বিশ্বকাপের আগে নিশ্চিতভাবে টেস্ট সিংহাসন হারাবে ভারত – ঘোষণা নতুন সিরিজের!

২০১৫-১৬ এবং ২০১৬-১৭ – গত দুই মরশুমে উপমহাদেশের মাটিতে দাপটে টেস্ট ক্রিকেট খেলেছে ভারত। টানা ন’টি টেস্ট সিরিজ জয় করে এক নম্বর স্থানটা ভারতের দখলে। বর্তমানে একদিনের ক্রিকেটেও ভারত নাম্বার ওয়ান টিম। তবে, শীঘ্রই এই ছবিটা বদলাতে চলেছে। ২০১৯ বিশ্বকাপে ভারত যখন খেলতে নামবে তখন একদিনের আসরের এক নম্বর টিম হিসেবে নামার সব সম্ভাবনা থাকলেও, এক নম্বর টেস্ট খেলিয়ে দেশের শিরোপাটা নিশ্চিতভাবে খোয়াতে পারে ভারত।

২০১৯ বিশ্বকাপের লক্ষ্যে আগামী এক বছরে বেশি করে সীমিতওভারের ক্রিকেট সিরিজ খেলবে ভারতীয় ক্রিকেট দল। ২০১৮ সালে ঘরের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে একটি মাত্র টেস্ট সিরিজ আয়োজন করবে বিসিসিআই। আর সেই সিরিজ মাত্র ২টি টেস্টের ম্যাচের হতে চলেছে। এছাড়া, ২০১৯ বিশ্বকাপের আগে বিরাট কোহলির নেতৃত্বে ভারতীয় ক্রিকেট দল আর কোনও টেস্ট ম্যাচ খেলবে না ঘরের মাটিতে। আফগানিস্তানের সঙ্গে ঘরের মাটিতে একটি টেস্ট ম্য়াচ আয়োজন করার কথা শোনা গেলেও, তা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত ঘোষণা হয়নি।


বর্তমানে ভারতীয় ক্রিকেট দল দক্ষিণ আফ্রিকার সফরে একদিনের আন্তর্জাতিক সিরিজে ব্যস্ত। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে দাপট দেখালেও বছরের শুরুটা দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট সিরিজ দিয়ে হয়। চূড়ান্তভাবে অসফল হয় ভারত। এবছরই আবার ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া সফরে যাবে ভারত। বিদেশের মাটিতে ভারতীয় দল কতটা সফল হতে পারবে, তা নিয়ে কেউই ইতিবাচক মত পোষণ করছেন না। কারণ, সত্যিটা দক্ষিণ আফ্রিকাতে ধরা পড়ে গিয়েছে। টেস্টের আসরে বিদেশের মাটিতে ব্যর্থ হওয়ার অসুখটা ভারতীয় ক্রিকেট এখনও সারিয়ে উঠতে পারেনি।


দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের আগে ঘরের মাটিতে ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কাকে ডেকে এনে সিরিজ জিতলেও, চলতি বছরে শুধুমাত্র ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ডাকা হবে। ২টি টেস্ট ম্যাচ খেলার পর বেশি করে সীমিত ওভারের ম্য়াচ খেলবে ভারত। সবই বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি নেওয়ার লক্ষ্য। আগামী বছর জানুয়ারিতে নিউজিল্যান্ড সফরে যাওয়ার কথা থাকলেও, সেখানে গিয়ে শুধু সীমিত ওভারের ক্রিকেট খেলবে ভারত।

২০১৯ ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ…
২০১৯ সালের ইংল্যান্ডের মাটিতে আইসিসি’র পঞ্চাশ ওভারের বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে। ২০১৮ সালের শেষটা ভারতীয় ক্রিকেট দল অস্ট্রেলিয়াতে থেকে করবে। সফরে চারটি টেস্ট, তিনটি ওয়ান-ডে এবং তিনটি টি-২০ ম্যাচ খেলা হবে। সেখান থেকে নিউজিল্যান্ড রওনা দেবে টিম ইন্ডিয়া। সফরে পাঁচ ম্যাচের ওয়ান-ডে এবং টি-২০ সিরিজ খেলা হবে। কোনও টেস্ট সিরিজ খেলা হবে না। আর তার কারণ হিসেবে আর্থিক ক্ষতির বিষয়ট দেখাচ্ছে বিসিসিআই।
বিসিসিআই’য়ের এক আধিকারিক একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ”নিউজিল্যান্ডে যে সময় টেস্ট ম্যাচ শুরু হয়, ভারতে তখন সময় রান তিনটে। ফলে পাঁচ দিনের ম্যাচ খেলালে আর্থিক কোনও লাভ হবে না। আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে। যাইহোক, এমনিও বিশ্বকাপের বছর ওটা। অস্ট্রেলিয়া সফর সেরে ভারতীয় দল নিউজিল্য়ান্ডে শুধুমাত্র সাদা বলের ক্রিকেট খেলতে যাবে। নিউজিল্যান্ড থেকে ফিরে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ভারত সীমিত ওভারের সিরিজ আয়োজন করবে। আর তারপর ২০১৯ আইপিএল শুরু হওয়ার আগে ভারতীয় দল জিম্বাবোয়ে যাবে তিনটি টি-২০ ম্যাচ খেলতে।”

Indian cricket captain Virat Kohli plays a shot during the fourth one day international (ODI) cricket match between Sri Lanka and India

উল্লেখ্য, টেস্টের আসরে কম অংশ নেওয়ার অর্থ ভারতের রেটিং পয়েন্ট কমবে। আর রেটিং পয়েন্ট কমার অর্থ ভারত তাঁর এক নম্বর স্থানটা খোয়াবে। কারণ রেটিং পয়েন্টে এখনই ভারতের ঘাড়ের ওপর নিঃশ্বাস ফেলছে দক্ষিণ আফ্রিকা। তৃতীয় স্থানে থাকা অস্ট্রেলিয়াও খুব একটা পিছিয়ে নেই। ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজে সফল না হতে পারলে, ভারতের রেটিং পয়েন্ট আরও কমবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: