এখনও ট্রফি জিততে না পারার কারণ – প্রচুর অর্থ পেয়েও আরসিবি টিমে ব্যর্থ পাঁচ তারকা!

স্টার পাওয়ার, প্রাচুর্য এবং পপুলারিটি পাশে থাকলেও, একটি ক্ষেত্রে আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি রয়্যালস চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর বড় দুর্ভাগা। আর সেটা হলো ট্রফি জয়। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে থেকেই জেতার অন্যতন দাবিদার হলেও গত দশ বছরে সেই স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করে পারেনি লিকার ব্যারন বিজয় মালিয়ার টিম। আইপিএলের চোকার্স টিম বললে ভুল হবে না। আইপিএল অকশন বলুন আর অন-ফিল্ডে স্টার পাওয়ারের ঝলশানি, সবেতেই অন্যদের অনেকাংশেই ছাপিয়ে যায় বেঙ্গালুরুর এই টিমের অর্থের জৌলুস। কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা লাগাম ছাড়া ভাবে নামিদামী ক্রিকেটারদের পেছনে খরচ করলেও কিছু ক্ষেত্রে গত দশ বছরে অপাত্রে দান করেছে আরসিবি টিম। কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ট্রফি জয় অধরাই থেকে গিয়েছে।

তেমনই পাঁচ ক্রিকেটারের কথা বলা হলো, যাঁদের জন্য প্রচুর অর্থ খরচ করা অনর্থকই থেকে গিয়েছে –

৫. শন অ্যাবট (১ কোটি)

২০১৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার এই ক্রিকেটারটির পেছনে এক কোটি টাকা খরচ করেছিল আরসিবি। অন্যান্যদের স্টার ক্রিকেটারের তুলনায় তাঁর পিছনে কম খরচ করলেও, পুরোটাই জলে যায়। তাঁর স্বদেশীয় মিচেল স্টার্ক নিক ম্যাডিনসনের সঙ্গে অ্যাবট জ্বলে উঠবেন আশা করা হলেও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি অজি ফাস্ট বোলারটি। সেবার লিগ পর্যায়ে পয়েন্ট টেবিলে তিন নম্বরে গেলেও আরসিবি অ্যাবটকে মাত্র ২টি ম্যাচেই খেলাতে পারে। প্রচুর রান দেন। আর মাত্র একটি করে উইকেট তুনে নিতে পেরেছিলেন। ব্যাট হাতেও ব্যর্থ হন। স্ট্রাইক রেট ১১৫ হলে কি হবে, অ্যাবটের সেরা স্কোর ছিল ১৪।

আরো পড়ুন-কি কারণে ধোনির ওপর বিরাট নির্ভরশীল, জানালেন সৌরভ!

৪. ডারেন স্যামি (২.৮ কোটি)

২০১৪ সালে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে ভালো পারফর্ম করতে না পারলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রাক্তন অধিনায়ককে ২.৮ কোটি টাকা দিয়ে ২০১৫ সালে কেনে আরসিবি। ১ কোটি টাকা বেস প্রাইস ছিল। তার আগের বছর হায়দরাবাদের হয়ে ১০টি ম্যাচে ১০৮ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেওয়া স্যামি ব্যাঙ্গালোরের হয়েও ব্যর্থ হন। তাঁকে ছেড়ে দিয়ে সাড়ে দশ কোটি টাকা দিয়ে দিনেশ কার্তিকে কেনে বেঙ্গালুরুর টিম। স্যামি আরসিবি’র হয়ে ২২টি ম্যাচে ২৯৫ রান করেন। আর বল হাতে মাত্র ১১টি উইকেট। ব্যাটিং গড় ১৯.৬৬ আর বোলিংয়ের ইকোনমি রেট ৮.৮৯।

আরো পড়ুন-এই তিনজন ভারতীয় দলকে চালনা করছেন, জানালেন লক্ষণ!

৩. ক্যামেরন হোয়াইট (প্রায় ৩.৫ কোটি)

২০০৮ সালে উদ্বোধনী আইপিএলে এই অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডারটিকে যখন কেনে আরসিবি, তখন প্রত্যাশা করা হয়েছিল, টিমকে ট্রফি এনে দেওয়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখবেন। কিন্তু, আশ্চর্যের বিষয়, রাহুল দ্রাবিড়ের নেতৃত্বে সেবার এমন টিম গড়ে আরসিবি যে টিমটাকে টেস্ট স্পেশালিস্ট টিম মনে হচ্ছিল টি-২০ ফরম্যাটের টিমের পরিবর্তে। অস্ট্রেলিয়ার অলরাউন্ডারটি লেগব্রেক বোলার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মিল অর্ডারের আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যান। কিন্তু, উদ্বোধনী আইপিএলে বিশেষ সুবিধা করে উঠতে পারেননি। ব্যাটহাতে মাত্র ১১৪ রান ৮ ম্যাচে। গড় ১৬.২৮। বল করার সুযোগ আসে ৬টা ম্যাচে। সেবার আরসিবি টিম টেবিলে সাত নম্বরে থেকে লিগ পর্যায়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয়। ২০১০ সালে আরও খারাপ ক্যামেরনের পারফরম্যান্স। সাত ম্যাচে মাত্র ৪৮ রান। আর বল হাতে উইকেটের ভাঁড়ার শূন্যই থাকে।

আরো পড়ুন-যদি বিশ্ব ক্রিকেটে রাজ করতে হয়, ওকে কোচ বানাও; ভারতকে পরামর্শ হেডেনের!

২. শেন ওয়াটসন (৯.৫ কোটি)

অস্ট্রেলিয়ার এই অলরাউন্ডারটি প্রথম আইপিএলে রাজস্থান রয়্যালসের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পিছনে অন্যতম বড় কারীগর ছিলেন। ২০০৮ আইপিএলের সেরা ক্রিকেটার ২০১৬ সালে আরসিবি টিমে চলে আসার আগে পুরো সময়টাই ওখানেই খেলেন। ধারাবাহিকভাবে ছ’বার দু’শোর ওপর রান করেন গোটা টুর্নামেন্টে। ফলে, তাঁকে পেতে মোটা টাকা খরচ করে আরসিবি। কিন্তু, সাড়ে ন’কোটি টাকা বৃথাই যায়। নবম আইপিএলে আরসিবি টিমের হয়ে ১৬টি ম্যাচে ১৭৯ রান করেন ব্যাটহাতে। একবার হাফসেঞ্চুরি করতে পারেননি। বলহাতে ২০টি উইকেট নিয়ে তুলনায় ভালো পারফর্ম করলেও দলকে ট্রফি এনে দিতে পারেননি।

আরো পড়ুন-বিরাটের মেসেজ আর অনেক গোপন তথ্য হোয়াটসঅ্যাপে ফাঁস করে দিয়েছেন কুম্বলে?

১. টিমল মিলস (১২ কোটি)

অজি পেসার মিচেল স্টার্ক দশম আইপিএলের পুরো মরশুমটা অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় আরসিবি ইংলিশ পেস বোলার টিমল মিলসকে কেনে। ভারতীয় মুদ্রায় বারো কোটি টাকার বিনিময়ে তাঁকে টিমে আনা হয়। তার আগে ভারতের বিরুদ্ধে টি-২০ সিরিজে ২৪ বছরের ইংলিশ ক্রিকেটারটি দুর্দান্ত পারফর্ম করেন। ফলে, তাঁর পেছনে প্রচুর অর্থ ঢালে আরসিবি টিম ম্যানেজমেন্ট। কিন্তু, পুরোটাই বেকার যায়। টি-২০ আন্তর্জাতিকে দেশের হয়ে ৬৩টি ম্যাচে ৭২টি উইকেট নেওয়া মিলস ডাহা ফেল আইপিএলে ক্রিকেটে তাঁর অভিষেক বছরে। মাত্র পাঁচ উইকেট যায় ঝুলিতে। ইকোনমি রেটও খুব খারাপ ৮.৫৭। তারপর টুর্নামেন্টের শেষের দিকে জ্বরে কাবু হয়ে পড়ায় আর খেলতে পারেননি। নিউজিল্যান্ডের পেস বোলার অ্যাডাম মিলনে তাঁর জায়গা নেন পরিবর্ত হিসেবে। আরসিবি গ্রুপ স্টেজেই বিদায় নেয় টেবিলে নিচের দিকে থেকে।

আরো পড়ুন-কোচ হিসাবে এই আইপিএল দলে যোগ দিচ্ছেন আশিস নেহেরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: