রোহিতরা যখন ধ্যাড়াচ্ছেন, তখন যুবরাজ কী করেছিলেন জানলে তাজ্জব হয়ে যাবেন

ধরমশালায় যখন রোহিত শর্মারা অল্প রানে একের পর এক উইকেট হারাচ্ছেন, তখন ব্রাত্য যুবরাজ সিং ছিলেন একটু অন্যরকমের ব্যস্ত। বিরাট কোহলির অনুপস্থিতিতে অভিজ্ঞতার জন্য যুবির প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত ছিল। কারণ চলতি বছর গোড়ার দিকে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ১৫০ রানের যে অবিশ্বাস্য ইনিংসটা যুবি খেলেছিলেন, তারপর শুধু তিনটে চারটে ইনিংস খেলার জন্য চির নির্বাসনে পাঠানো যায় না। কিন্তু সিরিজ শুরুর ঠিক আগে কেদার যাদব চোট পেয়ে ছিটকে যাওয়ার পরেও যুবরাজকে না নিয়ে, দলে নেওয়া হয় ওয়াশিংটন সুন্দরের মত আনকোড়া খেলোয়াড়কে। যে ওয়াশিংটন বলার মত কিছুই করেননি। অথচ যুবরাজ দেশেক বিশ্বকাপ এনে দিয়েছেন, ১৭ বছর ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্ষেত্রে দাপিয়ে বেরাচ্ছেন।

আরো পড়ুন-২০১৮ আইপিএলের জন্য যে পাঁচ ক্রিকেটারকে ছাড়তে চাইবে না কেকেআর

ধরমশালায় রোহিতদের ব্যাটিং বিপর্যয়ের সময় যুবরাজ ছিলেন এক এফএম স্টুডিও-তে। ঘণ্টা দুয়েকের লাইভ যুবি নামের প্রোগামে উপস্থিত ছিলেন যুবরাজ। ক্রিকেট নিয়ে কথা বলা যাবে না সেই শর্তেই হয়তো স্টুডিওয় এসেছিলেন। কারণ বোর্ডের চুক্তিবদ্ধ বর্তমান ক্রিকেটার হওয়ায় অনেক বাধা নিষেধ মানতে হয়। তাই যুবিকে বেশিরভাগ প্রশ্নই করা হচ্ছিল ব্যক্তিগত বা বিনোদন মূলক। কিন্তু ২৯ রানে ৭ উইকেট পড়ে যখন ধরমশালা ওয়ানডে-তে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ভারত যখন বেশ চাপে তখনই এফএম-র আরজে আর না পেরে খেলা নিয়ে প্রশ্ন করে বসেন। যুবি হেসে বলেন, মনে হচ্ছে স্কোরবোর্ডটা ভুল বলছো। তারপর বিশ্বাস হওয়ার পর, যুবি বললেন তুমি মনে হচ্ছে ধোনি খেলে দিয়ে ভারতকে বাঁচাবেন। শেষ অবধি হয়তো ধোনি দলকে বাঁচাতে পারেননি, কিন্তু ৬৫ রানের ইনিংস খেলে দলের বড় লজ্জা বাঁচিয়েছিলেন।

আরো পড়ুন-সুধীর এই শ্রীলঙ্কান ফ্যানের জন্য যা করছেন, জানলে সুধীরের প্রতি শ্রদ্ধা শতগুন বাড়বে!

অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুউজ (শ্রীলঙ্কার তারকা ক্রিকেটার)

এই জয়টা সত্যি স্পেশাল। শেষ কয়েকটা মাস আমাদের কাছে একেবারে ভাল যায়নি। কঠিন সময়ে এই জয়টা তাই আমাদের কাছে স্পেশাল একটা দিন উপহার দিল। আমি আমাদের সাপোর্ট স্টাফকে বিশেষ ধন্যবাদ জানাবো। কঠিন একটা সময়ে ওদের কাজটা খুব কঠিন ছিল। আমরা যেভাবে চেজ করে জিতলাম সেটা ভাল লাগল। আমরা ১১২ রানে ওদের অলআউট করলেও রান তাড়ার কাজটা একেবারে সোজা ছিল না। লকমল অসাধারণ বোলিং করেচে। বোলাররা সঠিক জায়গায়, সঠিক লাইন-লেন্থ মেনটেন করেছে। তবে সত্যি বলতে কী সকালে পিচে বলটা এতটা স্যুইং করছিল দেখে অবাক হয়ে যাই। লকমলকে যোগ্য সঙ্গ দেওয়ার ব্যাপারটাও প্রশসংশনীয়। তবে আমরা জানি ভারত দারুণ দল ওরা সিরিজে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া চেষ্টা করবে। আমাদের কাজটা আরও কঠিন হবে এখান থেকে। সিরিজের বাকি দুটো ম্যাচে আমাদের খেলায় আরও উন্নতি করতে হবে।

আরো পড়ুন-পরিবারের সদস্যের মৃতদেহ বাড়িতে, দেশের মান বাঁচাতে এই খেলোয়াড় ব্যস্ত ধরমশালা ওয়ান-ডেতে

রোহিত শর্মা (ভারত অধিনায়ক)

আর ৭০-৮০টা রান থাকলেও লড়াই করা যেত। অধিনায়ক হিসেবে জীবনের প্রথম ম্যাচে কে-ই বা হারতে চায়। তবে সিরিজে এখনও দুটো ম্যাচ বাকি। এই পরিস্থিতিতে আমরা ঘুরে দাঁড়াতে আত্মবিশ্বাসী। ধোনির আজকের ইনিংসটা নিয়ে আলাদা করে কিছু বলার নেই। বেশ কয়েক বছর ধরেই ও এভাবেই দলকে বিপর্যয় থেকে বাঁচায়। আজ ওকে সঙ্গে দেওয়ার কেউ থাকলেও রানটা আরও বেশি হত। তবে যা হইনি, তা নিয়ে ভেবে লাভ নেই। হারতে কেউ পছন্দ করে না, কিন্তু হারতে হয়। আমরা খারাপ খেলেছি তাই হেরেছি, আশা করছি পরের ম্যাচ থেকেই আমরা ঘুরে দাঁড়াব।

আরো পড়ুন-দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে, ভারতীয় দলে যোগ দিচ্ছে এই চার অতিরিক্ত খেলোয়াড়!

থিসারা পেরার (শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক)

প্রথমেই বলব এই জয়টার ২০০ শতাংশ কৃতিত্ব বোলারদের। ওরা একেবারে সব কাজটা ঠিক ঠিক করতে পেরেছে। একেবারে ঠিকঠাক লাইন লেন্থ বজায় রেখে বলটা করেছে। উইকেটে সাহায্য ছিল খুব, কিন্তু এমন একটা উইকেটে আসল কাজটা হল বেসিকটা ঠিকঠাক রাখা। লকমলরা সেই কাজটা অক্ষরে অক্ষরে পালন করছে। আমরা টসে জিতে যখন ওদের ব্যাট করতে পাঠালাম, টার্গেট ছিল ২২০ রানের নিচে ওদের বেধে রাখব। কিন্তু শুরুতেই লকমল এত ভাল করল যে কিছু বলার নেই। টেস্ট সিরিজ থেকেই ও খুব ভাল বল করছে। ওই আমাদের দলের এক নম্বর বোলার। ব্যাট হাতে উপল থারাঙ্গার কথাও বলব। ও বেশ ভাল করল। সব মিলিয়ে আমাদের কাছে দারুণ একটা ম্যাচ গেল।

আরো পড়ুন-ওয়ান-ডে ক্রিকেটের ইতিহাসে ভারতীয় দলের দশটি সর্বনিম্ন স্কোর

লকমল (ম্যাচের সেরা)

শেষ দু বছর আমি খুব পরিশ্রম করেছি। কোচিং স্টাফরা আমাদের জন্য খুব খেটেছে। শেষ কটা দিন ধরে শরীরটা আমায় সঙ্গ দিচ্ছে, তাই এই সাফল্য। আশা করছি আগামী দিনে আরও ভাল কিছু করতে পারব।

আরো পড়ুন-এখনও ফুরিয়ে যাননি ধোনি, বিরাটকে ছাড়া ধরমশালায় একাধিক অগৌরবের রেকর্ড

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: