নির্লজ্জ সীকারোক্তি বাঙালি প্রেমিকের, সারার প্রেমে পাগল হলেন কি করে ?

কারণে নয়, ভারতরত্ন শচীন তেন্ডুলকরের কন্যা সারা তেন্ডুলকর অকারণে খবরের শিরনোমে উঠে এসেছেন বারবার। তবে, কোনওটাতেই সারাকে দায়ী করা যায় না। এক তো তিনি ক্রিকেট দেবতার মেয়ে, আর দ্বিতীয় তিনি সুন্দরী। ফলে বিতর্ক তাঁকে জোর করে খুঁজে নেয়। সম্প্রতি সারা তেন্ডুলকরকে নিয়ে নিউজ মিডিয়া সরগরম। নিজের শহর মুম্বইতেই সুরক্ষিত নয় শচীন কন্যার ব্যক্তিত্ব। সেখানকার এক সফ্টওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সারার নাম ভাঁড়িয়ে মাইক্রো ব্লগিং ওয়েবসাইট ট্যুইটারে একটি অ্যাকাউন্ট খুলেছিল সে। আর সেটি ব্যবহার করে রাজনৈতিক মন্তব্যসহ ট্যুইট করা হয়। তাও এলেবেলে কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে নয়, এনসিপি নেতা শরদ পাওয়ারকে জড়িয়ে সেই ট্যুইটটি করা হয়েছিল। গত অক্টোবরের ঘটনা এটি। শচীন নিজে উদ্যোগ নিয়ে শরদ পাওয়ারকে আশ্বস্ত করেন যে তাঁর মেয়ে বা ছেলে কেউই ট্যুইটার ব্যবহার করেন না। পুলিশে অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর মুম্বই পুলিশের সাইবার অপরাধ শাখা অভিযুক্ত সফ্টওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারকে গ্রেপ্তার করে।

এই ঘটনার জের মিটতেই না মিটতেই আরও একটি ঘটনা সামনে আসে। পশ্চিমবঙ্গের এক শিল্পী দেব কুমার মাইতিকে এখানে এসে গ্রেপ্তার করে মুম্বই পুলিশের একটি দল। শচীন কন্যাকে নানারকমভাবে উত্যক্ত করত সে। এমনকী, শচীনের অফিসে ফোন করে তাঁর মেয়েকে অপহরণ করার হুমকিও দিয়েছিল দেব কুমার। পুলিশের হাতে ধরা পড়ার পরও মিডিয়ার ক্যামেরার সামনে সে বারবার একই কথা বলতে থাকে, সারাকে সে ভালোবাসে এবং বিয়ে করতে চায়।

নিত্যদিন ফোনে সারাকে উত্যক্ত করা বাড়তে থাকায় মুম্বই পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন শচীন। তারপর ফোনকল ট্রেস করে দেব কুমারকে সনাক্ত করে পুলিশ। তার পরিবারের দাবি, সে নাকি মানসিক ভারসাম্যহীন। মুম্বইতে চিকিৎসা করাতে গিয়ে সেখানেই এক আত্মীয়ের মাধ্যমে শচীন কন্যার ফোন নম্বর জোগাড় করে সে। যদিও শ্রীঘরে ঠাঁই হয়েও মানসিক ভারসাম্যহীনতা এখনও সেই আগের অবস্থাতেই মাঝবয়সী বাঙালি শিল্পীর। আগের মতো এখনও সে একই দাবি করে যাচ্ছে। এখন আবার জোর গলায় সে মিডিয়াকে এই কথাও বলছে, কি করে সারা প্রেমে পড়েছিল সে।

দেব কুমার বলছে, ”আমি সারাকে বিয়ে করতে চাই। আমি ওকে টিভিতে দেখেই ওর প্রেমে পড়েছি। তারপর আমি আকাশের দিকে মাথা তুলে মনে মনে জিজ্ঞাসা করে উঠি, সারা তেন্ডুলকর কি আমার বউ হবে? আকাশে তখন বিদ্যুৎ চমকে ওঠে। আমি এই কথা তেন্ডুলকরের অফিসে ফোন করে বলেছি।”

লজ্জা-শরমের বিন্দুমাত্র রেশ না রেখেই দেবকুমার বলে যেতে থাকে, ”আমি ভাঙ্গা ভাঙ্গা হিন্দিতে ওদের বলেছিলাম, সারা তেন্ডুলকর আমার জীবন। আমি ওকে বিয়ে করতে চাই।” এরপর সে নিজের হাতে সারা ও দেব লেখা ট্যাটুটাও দেখায় সাংবাদিকদের। ওই ট্যাটুটি ২০১৩ সালে করিয়েছিল সে। তার দাবি, সে বছরই সারার প্রেমে পড়ার পর সে তার নাম কব্জিতে উল্কি করায়। আশ্চর্যের বিষয়, শচীন কন্য়ার বয়স সেসময় মাত্র তেরো বছর ছিল। আর সে নাকি সবে বালিকা থেকে কিশোরী হয়ে ওঠা মেয়েটিকে দেখা মাত্রই ভালোবাসতে শুরু করে মনে মনে।

সারার প্রেমে পাগল দেব কুমারের আরও দাবি, ”আমি সামনে এলে জাহাজ, ট্রেন থেমে যায়। আমি বিশ্বের সেরা। আর আমি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, তার জন্য আমার কোনও আক্ষেপ নেই।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: