খেলা ক্রিকেটারটি।

শীর্ষ সারির একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কাশী বিশ্বনাথন বলছেন, ”কেদার স্লো বল করতে পারে। ভালো ব্যাট করতে পারে। ওর ওই দক্ষতা দু’টির জন্য ও মুল্যবান সম্পদ। অকশনে বসার আগেই আমরা ঠিক করে রেখেছিলাম, ওকে যে করেই হোক দলে আনতে হবে। আমরা যে টিম গড়েছি, তাতে আমরা খুশি।”

দলে কেন ভাজ্জি?

মুম্বই ইন্ডিয়ান্স জাতীয় দলের বাইরে থাকা ভাজ্জিকে ছেড়ে দিলেও, সিএসকে তাঁকে কিনেছে। অনেকেই এটা নিয়ে নাক সিঁটকোচ্ছেন। এক সময় হরভজন বড়মাপের স্পিনার ছিলেন সে নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই, কিন্তু এখন তো বুড়ো হয়েছেন। জাতীয় দলেও সুযোগ পান না, এমন একজন ক্রিকেটারকে কেনা কতোটা যুক্তি সঙ্গত? অথচ তুলনায় অনেক কম বয়সী এবং সিএসকে টিমের পুরনো সদস্য অফস্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে ছেড়ে দেওয়া অন্য টিমে যেতে।

কাশী তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন। আসলে টিমের ক্যাপ্টেন ধোনিই বলেছিলেন, ভাজ্জিকে কিনে নিতে। দাম অত্যাধিক বেড়ে গেলে অশ্বিনকে কেনা হবে না, এমন ইঙ্গিত আগেই দিয়েই রেখেছিলেন মাহি। ফলে, অশ্বিনের মতোই একজন অভিজ্ঞ অফস্পিনারকে দলে আনতে চেয়েছিলেন ধোনি। আর সেই কারণেই ভাজ্জিকে কেনে সিএসকে।

এবার হরভজনের বক্তব্য পড়ুন, ”দেখুন, তারুণ্য কখনও আপনাকে অভিজ্ঞতার জোর দিতে পারে না। ম্যাচ উইনিং পারফরম্যান্স অভিজ্ঞতা থাকলে দেওয়া সম্ভব। অভিজ্ঞতার কোনও বিকল্প নেই। আমরা সেই ধরণের খেলোয়াড় যারা অনেক কঠিন পথ পার করে এসেছি। আমরা জানি, কোন পরিস্থিতিতে, কিভাবে মোকাবিলা করতে হয়।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: