দ্রাবিড়ীয় সদ্ভাবে মুছে গেলো সীমান্তপারের ভেদাভেদ, অভীভূত পাক কোচ প্রশংসায় মুখর

মুম্বইয়ের তরুণ ক্রিকেটার পৃথ্বী শ’য়ের নেতৃত্বে ভারতীয় যুব ক্রিকেট দল ক’দিন আগেই অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। আর সেই দলের কোচ হলেন ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক ও ব্যাটিং লেজেন্ড রাহুল দ্রাবিড়। সিনিয়র টিমের ক্রিকেটার হিসেবে দ্রাবিড় বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য হতে না পারলেও, কোচ দ্রাবিড় তাঁর যুবদল নিয়ে কেল্লা ফতে করেছেন প্রথম দফাতেই। ভারতীয় যুবদলের বিশ্বকাপের সূচনাটা অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে। গ্রুপ স্টেজের প্রথম ম্যাচে দাপুটে জয়। কমলেশ নাগারকোটির খাঁটি পেস বোলিং নুইয়ে দেয় অজি ব্যাটসম্যানদের। দক্ষিণী ডানহাতি পেস বোলারটিকে খেলতেই পারেননি কেউই। টুর্নামেন্ট যতই এগিয়েছে, গ্রুপ স্টেজ আরও সহজতর হয়েছে ভারতীয় জুনিয়র ক্রিকেট দলের জন্য। তারপরের ম্যাচে পাপুয়া নিউ গিনি’কে দশ উইকেটে হারায় দ্রাবিড়ের ছেলেপুলেরা। তৃতীয় ম্যাচে আফ্রিকীয় দেশ জিম্বাবোয়ের মুখোমুখি হয়েও সেই একই দাপট অব্যাহত ছিল। ১৫৪ রানে জিম্বাবোয়ে’কে বান্ডিল করে দেয় ভারতের বোলিং লাইন-আপ। অনুকূল রায় ২০ রান দিয়ে চারটি উইকেট তুলে নেন।

শুবমন গিলের ছন্দে ফেরা…

এবারের যুববিশ্বকাপের সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো, কোনও একজন বা দু’জনের ভূমিকাতে ভারত জেতেনি। বরং টিম এফোর্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এই নিয়ে রেকর্ড চারবার অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জিতল ভারত। ব্যাটিং, বোলিং – দুই বিভাগেই ভারতীয় যুব তারকারা অনবদ্যভাবে নিজেদের মেলে ধরেন নিউজিল্যান্ডের মাটিতে।

ভারতের ওপেনাররা শুরু থেকেই চালিয়ে খেলেছেন রান তাড়া করতে নেমে। কোটার পুরো ওভারের মধ্যে অর্ধের খরচ করেই জয় এসে গিয়েছে। বিশেষ করে ওপেনার শুবমন গিলের নাম নিতেই হয়। তাঁর ওই ৫৯ বলে ৯০ রানের অপরাজিত ইনিংসটাই ভারতীয় দলের জন্য সেমিফাইনালের পথ প্রশ্বস্ত করে দেয়। ফাইনালে ওঠার একধাপ আগে ভারত-পাকিস্তান মেগা ম্যাচ হওয়ার সামনে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকা বড় বাধা ছিল। যদিও কেউই হালে পানি পায়নি। কোয়ার্টার-ফাইনালে দুই প্রতিবেশী দেশই তাদের প্রতিদ্বন্দ্বীকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয়। সেখানে শুবমন গিল ৯৪ বলে ১০২ রানের অপরাজিত একটা ইনিংস খেলেন।

পাকিস্তানের লজ্জাজনক হার ও দ্রাবিড়ীয় সদ্ব্যবহার…

শুবমনের ওই ইনিংসটার পর পাকিস্তানের থেকে লড়াই আসবে আশা করা হলেও, তার কোনওটাই পাওয়া যায়নি। মাত্র ৭০ রানেই আস্মসমর্পণ করে দেয় পাক যুবদল। বলতে গেলে, ভারতীয় দল তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেয় ক্রিকেট মাঠে তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের। ভারতের কাছে হারলেও, পাকিস্তান যুব দলের কোচ নদীম খান কিন্তু বিপক্ষ দলকে তাদের প্রচেষ্টার জন্য অভিনন্দন জানাতে ভোলেননি। ভারতীয় যুব দলের কোচ দ্রাবিড়ের কাছে ভারতীয় ক্রিকেটারদের নিয়ে প্রশংসা করেন।

কিন্তু, এরপর দ্রাবিড় যেটি করেন, তা সীমান্তপারের ভেদাভেদের সব বাধা দূরে সরিয়ে দিয়েছে। মিস্টার ডিপেন্ডেবল পাকিস্তানের ড্রেসিং রুমে গিয়ে উপস্থিত হন এবং পাক যুব ক্রিকেটারদের মনোবল বাড়াতে উৎসাহ দিয়ে আসেন। তাঁদের বোঝান, হারটাকে হার হিসেবে নিতে। কিন্তু, ভেঙে না পড়তে।

একটি সংবাদসংস্থা’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পাক যুব দলের কোচ নদীম বলছেন, ”কি বলব…যেভাবে বড়ো মন দেখিয়ে দ্রাবিড় এসে আমার টিমের ছেলেদের উৎসাহ দিয়ে গেলেন, ভেঙে পড়তে না বললেন। ওটা শুধু দ্রাবিড়ই পারেন। ওঁর জন্য আমাদের মনে আলাদা ভাবমূর্তি থাকবে।” পাক কোচ এটাও মেনে নিয়েছেন, তাঁকে যুব টিম নিয়ে এখনও অনেক জায়গায় খাটতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: