ওডিআই ক্রিকেট ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি শূন্য’ করার নজির

একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট। নামটার সঙ্গে অনেক ইতিহাস জড়িয়ে। ১৯৭১ সালের জানুয়ারি মাসের কথা । অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের মধ্য়ে একটি টেস্ট ম্য়াচের প্রথম তিনদিন বৃষ্টির কারণে বাতিল হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে আম্পায়ার ম্যাচ পরিত্যক্ত করার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু, দর্শকদের খালি মুখে কি করে ফেরানো যায়। ফলে ম্যাচ করানোর সিদ্ধান্ত নেন আম্পায়ার। ঠিক হয়, দু’টি দল ৪০ ওভার করে ম্যাচ খেলবে। আর প্রত্যেকটি ওভারে আটটি করে বলা করা হবে। ১৯৭১ সালের ৫ জানুয়ারি সেই প্রথম একদিনের আন্তর্জিক ক্রিকেট খেলা। ম্যাচটি ৫ উইকেটে অস্ট্রেলিয়া জিতে নিয়েছিল। সাদা জামা ও লাল বলেই ওয়ান-ডে ম্যাচ খেলা হয়েছিল সেদিন। বর্তমান প্রজন্মে যাঁদের ক্রিকেট খেলা দেখা শুরু, তাঁদের কাছে ব্যাপারটা অবাক করে দেওয়ার মতো। ১৯৭৯ সালে চ্যানেল নাইনের কেরি প্যাকার আজকের রংচংয়ে জার্সি, ফ্লাডলাইট আর সাদা বলে ওয়ান-ডে ক্রিকেট শুরু করেছিলেন। নব্বইয়ের দশকেও সাদা জার্সির পাজামা ক্রিকেটের প্রচলন ছিল।

তখন শুধুমাত্র বিশ্বকাপ আর ত্রিদেশীর সিরিজ হলে রঙিন জার্সি আর সাদা বলে ওয়ান-ডে খেলা হতো। যাইহোক নতুন সহস্রাব্দে সেই ধারাটা একেবারেই বদলে গিয়েছে। পাজামা থেকে শুরু করে রঙিন জার্সি আর বলের রঙের রকমফের।, ওয়ান-ডে ক্রিকেট বিশ্বের অনেক নামাজাদা ব্যাটসম্যানকে উপহার দিয়েছে ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে। এরমধ্যে আজ অনেকে লেজেন্ড। আবার অনেকে ইতিহাসের পাতায় নামের ভিড়ে হারিয়ে গিয়েছেন। তবে, টেস্ট হোক কিংবা সীমিত ওভারের ক্রিকেট ব্যাটসম্যানের রান করার নিয়মটা একই। শূন্য থেকে শুরু করতে হয়। এমন অনেক নামজাদা ক্রিকেটার আছেন যাঁরা শূন্য রানে আউট হওয়ার রেকর্ড গড়েছেন। ক্রিকেটীয় ভাষায় পোশাকি নাম ডাক।

 

ওডিআই ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি ‘ডাক’-এর নজির –

১০. ক্রিস গেইল (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)

ক্যারিবিয়ান টিমের তারকা ক্রিকেটার ক্রিস গেইল ১৯৯৯-২০১৭ সালের মধ্যে এখনও পর্যন্ত ২৭৫টি ম্যাচ খেলেছেন। ৯৪২০ রান করে ফেললেও, ২৩ বার শূন্য রানে আউট হয়েছেন গেইল।

 

৯. ড্যানিয়েল ভেত্তোরি (নিউজিল্যান্ড)

প্রাক্তন কিউয়ি অধিনায়ক ২০১৫ বিশ্বকাপ খেলে অবসর নিয়েছেন। ১৯৯৭ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হওয়া ভেত্তোরি স্পিনিং অলরাউন্ডার ছিলেন। ২৯৫টি ওডিআই ম্যাচে ২৩ বার ডাক করার নজির রয়েছে ড্যানের নামের পাশে।

 

৮. রমেশ কালুবিতরণে (শ্রীলঙ্কা)

শ্রীলঙ্কার এই উইকেটকিপার, ব্যাটসম্যান হিসেবে দক্ষ ছিলেন। কিন্তু, তা সত্ত্বেও শূন্য রানে আউট হওয়ার নজির তাঁকে সবসময় তাড়া করে বেড়িয়েছিল। ১৯৯০-২০০৪, এই পর্বে ১৮৯টি ম্যাচে ২৪ বার শুন্যরানে আউট হয়েছিলেন কালু।

 

৭. লাসিথ মালিঙ্গা (শ্রীলঙ্কা)

অবসর না নিলেও শ্রীলঙ্কার মিস্ট্রি ফাস্ট বোলার কেরিয়ারের শেষ পথে। ২০০৪ সালে থেকে ওডিআই ক্রিকেট খেলা মালিঙ্গা ২০৪টি ম্যাচে ২৪ বার শূন্য রানে প্যাভিলিয়নে ফিরে এসেছেন।

 

৬. চামিন্ডা ভাস (শ্রীলঙ্কা)

Chaminda Vaas

লঙ্কান ক্রিকেটের ফাস্ট বোলিং লেজেন্ড। ১৯৯৪ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত দীর্ঘ ক্রিকেট কেরিয়ারে ৩২২টি ম্যাচে ২৫ বার শুন্য রানে আউট হয়েছিলেন বাস।

 

৫. মুথইয়া মুরলীধরণ (শ্রীলঙ্কা)

বিশ্বের সর্বকালের সেরা অফস্পিনার এবং সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি মুরলি ১৯৯৩ থেকে ২০১১ পর্যন্ত ক্রিকেট খেলেন শ্রীলঙ্কার হয়ে। কিন্তু ব্যাটহাতে ৩৫০টি ম্যাচে ২৫ বার ডাক করেছেন তিনি।

 

৪. মাহেলা জয়বর্ধনে (শ্রীলঙ্কা)

গত প্রজন্মের অন্যতম ব্যাটিং লেজেন্ড। ১৯৯৮ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে দেশের হয়ে ৪৪৮টি ম্য়াচ খেলে ১৬ হাজারের ওপর রান করলেও ২৮ বার শুন্য করার নজির রয়েছে তাঁর নামের পাশে।

 

৩. ওয়াসিম আক্রাম (পাকিস্তান)

বিশ্বের সর্বকালের অন্যতম সেরা ফাস্ট বোলার আক্রাম ব্যাটহাতেও ভালো ছিলেন। যদিও শূন্য করার রেকর্ড ছিল তাঁর। ১৯৮৪ থেকে ২০০৩, পাঁচশোরও বেশি উইকেটের মালিক ৩৫৬টি ওডিআই ম্যাচে ২৮বার কোনও রান করেই প্যাভিলিয়নে ফিরে এসেছিলেন।

 

২. শাহিদ আফ্রিদি (পাকিস্তান)

বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রিকেটারদের মধ্যে অন্যতম প্রাক্তন পাক অধিনায়ক। স্পিনার, ব্যাটম্যান, অলরাউন্ডার আবার স্পিনার – এক একটি অধ্যায়ে এক একটি ভূমিকায় দেখা গিয়েছে লালাকে। কিন্তু, সঈদ আনোয়ারের সঙ্গে আফ্রিদির সেই ওপেনিং জুটি আজও অনুরাগীদের মনে রয়ে গিয়েছে। ১৯৯৬ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে ৩৯৮টি ম্যাচে খেলা আফ্রিদি ৩০ বার শূন্য রানে আউট হন।

১. সনৎ জয়সূর্য (শ্রীলঙ্কা)

বিশ্বের সর্বকালের অন্যতম সেরা ওপেনার। স্পিনার হয়ে দলে আসেন এবং ব্যাটসম্যান হিসেবে নিজেক প্রতিষ্ঠিত করেন। সান্নার রেকর্ড ক্রিকেট ইতিহাসে চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে। যদিও ৩৪বার শূন্যরানের নজিরটিও তার পাশে অমলিন রইবে। ১৯৮৯ থেকে ২০১১ পর্যন্ত ক্রিকেট খেলেন। এই পর্বে ৪৪৫টি ম্য়াচে ১৪ হাজারেরও বেশি রানের মালিক তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: