প্রাক্তন এই কেকেআর প্লেয়ারের ODI গড় ৬৭, দ্বিতীয়স্থানে থাকা কোহলি ৫৮.১০!

ক্রিকেট পন্ডিতরা প্রায়ই ডন ব্রাডম্যানের টেস্ট অ্যাভারেজ ৯৯.৯৪ এর উদাহরণ দেন, যে এটা এমন একটা রেকর্ড যা সম্ভবত কখনওই ভাঙতে পারে না, এবং যদি কখনও এটা ভাঙে তাহলে তার জন্য দরকার হিমালয়ের সমান কোনও প্রচেষ্টার। সাম্প্রতিক সময়ে এমন কোনও প্লেয়ারের কথা মনে পড়ছে না যে এই মাইলস্টোনেরও খুব কাছাকাছি আসতে পেরেছে। যদি আমরা বর্তমানের প্লেয়ার তালিকার দিকে নজর দিই, তাহলে দেখা যাবে স্টিভ স্মিথের অ্যাভারেজ ৬২.৪৯ যা ভীষণই উল্লেখযোগ্য, কিন্তু সেটা কখনওই ব্রাডম্যানের ওই অতিমানবীয় গড়ের কাছাকাছিও নেই।

Britain Cricket – England v Australia – 2017 ICC Champions Trophy Group A – Edgbaston – June 10, 2017 Australia’s Captain Steve Smith looks dejected Action Images via Reuters / Paul Childs Livepic EDITORIAL USE ONLY.

অন্যদিকে ওয়ান ডে হল সম্পুর্ণ অন্যধরনের এক খেলা। এখানে ব্যাটসম্যানের প্রয়োজন দ্রুতগতিতে রান করা, এবং সে ক্ষেত্রে উইকেটে হারানো বিপদ থাকে পুরো মাত্রায়ই। ৪৫+ এর উপর কোনও গড়কেই ওয়ান ডে তে ভদ্রস্থ অ্যাভারেজই বলা চলে। এই সমস্ত বাধা সত্ত্বেও এটা যথেষ্টই আশ্চর্যজনক যে কিভাবে ডাচ তারকা এবং প্রাক্তন কলকাতা নাইট রাইডার্স তারকা রেয়ান নেইল টেন ডোয়েসেট তার কেরিয়ারে ব্র্যাডমেনীয় অ্যাভারেজ ৬৭.০০ গর ধরে রেখেছেন যা একদিনের ক্রিকেটে এখনও পর্যন্ত সর্বোচ্চ গড় (সর্বনিম্ন ২০টি ইনিংসে)। তিনি মাত্র ৩৩টি ম্যাচে রান করেন ১৫৪১ এবং তার সর্বোচ্চ রান ১১৯।

১৯৮০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার পোর্ট এলিজাবেথের কেপ প্রোভিন্সে জন্মগ্রহন করা রেয়ান বড়ো হয়ে উঠেছেন দক্ষিণ আফ্রিকায়, এবং তার সবসময়েই লক্ষ্য ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে খেলা। যদিও অনেক দেরীতে তার বিকাশ হয়, এবং অনেক পরেতিনি সিরিয়াস ক্রিকেট খেলা শুরু করেন। এবং এটা বোঝা তার পক্ষে কঠিন ছিল না যে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার তার স্বপ্ন সফল করার জন্য অপেক্ষাকৃত সরল হবে যদি তিনি তার ঠিকানা নেদারল্যান্ডসে বদলে নেন, যা সম্ভবত তার ডাচ পাসপোর্টের সৌজন্যে ছিল।

তিনি একজন পেশাদার ক্রিকেটার এবং বিশ্বজুড়ে তিনি টি২০ ক্রিকেট খেলে বেড়ান। তিনি বিভিন্ন দেশের হয়ে ক্রিকেট খেলেছেন যার মধ্যে রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার টি২০ বিগব্যাশ, নিউজিল্যান্ডের টি২০, বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ, আইপিএল, দক্ষিণ আফ্রিকার টি২০ চ্যালেঞ্জ, এবং এমনকী জিম্বাবোয়ের টি২০ ক্রিকেটেওও। এই ডানহাতি অলরাউন্ডার তার মোটামুটি বোলার হিসেবে পরিচিতির চেয়ে অনেক বেশি পরিচিত ওয়ান ডে’তে তার সর্বোচ্চ ব্যাটিং অ্যাভারেজের জন্য। তিনি মিডিয়াস ফাস্ট বোলিং করেন, এবং ৩৩টি একদিনের ম্যাচে তিনি ৫৫টি উইকেট নিয়েছেন, তার কেরিয়ারের সেরা বোলিং গড় হল ৪-৩১।

 

তিনি প্রথমে নজরে আসেন এসেক্সের হয়ে তার ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলার সময়, যাদের জন্য তিনি বেশ কিছু উদাহরণ যোগ্য ইনিংস খেলেন, এবং তারপর থেকেই তিনি একটি নন টেস্ট প্লেয়িং দেশের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিত হন। অবাক না হওয়ারই কথা, তিনি তিনবার আইসিসির অ্যাসোসিয়েট প্লেয়ার অফ দ্য ইয়ারের জন্য নমিনেট হন ২০০৮, ২০১০ এবং ২০১১য়। সম্প্রতি আইসিসি ২০১৮র বিশ্বকাপ কোয়ালিফায়ারের জন্য রেয়ান টেন ডসচেটকে টপ টেন প্লেয়ারদের মধ্যে রেখেছে যাদের উপর সকলের নজর থাকবে। দীর্ঘদিন পরে তিনি ফের ডাচ দলে জায়গা পেয়েছেন, কিন্তু তিনি এটাকে স্মরণীয় করে রাখতে পারেন নি, কারণ নেদারল্যান্ড ২০১৯ বিশ্বকাপের জন্য যোগ্যতা অর্জন করতে পারে নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: