এশিয়া কাপে ধোনিকে অধিনায়কত্ব দেওয়া নিয়ে একহাত নিলেন নির্বাচকমণ্ডলী!

ইংল্যান্ডের মাটিতে একরাশ লজ্জা উপহার দিয়ে ভারতীয় ক্রিকেট দল আরব আমির শাহি রওনা দেয় এশিয়া কাপে অংশ নিতে। ভারতীয় টেস্ট দল আর সীমিত ওভারের ক্রিকেট দলের স্কোয়াড প্রায় অর্ধেকেরও বেশি আলাদা ঠিকই, কিন্তু টিমের ব্যর্থতাটা টিমেরই ব্যর্থতা। সে যে ফর্ম্যাটেই হোক না কেন। যাইহোক, এশিয়া কাপে নিয়মিত অধিনায়ক বিরাট কোহলিকে বিশ্রামে পাঠিয়ে নেতত্বভার দেওয়া হয়েছিল রোহিত শর্মার হাতে। অস্থায়ী ভারত অধিনায়কের সহকারী করা হয়েছিল শিখর ধওয়নকে।

এশিয়া কাপে ভারত বিরাটকে ছাড়া কেমন খেলবে, তা নিয়ে সমালোচক থেকে শুরু করে অনুরাগীদের মধ্যে একটা ভরসার অভাব কাজ করছিল! কারণ, একটানা ব্যর্থতার পর জয়ে ফেরা যেমন চ্যালেঞ্জের ব্যাপার, তেমনই ফরম্যাট বদল হওয়ার পর ক্রিকেটারদের মানিয়ে নেওয়াটাও সমান কঠিন ব্যাপার। তার উপরে আবার অধিনায়ক বদল। রোহিতকে নেতা হিসেবে থিতু হওয়ার মতো পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়নি, সেটা প্রাক্তনেরাও দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করছিলেন।

তবে, এশিয়া কাপে ভারত রোহিত শর্মার নেতৃত্বে পুরোপুরি ভিন্ন মাত্রায় ক্রিকেট তুলে ধরে। গোটা টুর্নামেন্টে অপরাজিত থেকে টিম ইন্ডিয়া চ্যাম্পিয়ন হয় রেকর্ড সংখ্যক সপ্তমবার। হংকং’য়ের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে ভারত পূর্ণ শক্তি প্রয়োগ করেনি, আবার গা এলিয়েও ক্রিকেট খেলে। সেটা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পরদিনই প্রমাণ হয়ে যায় ম্যাচে। আর ওদিকে, সুপার ফোরের প্রথম দু’টি ম্যাচে পাকিস্তান ও বাংলাদেশকে ধরাশায়ী করে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে ফেলার পর আফগানিস্তান ম্যাচে দ্বিতীয় সারির দল নামায় টিম ইন্ডিয়া। ওই ম্যাচে অল্পের জন্য বেঁচে যায় ভারত। ম্যাচ যেমন ভারত হারেনি, তেমন জিততেও পারেনি। টাই হয়, শেষ বলে রবীন্দ্র জাদেজা উঁচু শটে ক্যাচ দেওয়ায়।

ওই ম্যাচে আরও একটা ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটে। বিশ্বের তৃতীয় অধিনায়ক হিসেবে ২০০টি ওডিআই’তে দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার গৌরব অর্জন করেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক যে ওই ম্যাচে টিমকে নেতৃত্ব দেবেন, সেটা আগে থেকে আঁচ করাও যায়নি। রোহিত শর্মার নেতৃত্বাধীন ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট সেদিন পাঁচটি পরিবর্তন করে টিমে। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচটা যেহেতু শ্রেফ নিয়ম রক্ষার ছিল, তাই অস্থায়ী অধিনায়ক রোহিত নিজে এবং তাঁর সহকারী শিখরকে বিশ্রামে পাঠিয়ে সিরিজে সুযোগ না পাওয়া ক্রিকেটারদের খেলার সুযোগ করে দেন। ওই ম্যাচে আম্পায়ের দু’টি সিদ্ধান্ত ভারতের বিপক্ষে যায়। না হলে, ভারত জিততেই পারত। যদিও এমএস ধোনির মন্থর গতির ব্যাটিং সমালোচনার মুখে পড়ে। আফগান ম্যাচে ভারত মণীশ পান্ডে, সিদ্ধার্থ কউল, শার্দুল ঠাকুর, দীপক চহর, খলিল আহমেদকে খেলায়। বিশ্রামে পাঠানো হয়েছিল শীর্ষ সারির দুই তারকা পেসার ভুবনেশ্বর কুমার এবং জসপ্রীত বুমরাহকে। স্কোর বোর্ডে আড়াইশো রানের মতো করে দ্বিতীয় সারির ভারতীয় দলকে পেয়ে যেভাবে ঘোল খাইয়ে ছাড়ে আফগানিস্তান, সেটা পছন্দ হয়নি জাতীয় নির্বাচক মণ্ডলীর।

নির্বাচক মণ্ডলীর মোদ্দা কথা হলো, বিরাট কোহলির অনুপস্থিতিতে রোহিত শর্মাকে অস্থায়ী অধিনায়ক বাছা হয়। কারণ, তিনি টিমের সহঅধিনায়ক সীমিত ওভারের ফর্ম্যাটে। আর শিখরকে তাঁর সহকারী করা হয়েছিল তিনি বিশ্রাম নিতে পারেন এই ভেবেই। দু’জনেই কেন বিশ্রাম নিয়ে ধোনিকে অধিনায়ক করা হলো। আর এর পিছনে যুক্তিও আছে। ধোনি সমালোচনার মুখে পড়ে হোক, কিংবা বিরাটকে নেতা হিসেবে পরিণত হতে সময় দিতে চেয়েই হোক, তিনি কিন্তু স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ান। মাঝে সময় অনেকটাই পেরিয়ে গিয়েছে। আর বোর্ড ও তাঁদের না জানিয়েই ধোনিকে নেতৃত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাতেই অখুশি হয়েছেন জাতীয় নির্বাচকরা।

একটি সর্বভারতীয় সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিসিসিআই’য়ের এক কর্তা বলেছেন –

”ওই ম্যাচে যেভাবে পুরোপুরি বদল আনা হয়েছিল, তাতে নির্বাচকরা মোটেই সন্তুষ্ট নন। অস্থায়ী অধিনায়ক রোহিত শর্মা এবং সহঅধিনায়ক শিখর ধওয়ন, দু’জনেই বিশ্রাম নিয়ে নেয়, আর ধোনিকে জোর করে অধিনায়ক করা হয় আবার, তাও আচমকা।”

সামনেই বোর্ডের আরও একটা বৈঠক রয়েছে। সেখানে নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। তার সঙ্গে এই ব্যাপারটাও আলোচনায় তোলা হবে। বোর্ডের ওই সুত্রের আরও বক্তব্য –

”বিসিসিআই’য়ের নতুন সংবিধান টিম ম্যানেজমেন্টকে প্রথম একাদশ বাছার অধিকারের ব্যাপারে ভোট প্রয়োগ করার সংস্থান দিয়েছে। সেই সঙ্গে নির্বাচকদেরও এক্তিয়ার দিয়েছে প্রত্যেক ত্রৈমাসিকে টিমের পারফর্ম্যান্স নিয়ে কথা বলার। পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে, দুই পক্ষের মধ্যে আরও ভালোরকম বোঝাপড়া দরকার।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: