ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি উপেক্ষিত তারকাদের নিয়ে সেরা একাদশ

জেন্টলম্যান গেম ক্রিকেট এই গ্রহে খুব কম দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ হলেও জনপ্রিয়তার পরিধি কিন্তু অনেকটাই বড়। আর এই উপমহাদেশে ক্রিকেট খেলাটা অতিমাত্রায় জনপ্রিয় হওয়ায় ফ্যানের সংখ্যা অগণিত। আর ভারতীয় ক্রিকেটাররা তো জনপ্রিয়তার বিচারে অনেক জনপ্রিয় খেলার তারকাদেরও পিছনে ফেলে দিয়েছেন। এদেশের ক্রিকেট অনুরাগীদের কাছে ক্রিকেট শ্রেফ একটা খেলা নয়, ধর্ম সমান। আর ক্রিকেটাররা যেন দেবতার অংশসম। এখানে ক্রিকেট সিরিজ অনুষ্ঠিত হলে, একেবারে উৎসবের রূপ নেয়।

ক্রিকেট খেলার জন্ম ইংল্যান্ডে। ষোড়শ শতকে। ইংরেজদের ঔপনিবেশিকতা বাদের কারণে বিশ্বের নানা প্রান্তে খেলাটা ছড়িয়ে পড়া। ক্রিকেট গ্রহের প্রথম আন্তর্জাতিক দুই দল হলো ইংল্যান্ড আর অস্ট্রেলিয়া। তারপর ক্রমে ক্রমে ক্রিকেটের ধারা বিবর্তিত হয়েছে। টেস্ট থেকে, ওডিআই এবং বর্তমানে টি-২০ ফর্ম্যাট যুক্ত হয়েছে। আগামী দিনে গতিময় পৃথিবীতে দশ-দশ ওভারের ফরম্যাটও যুক্ত হওয়াও অসম্ভব নয়।

ক্রিকেট ষোড়শ শতাব্দী থেকে একবিংশ শতাব্দীতে এসে পৌঁছনোর এই দীর্ঘ সময়ে বহু প্রতিভাকে প্রত্যক্ষ করেছে। অনেকেই আজ লেজেন্ড। আবার অনেকে উপেক্ষিত হয়েছেন। বড় মাপের স্টার হলেও, তেমন প্রশংসা পায়নি তাঁদের লড়াই। বরাবরই আড়ালে থেকে গিয়েছেন প্রচারের আধিক্য থেকে। ক্রিকেট ইতিহাসের সেই সমস্ত তারকাদের মধ্যে থেকে যাঁরা সবচেয়ে বেশি উপেক্ষিত অথবা আড়ালে থেকে গিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে থেকে সেরা একাদশ গড়ার চেষ্টা করা হলো।

ক্রিকেট ইতিহাসে সবচেয়ে উপেক্ষিত তারকাদের সেরা একাদশ –

১. অ্যালিস্টার কুক (ইংল্যান্ড)

ক্রিকেট খেলার ধরণ যেমন বদলেছে, তেমনই বর্তমানে ক্রিকেটারদের স্টাইল ও তাঁদের জীবনযাপন বদলেছে। হাতে, গায়ে ট্যাটু, কায়দার চুল-দাড়ি ইত্যাদির বিচারে ইংল্যান্ডে প্রাক্তন অধিনায়ক তথা ওপেনার একেবারে যেন ওল্ড স্কুল ক্রিকেটার। কুকের ব্যাটিং অনন্য শৈলীর। নতুন বলে সামলে খেলে, তারপর ইনিংসের গতি বাড়াতেন। ক্রিজে কামড়ে গোটা দিন পড়ে থাকলেও সামান্য ধৈর্য্যচ্যুতি ঘটত না। ইংলিশ ক্রিকেটের সর্বকালের সেরা টেস্ট ক্রিকেটের বিশ্ব ক্রিকেটেরও অন্যতম নাম। লাল বলের ক্রিকেটে ৩৩টি শতরানের মালিক ১২০০০ রান করে গিয়েছেন পাজামা ক্রিকেটে।

২. গৌতম গম্ভীর (ভারত)

২০০৭ সালের উদ্বোধনী বিশ্বকাপের ফাইনালে শেষ বলে মিসবাহ-উল-হকের স্কুপ শট শ্রীসন্থের হাতে তালুবন্দি হওয়ার কথা সবার মনে রয়েছে। কিন্তু, সেদিন ফাইনালে টিম টোটালের অর্ধেকের বেশি রান এসেছিল যাঁর ব্যাট থেকে, তাঁর কথা কারও মনে নেই। গোতি সেদিন ৫৪ বলে ৭৫ রান করে দিয়েছিলেন। আবার ২০১১ সালে ৫০ ওভারের বিশ্বকাপের কথা। ছয় মেরে উইনিং স্ট্রোক নেওয়া ধোনিকে সবার মনে আছে। অথচ অল্পের জন্য শতরান হাতছাড়া করা গম্ভীরের ১২২ বলে ৯৭ রানের লড়াকু ইনিংসটার কথা কারও মনে নেই। উপেক্ষিত থেকে গিয়েছে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৪০০ বলে ম্যাচ বাঁচানো ইনিংটাও। গোতির অ্যাটাকিং ক্রিকেট খেলার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সময়ে ইনিংসের হাল ধরতেও পারতেন। তবুও কোনওদিন সেভাবে তারকার সম্মান জোটেনি বীরেন্দ্র সেহওয়াগের মতো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: