অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টে ভারতের সম্ভাব্য প্রথম একাদশ!

দু’হাজার আঠারো সাল একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে আর সেই সঙ্গে বিরাট কোহলিরা তাঁদের তৃতীয় হার্ডলের সামনে দাঁড়িয়ে। আগামী ২১ নভেম্বর থেকে অস্ট্রেলিয়া সফর শুরু হবে টিম ইন্ডিয়ার। ক্যাঙারুদের দেশ সফর শুরু তিন ম্যাচের টি-২০ সিরিজ দিয়ে। আর তারপর ডিসেম্বরের ছ’তারিখ থেকে শুরু হবে বহু প্রতিক্ষিত টেস্ট সিরিজ। মোট চারটি ম্যাচ খেলা হবে। টেস্ট সিরিজ শেষ হবে সাত জানুয়ারি। টিম ইন্ডিয়া তাদের অস্ট্রেলিয়া সফর শেষ করবে তিন ম্যাচের ওডিআই সিরিজ দিয়ে। বারো জানুয়ারি শুরু হয়ে ওয়ান-ডে সিরিজ চলবে আঠারো জানুয়ারি পর্যন্ত।

২০১৬ ও ২০১৭’তে উপমহাদেশের মাটিতে ছড়ি ঘুরিয়েছে ভারত। একের পর এক প্রতিপক্ষকে ধরাশায়ী করে টেস্টের আসরে মসনদে বসে বিরাট কোহলির টিম ইন্ডিয়া। কিন্তু, ২০১৮’তে বিরাট বাহিনীর বিজয়রথ মুখ থুবড়ে পড়েছে। টেস্ট আসরে মসনদ দখলে থাকলেও সম্মানহানি হয়েছে। কারণ, শেষ হতে চলা বছরে তিনটি পরীক্ষার মধ্যে দু’টি পরীক্ষাতেই ডাহা ফেল হেডকোচ রবি শাস্ত্রীর ছেলেরা। বছরের শুরুতে টিম ইন্ডিয়া দক্ষিণ আফ্রিকা গিয়েছিল। সেখানে গিয়ে তারা প্রোটিয়াদের কাছে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোয়ায়। অজুহাত ছিল নিজেদের তৈরি করার মতো পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায়নি। বছরে মধ্যিখানে ইংল্যান্ড সফর। বিলেতের মাটিতে আরও করুণ হাল। পাঁচ ম্যাচের সিরিজ ৪-১ ব্যবধানে খুইয়ে আসা। টি-২০ ও ওডিআই সিরিজ খেলে ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট সিরিজে অংশ নেয় ভারতীয় দল। ওখানে পর্যাপ্ত সময় পাওয়ার অজুহাত দেওয়া যায়নি। বিরাট কোহলি ও রবি শাস্ত্রীর নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের টিম ম্যানেজমেন্টের পরিকল্পনার অভাব স্পষ্ট। ভুল দল নির্বাচনের কারণেই ভারতকে হারতে হয়েছে বিদেশের মাটিতে। যোগ্য প্রার্থীদের রিজার্ভ বেঞ্চে বসিয়ে তাদের প্রতিভায় জঙ ধরানোর এই রেওয়াজটা আগামী দিনে অধিনায়ককে ছাড়তে হবে।

অধিনায়ক বিরাট কোহলির প্রথম একাদশ নির্বাচন সর্বত্র সমালোচিত। ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট সিরিজের চতুর্থ ম্যাচের আগে পর্যন্ত বিরাট কোহলি তাঁর নেতৃত্বে আটত্রিশটি টেস্টে প্রথম একাদশ কোনওবারই অপরিবর্তিত রাখেননি। দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে এই কারণে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। প্রথম একাদশে জায়গা হারানোর ভয় তাঁদের খেলাতেও প্রভাব ফেলছে। বিরাট কোহলি ভারতীয় ক্রিকেট দলকে এখনও পর্যন্ত ৪২টি টেস্টে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২৪টি ম্যাচে জয় এবং ন’টি করে ম্যাচে হার ও ড্র-এর মুখ দেখেছেন।

টেস্টের আসরে বিরাট কোহলির প্রথম নেতৃত্ব দেওয়া ২০১৪ সালে অ্যাডিলেড টেস্টে। পাকাপাকিভাবে টেস্টের আসরে ভারতীয় দলের অধিনায়কত্ব হাতে পাওয়া ওই সফরেই, ২০১৫ সালে জানুয়ারিতে সিডনি টেস্ট থেকে। বলতে গেলে এবার অস্ট্রেলিয়া সফরে একটা বৃত্ত পূরণ করবেন ভারত অধিনায়ক বিরাট। অ্যাডিলেড, পার্থ, মেলবোর্ন ও সিডনি – এই চারটি ভেন্যুতে অধিনায়ক হিসেবে কোহলির জন্য কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। স্টিভ স্মিথ ও ডেভিড ওয়ার্নারের অনুপস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়া দল দুর্বল হয়ে পড়লেও, তারা ঘরের মাটিতে ক্রিকেট খেলবে, এটা মাথায় রাখতে হবে। অস্ট্রেলিয়ার পিচে বাউন্স রয়েছে। ঘরের মাটিতে অজি বোলাররা যে ভারতীয়দের বিন্দুমাত্র শ্বাস ফেলার সময় দেবেন না, এটা নিশ্চিত।

ওয়্স্টে ইন্ডিজের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ জিতে ভারতীয় ক্রিকেট দল অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে পা রাখতে চললেও, অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েছেন নির্বাচকরা। স্কোয়াডে একাধিক বদল এসেছে। শিখর ধওয়ন টেস্ট আসর থেকে ছিটকে গিয়েছেন। মুরলি বিজয় কামব্যাক করলেও তিনি আর ওপেনিংয়ে অটোমেটিক চয়েস নন। কিপারে বদল এসেছে। ঋদ্ধিমান সাহা চোটের কারণে বাইরে। দিনেশ কার্তিক তাঁর জায়গা হারিয়েছেন। ঋষভ পন্ত এখন টেস্টের আসরে এক নম্বর চয়েস উইকেটকিপার হিসেবে।

তবে, অস্ট্রেলিয়া সফরে ভারতীয় দলে সবচেয়ে বড় চমক রোহিত শর্মার অন্তর্ভুক্তি। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে হিটম্যানের দুর্দান্ত ফর্ম, তাঁকে আরও একটা সুযোগ এনে দিয়েছে ভারতীয় দলের সাদা জার্সি গায়ে গলানোর। প্রাক্তনেরা তাঁকে টেস্ট দলে দেখতে চান। আর ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা চান টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান রোহিতকে ওপেনার হিসেবে খেলানো হোক। কেএল রাহুল ক্যারিবিয়ান টিমের বিরুদ্ধে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে পারফর্ম করতে পারেননি। ফলে, তাঁকে ব্যাকআপ হিসেবেই বিবেচনায় রাখা হোক অস্ট্রেলিয়ায়।

ভারতীয় দলের স্পিন বিভাগেও এখন বদল এসেছে। টেস্টের আসরে এক নম্বর চয়েস রবিচন্দ্রন অশ্বিন দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইংল্যান্ডে প্রাধান্য পেলেও অস্ট্রেলিয়ার পিচে একমাত্র স্পিনার হিসেবে রবীন্দ্র জাদেজা প্রথম একাদশে থাকতে পারেন। কারণ, জাড্ডুর সাম্প্রতিক পারফর্ম্যান্স দুর্দান্ত। তাছাড়া, তিনি সীমিত ওভারের ক্রিকেটেও কামব্যাক করেছেন। আর তা বেশ জোরালো ভঙ্গিমাতেই। পেস ও বাউন্স সহায়ক অজি পিচে ভারতীয় দলকে চার পেসার খেলাতেই হবে ম্যাচ জিততে হলে।

অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট সিরিজের জন্য সেরা ভারতীয় একাদশ :

১. রোহিত শর্মা

ম্যাচ – ২৫, রান – ১৪৭৯, গড় – ৩৯.৯৭, স্ট্রাইক রেট – ৫৫.১৪, সর্বোচ্চ – ১৭৭।

 

২. পৃথ্বী শ

India’s cricketer Prithvi Shaw celebrates his century during the first day of the first cricket test match between India and West Indies in Rajkot, India, Thursday, Oct. 4, 2018. (AP Photo/Rajanish Kakade)

ম্যাচ – ২, রান – ২৩৭, গড় – ১১৮.৫০, স্ট্রাইক রেট – ৯৪.০৪, সর্বোচ্চ – ১৩৪।

 

৩. চেতেশ্বর পূজারা

ম্যাচ – ৬৪, রান – ৪৯০৫, গড় – ৪৯.৫৪, স্ট্রাইক রেট – ৪৭.০৫, সর্বোচ্চ – ২০৬*।

 

৪. বিরাট কোহলি (অধিনায়ক)

ম্যাচ – ৭৩, রান – ৬৩৩১, গড় – ৫৪.৫৭, স্ট্রাইক রেট – ৫৮.২৬, সর্বোচ্চ – ২৪৩।

 

৫. অজিঙ্কা রাহানে

ম্যাচ – ৫২, রান – ৩২৭১, গড় – ৪১.৪০, স্ট্রাইক রেট – ৫০.৯১, সর্বোচ্চ – ১৮৮।

 

৬. ঋষভ পন্ত (উইকেটকিপার)

ম্যাচ – ৫, রান – ৩৪৬, গড় – ৪৩.২৫, স্ট্রাইক রেট – ৭৩.৬১, সর্বোচ্চ – ১১৪।

ক্যাচ – ২০, স্টাম্পিং – ২।

 

৭. রবীন্দ্র জাদেজা

ম্যাচ – ৩৯, রান – ১৩৯৫, গড় – ৩২.৪৪, স্ট্রাইক রেট – ৬৪.১০, সর্বোচ্চ – ১০০*।

উইকেট – ১৮৫, ইকনমি – ২.৩৮, সেরা বোলিং – ৭/৪৮।

 

৮. ভুবনেশ্বর কুমার

ম্যাচ – ২১, উইকেট – ৬৩, ইকনমি – ২.৯৪, সেরা বোলিং – ৬/৮২।

 

৯. ইশান্ত শর্মা

ম্যাচ – ৮৭, উইকেট – ২৫৬, ইকনমি – ৩.২১, সেরা বোলিং – ৭/৭৪।

 

১০. মহম্মদ শামি

ম্যাচ – ৩৬, উইকেট – ১২৮, ইকনমি – ৩.৪১, সেরা বোলিং – ৫/২৮।

 

১১. জসপ্রীত বুমরাহ

ম্যাচ – ৬, উইকেট – ২৮, ইকনমি – ২.৯১, সেরা বোলিং – ৫/৫৪।

 

অস্ট্রেলিয়া সফরের জন্য ঘোষিত ভারতীয় টেস্ট স্কোয়াড : বিরাট কোহলি (অধিনায়ক), মুরলি বিজয়, কেএল রাহুল, পৃথ্বী শ, চেতেশ্বর পূজারা, অজিঙ্কা রাহানে, হনুমা বিহারী, রোহিত শর্মা, ঋষভ পন্ত, পার্থিব প্যাটেল, রবিচন্দ্রন অশ্বিন, রবীন্দ্র জাদেজা, কুলদীপ যাদব, মহম্মদ সামি, ইশান্ত শর্মা, উমেশ যাদব, জসপ্রীত বুমরাহ ও ভুবনেশ্বর কুমার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: