টেস্টের আসরে অভিষেকের আগে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ওডিআই খেলা পাঁচ ক্রিকেটার

যে কোনও ক্রিকেটারের কাছেই টেস্ট খেলা মানেই স্বপ্ন স্বার্থক করা। ছোটো থেকে এই লক্ষ্যেই আন্তর্জাতিক আসরে আসা। কারণ, টেস্ট ক্রিকেটই হলো পরীক্ষার আসল মাধ্যম। এখানে একজন ক্রিকেটারের দক্ষতা এবং পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার মানসিক কাঠিন্যকে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়। যিনি যতো সফল তিনি ততো বড় ক্রিকেটার বলে বিবেচিত হন বিশ্বমঞ্চে। টিকে থাকতে হলে ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করে যাওয়া জরুরি। আর ঘরোয়া হোক, কিংবা আন্তর্জাতিক আসর, এখানে একজন ক্রিকেটার গুনগত দিক থেকে ততোটাই উৎকৃষ্ট, যতটা তাঁর ধারাবাহিকতার স্তর উচ্চমানের।

দেশের হয়ে টেস্ট ক্যাপ অর্জন করাকে যে কোনও ক্রিকেটার তাঁর কেরিয়ারের সবচেয়ে উল্লেখ্যযোগ্য অধ্যায় বলে বর্ণনা করে থাকেন। তবে, সব আন্তর্জতিক ক্রিকেটারের ভাগ্যে যে টেস্ট ক্রিকেট জোটে, এমনটাও নয়। এরকমও আছে, দীর্ঘদিন সীমিত ওভারের ক্রিকেট খেলেও, টেস্টের আসরে কোনওদিন ডাক আসেনি। আবার অনেকে আছেন, ডাক পেলেও বহুদিন অপেক্ষা করতে হয়েছে। ক্রিকেট মঞ্চে এমন উদাহরণ কমই যাঁদের আন্তর্জাতিক আসরে সূচনা টেস্ট ক্রিকেটের মধ্যে দিয়ে।

আন্তর্জাতিক আসরে পাঁচ তারকা, যাঁরা সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ওডিআই খেলেছেন টেস্টের আসরে প্রবেশের আগে –

৫. অ্যারন ফিঞ্চ (অস্ট্রেলিয়া) – ৯৩টি ওডিআই

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ফিঞ্চের টেস্ট ডেবিউ হলো ৭ অক্টোবর, ২০১৮’য় দুবাইতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। একত্রিশ বছরের ফিঞ্চ ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক আসরে প্রতিষ্ঠিত নাম। ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে ওডিআই ডেবউ। তার আগে আন্তর্জাতিক পরিচিতি পাওয়া দেশের হয়ে টি-২০ আন্তর্জাতিকের মাধ্যমে। টেস্ট ক্যাপ পাওয়ার জন্য সাড়ে পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে ফিঞ্চকে। গত দুই মরশুমে সাদা বলের ক্রিকেটে অসামান্য পারফর্ম করাতেই ফিঞ্চের জন্য লাল বলের ক্রিকেটে দরজা খুলে দেওয়া হয়েছে। ২০১৭ সাল থেকে ৩০টি সীমিত ওভারের ম্যাচে (১৬টি ওডিআই ও ১৪টি টি-২০ আন্তর্জাতিক) ১৪৬৩ রান করেছেন। ব্যাটিং গড় ৫৬.২৬। ৫টি শতরানের ইনিংস রয়েছে এর মধ্যে। ক্রিকেট ইতিহাসে ফিঞ্চ দ্বিতীয় উদাহরণ যিনি টেস্টের আসরে ডেবিউ করার আগে ৩০০০ রান করেছেন ওডিআই মঞ্চে। ডেভিড ওয়ার্নার ও ক্যামেরন ব্যানক্রফ্টের নির্বাসনে থাকায়, ফিঞ্চের জন্য টেস্টের আসরে শিঁকে ছিঁড়ল।

৪. অ্যান্ড্রু সাইমন্ডস (অস্ট্রেলিয়া) – ৯৪টি ওডিআই

ক্যাঙারু ক্রিকেটের প্রাক্তন তারকা সাইমন্ডসের ক্রিকেটীয় দক্ষতা অসামান্য ছিল। যে সময় ক্রিকেট খেলেছেন, সেসময় অজি টিমে তারকাদের ভিড়। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং – তিনবিভাগেই দক্ষ সাইমন্ডস খাঁটি অলরাউন্ডার ছিলেন। এই ধরণের প্রতিভা ক্রিকেট বিশ্বে সত্যিই বিরল। ব্যাটিংয়ে দক্ষ সাইমন্ডস স্পিন ও মিডিয়াম পেস বোলিং সমান দক্ষতায় ফেলতে পারতেন। ক্রিকেট মাঠের যে কোনও পজিশনে ফিল্ডিং করতে স্বাচ্ছ্যন্দবোধ করতেন অস্ট্রেলিয়ান টিমের ব্যাটিং পজিশনের বিগহিটার। ১৯৯৮ সালে ওডিআই ডেবিউ করার পর ৬ বছর পর ২০০৪ সালের মার্চে মাসে টেস্ট ডেবিউ সাইমন্ডসের। ততক্ষণে আন্তর্জাতিক আসরে তাঁর ২০৪৪ রান এবং ৭২টি উইকেট নেওয়া হয়ে গিয়েছে। টেস্টের আসরে প্রবেশ লগ্নে ডেবিউ ইনিংসে শূন্য রানে ফিরে যান। সেই তিনিই দেশের হয়ে ২৬টি টেস্ট ম্যাচ খেলেন। পাঁচ বছরে ৪১টি ইনিংসে ১৪৬২ রান করেন ৪০.৬১ গড় নিয়ে। উইকেট নেন ২৪টি। ২০০৯ সালে অবসর টিম অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচ উইনিং অলরাউন্ড প্রতিভার।

৩. চামু চিভাবা (জিম্বাবোয়ে) – ৯৬টি ওডিআই

জিম্বাবোয়ে ক্রিকেট টিমের মান তলানিতে চলে যাওয়ায় অনেকেই সে দেশের ক্রিকেট নিয়ে খবর রাখেন না বর্তমানে। যাইহোক, চামু হলেন জিম্বাবোয়ে ক্রিকেট টিমের ওপেনার। টেস্টের আসরে সুযোগ জোটার আগে নব্বইটিরও বেশি ওডিআই’তে পারফর্ম করে দেখাতে হয়। সময়টা খুব কম নয়। দীর্ঘ এগারো বছর। ২০০৫ সালে ওডিআই ডেবিউ জিম্বাবোয়ের হয়ে। টেস্ট ডেবিউ নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ২০১৬ সালে। যদিও দেশের হয়ে তিনটি টেস্ট ম্যাচই খেলেন। ৬টি ইনিংসে স্কোর ১২৪। পাঁচদিনের ক্রিকেটে বড় স্কোর বলতে একটা অর্ধশতরান। তবে, সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ২১টি অর্ধশতরান রয়েছে চামুর। এর মধ্যে ১৬টি একদিনের আন্তর্জাতিকে এবং ৫টি টি-২০ আন্তর্জাতিকে। সম্প্রতি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ওডিআই সিরিজ খেলার পর দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ থেকে বাদ পড়েছেন।

২. সুরেশ রায়না (ভারত) – ৯৮টি ওডিআই

ক্রিকেট বিশ্ব সুরেশ রায়নাকে সীমিত ওভারের ক্রিকেট স্পেশালিস্ট হিসেবেই চেনে। যে কোনও সময় ম্যাচের রঙ বদলে দিতে জানেন উত্তরপ্রদেশের স্টার অলরাউন্ডার। ভারতীয় ক্রিকেট ইতিহাসে পনেরো জন ব্যাটসম্যান টেস্টের আসরে ডেবিউ ইনিংসে শতরান করেছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম নাম রায়না। ২০০৫ সালে ভারতীয় ওডিআই টিমে চলে আসা এই দুরন্ত অলরাউন্ডারকে পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে হয় টেস্ট ক্যাপ পেতে। ২০১০ সালে যুবরাজ সিংয়ের চোট দরজা খুলে দেয় তাঁর জন্য। ততোদিনে সীমিত ওভারের ফরম্যাটে প্রতিষ্ঠিত নাম রায়না। ২৩৭৯ রানও করা হয়ে গিয়েছে। ডেবিউ মঞ্চে ১২০ রান করলেও, এরপর দেশের হয়ে ১৮টি টেস্টেই কেরিয়ার থেমে যায়। ধারাবাহিকতার অভাবে টেস্টের আসরে জায়গা হারান। সীমিত ওভারে ক্রিকেটে সাম্প্রতিক সময়ে অনেক ওঠানামা দেখতে হয়েছে রায়নাকে।

১. রোহিত শর্মা (ভারত) – ১০৮টি ওডিআই

তালিকার শীর্ষে হিটম্যান। এই তালিকায় তিনিই একমাত্র ক্রিকেটার যাঁকে টেস্ট ক্যাপ অর্জনের জন্য একশোটিরও বেশি ওডিআই ম্যাচ অপেক্ষা করতে হয়। আগে হতেও পারত, কিন্তু ভাগ্য সহায় হয়নি। ২০০৭ সালে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে প্রবেশ করা রোহিত ২০১০ সালে টেস্টের আসরে ডাক পান ভিভিএস লক্ষ্মণ চোট সারিয়ে সুস্থ হয়ে না ওঠায়। পরিবর্তে সুযোগ পাওয়া রোহিত নিজেই চোট পেয়ে বসেন ফুটবল খেলতে গিয়ে। তাও আবার ম্যাচের দিনই। ভাগ্যে টেস্ট ডেবিউ আর সাড়ে তিন বছর পিছিয়ে যায়। ২০১৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে টেস্ট ক্রিকেটে আবির্ভাব হয় অবশেষে। ততোদিনে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে নিজেকে ওপেনার হিসেবে চিহ্নিত করে ফেলেছেন হিটম্যান। ৩০৪৯ রানও করা হয়ে গিয়েছে। টেস্ট আসরে অভিষেক মঞ্চে ১৭৭ রান করা রোহিত অবশ্য ধারাবাহিকতা দেখাতে পারেননি। অবশ্য এটাও ঠিক, জায়গার অভাবে তাঁকে ৬ নম্বরে ব্যাটিং করতে হয়েছে। পরপর দু’টি টেস্ট শতরান করে টেস্ট কেরিয়ার শুরু করা রোহিত ২৫টি টেস্ট খেলছেন এখনও পর্যন্ত। বর্তমানে তিনি টেস্ট স্কোয়াডের বাইরে। বিদেশ সফরে টিমের ধারাবাহিক ব্যর্থতার কারণে রোহিতকে টেস্টের আসরে ফিরিয়ে এনে ওপেনার করার দাবি দিন দিন জোরদার হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: