আইপিএল ২০১৮ : টুর্নামেন্টের অত্যন্ত দামি ক্রিকেটার হয়েও এবার অনিশ্চিত যে পাঁচ বিদেশি তারকা

আইপিএল ক্রিকেটে প্রত্যেক বছরই সবকটি ফ্র্যাঞ্চাইজিকে ক্রিকেটারদের চোট-আঘাত কমবেশি ভোগায়। কারণ, চোট-আঘাত খেলারই অঙ্গ। কিন্তু, কোনও টিমের তারকা ক্রিকেটার অনিশ্চিত হয়ে পড়লে তখন তার প্রভাব টুর্নামেন্টের ওপরেও পড়তে বাধ্য। গত বছর রোহিত শর্মা আইপিএলের আগে সুস্থ হয়ে ওঠেন বলে পুরো মরশুমটা দিতে পেরেছিলেন মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে। আবার বিরাট কোহলি চোটের কারণে পুরো মরশুম দিতে পারেননি রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরকে।

ওদিকে, কলকাতা নাইট রাইডার্সের আন্দ্রে রাসেল নিষেধাজ্ঞার কারণে খেলতে পারেননি। একাদশ আইপিএলেও সেরকমই পাঁচজন তারকা আছেন যাঁরা এবছর হয় চোটের কারণে, না হয় নিষেধাজ্ঞার কারণে খেলতে পারবেন না সম্ভবত। সংশ্লিষ্ট ফ্র্যাঞ্চাইজি কিন্তু তাঁদেরকে মোটা টাকা দিয়ে টিমে রেখেছে এবার ট্রফি জয়ের লক্ষের পাশাপাশি টুর্নামেন্টে ভালো ফল করতে।

৫. মিচেল জনসন (কলকাতা নাইট রাইডার্স) – ২ কোটি

অস্ট্রেলিয়ার বাঁহাতি ফাস্ট বোলার মিচেল জনসনকে অকশন থেকে ২ কোটি ভারতীয় মুদ্রার বিনিময়ে এবার টিমে এনেছে কেকেআর। অজি পেসার এবার কলকাতার হয়ে বড় ভূমিকা নিতে পারেন বলে চিহ্নিত করে রেখেছিলেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু, জিমে শারীরিক কসরতের সময় আচমকা মাথায় চোট পেয়ে রক্তারক্তি কাণ্ড ঘটার পর ১৬টি সেলাই পড়েছে। সেরে উঠতে সময় লাগবে। আইপিএল মরশুম শুরুর আগে সেরে ওঠা প্রায় অসম্ভব ৩৬ বছরের জনসনের পক্ষে। আর সেরে উঠলেও এতোদিন বিশ্রামের পর চট করে ম্যাচ ফিট হওয়াও সম্ভব নয়।

৪. জোফ্রা আর্চার (রাজস্থান রয়্যালস) – ৭.২ কোটি

বার্বাডোজের অলরাউন্ডার জোফ্রা আর্চারের ভারতীয় ক্রিকেটারদের নিয়ে আবার একটু নাক উঁচু ভাব আছে। তবুও আইপিএল খেলার লক্ষ্যে এবার নাম নথিভুক্ত করান অকশনে। বিগব্যাশ লিগে হোবার্ট হারিকেনসের হয়ে দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলার দরুণ জোফ্রা এখন স্টার হয়ে উঠেছেন। শুরুতেই বড় দাম পেয়েছেন আইপিএলে। রাজস্থান রয়্যালস ৭ কোটি ২০ লক্ষ ভারতীয় মুদ্রা দিয়ে কিনেছে তাঁকে। কিন্তু সমস্যা হলো পাকিস্তান সুপার লিগে কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্সের হয়ে খেলতে গিয়ে পিঠের পেশিতে টান ধরে। ওই টুর্নামেন্ট থেকেই ছিটকে গিয়েছেন। আইপিএল খেলতে পারবেন কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। রাজস্থান ফ্র্যাঞ্চাইজি এনিয়ে চিন্তিত।

৩. আন্দ্রে রাসেল (কলকাতা নাইট রাইডার্স) – ৮.৫ কোটি

গত বছর নিষেধাজ্ঞার কারণে খেলতে পারেননি আইপিএলে। এবছর তাঁকে সাড়ে আট কোটি ভারতীয় মুদ্রা দিয়ে রিটেইন করা হলেও চোট পেয়ে বসেছেন আচমকা। পাকিস্তান সুপার লিগে খেলতে গিয়ে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেয়েছেন। আইপিএল খেলতে পারবেন, কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার চিন্তার ভাঁজ কেকেআর শিবিরে। যদিও বা সেরে উঠেন, ম্যাচ ফিটনেস ফিরে পাওয়া সম্ভব নয় অতো তাড়াতাড়ি। অথচ রাসেলকে নিয়ে অনেক পরিকল্পনা করে রেখেছে কেকেআর টিম ম্যানেজমেন্ট।

২. ক্রিস লিন (কলকাতা নাইট রাইডার্স) – ৯.৬ কোটি

এই তালিকায় মোটা দাম পাওয়া কেকেআরের তৃতীয় ক্রিকেটার এবং দ্বিতীয় অস্ট্রেলিয়ান। গত সাত বছরে টিমের প্রধান ভরসা গৌতম গম্ভীর অনত্র চলে যাওয়ায় এবার অজি ওপেনার ক্রিস লিনের ওপর অনেকটা নির্ভর কেকেআর। অধিনায়কত্ব পাওয়ার দৌডেও এগিয়ে ছিলেন। কিন্তু, একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ চলাকালীন কাঁধের হাড় সরিয়ে বসেছেন লিন। অস্ত্রোপচার করাতে হবে না ঠিকই, তবে সময়ে সেরেও উঠবেন না। আর খেলতে এলেও টুর্নামেন্টের শেষের দিকে পারবেন। তবে, তা নিয়েও গেরো রয়েছে। ম্যাচ ফিটনেস কতটা ফিরে পাবেন, সেটাই পরের দিক চিন্তার বিষয় হয়ে উঠবে। এবার ৯ কোটি ৬০ লক্ষ ভারতীয় মুদ্রা দিয়ে লিনকে রিটেইন করে কেকেআর।

১. সুনীল নারিন (কলকাতা নাইট রাইডার্স) – ১২.৫ কোটি

কেকেআর টিমের ভাগ্যটা সত্যিই খুব খারাপ একাদশ আইপিএলের শুরুতেই। এই তালিকায় শাহরুখের টিমের চতুর্থ ক্রিকেটার সুনীল নারিন ও দ্বিতীয় ক্যারিবিয়ান তারকা। ২০১২ সাল থেকে এই ক্যারিবিয়ান মিস্ট্রি স্পিনার কেকেআর টিমের সদস্য। দু’বার আইপিএল জয়ে নারিন বড় ভূমিকা নিয়েছেন। যাইহোক ২০১৫ সালরে মতো এবারও আইপিএলের শুরুতেই নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান স্পিনার। সেবার আইপিএলের শুরুর আগে আগে ছাড়পত্র পান। এবারও সেই সন্দেহজনক বোলিং অ্যাকশনের খাঁড়া ঝুলছে। পাকিস্তান সুপার লিগে লাহোর কলন্দর্সের হয়ে খেলার সময় এই নিষেধাজ্ঞার ফাঁস গলায় বসেছে নারিনের। ম্যাচ অফিসিয়াল তাঁর বোলিং অ্যাকশন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডের কাছে রিপোর্ট পাঠায়। এখন যা অবস্থা তাতে একাদশ আইপিএলে খেলতে গেলে নারিনকে নানারকম পরীক্ষা-নীরিক্ষা সামনে নিজের বোলিং অ্যাকশনকে বৈধ প্রমাণ করে ছাড়পত্র আনতে হবে। তবেই কেকেআর-এর হয়ে মাঠে নামতে পারবেন নারিন। বোলিং বিভাগের সেরা অস্ত্রকে ধরে রাখতে নাইট শিবির সাড়ে বারো কোটি ভারতীয় মুদ্রা খরচ করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: