সৌরভের সাফল্যের পিছনে এমন পাঁচটা গুণ যেটা অনেকেই জানেন না!

সৌরভ গাঙ্গুলি হলেন এমন একটা নাম যা বাঙালির গর্ব। সৌরভকে দেখিয়েই গোটা বিশ্বকে চোখে আঙুল দিয়ে বাঙালি বলে এই দেখো আমরা কতটা ভালো পারি। সেই সৌরভ গাঙ্গুলিকে নিয়ে তো অনেক কথা পড়েছেন, দেখেছেন। দাদার নানা কীর্তি নিয়ে রাজ্য-দেশ-বিদেশের প্রচারমাধ্যমে নানা জিনিস প্রকাশিত হয়। কিন্তু আমরা আজ দাদার এমন কিছু গুণের কথা আপনাকে বলব, যেটা হয়তো আপনার অজানা। ক্রিকেটার সৌরভ, প্রশাসক সৌরভ, ব্যবসায়ী সৌরভ, সঞ্চালক সৌরভের সফলতার কথা তো আপনারা বহু শুনেছেন। কিন্তু এই প্রতিবেদনে দাদার এমন পাঁচটা গুণের কথা বলব, যা হয়তো এই সবগুলোতে দাদাকে সফলতার শীর্ষে পৌঁছে দিয়েছে।

১) টাইম ম্যানেজমেন্ট:

সৌরভ তোমায় আজ বিকেলে আসতে হবে সোনার দোকানোর শো রুমের উদ্বোধনে। পরের কলটায় এল, বোর্ডের মিটিংয়ের আগে মুম্বইয়ে একটা মিটিংয়ের, এদিকে সিএবি-তে আবার স্টেডিয়ামের সংস্কারের আলোচনাটা না হলেই নয়, সন্ধ্যায় আবার দিদির সঙ্গে এক মঞ্চে থাকতে হবে, তারপর রাতে এটিকে-র সংবর্ধনা অনুষ্ঠান।  কাল সকালেই আবার দাদাগিরির শ্যুটিং, তারপর সানার জন্মদিন… ক্রিকেট অবসরের পর সৌরভ গাঙ্গুলির ব্যস্ততা যেন আরও বেড়ে গিয়েছে। আসলে ভূমিকাটা তোও বেড়েছে। আগে সামলাতে হত টিম ইন্ডিয়াকে। এখন সামলাতে হয় টিম ফ্যামিলি, টিম সিএবি, টিম বিসিসিআই, সঙ্গে ভালবাসার অত্যাচার, আবদার, বাধ্যবাধকতাকে। গোটা বাংলার তিনি আইকন, দেশের তিনি রত্ন। ক্রিকেট প্রশাসক থেকে কমেন্টেটার, ব্যবসায়ী থেকে বাবা। অ্যাঙ্কারিং থেকে এটিকে। একবার সৌরভের জায়গায় নিজেকে রেখে দেখুন, দেখবেন পাগল হয়ে যাবেন। কিন্তু সৌরভ এখানেই সবার থেকে আলাদা। সৌরভকে যারা কাছ থেকে দেখেছেন তারা জানেন, দাদার কাছ থেকে টাইম ম্যানেজমেন্ট সত্যি শেখার। তখন সবে ভারতীয় দলে ক্যাপ্টেন হয়েছেন। একটা বিজ্ঞাপনী শ্যুটে গিয়েছেন, এদিকে, বোর্ডের কোনও এক কর্তার ফোন, তোমাকে আসতে হবে খুব গুরুত্বপূর্ণ মিটিং। এদিকে বিকেলে প্র্যাকটিশ, সঙ্গে একগাদা কাজ। সৌরভ ছকে ফেললেন সব কিছু। এভাবে দিনের পর দিন টাইম ম্যানেজমেন্ট দিয়ে সৌরভ বাজিমাত করেছেন। গ্রেগ চ্যাপেলও বলেছিলেন, সৌরভের ফিটনেস ম্যানেজমেন্ট যতটা খারাপ, টাইম ম্যানেজমেন্ট ততটা ভাল।

২) সেন্স অফ হিউমার

রাত ১২টায় ভাজ্জির জন্মদিনে কেক কাটা হয়ে গেল। ভাজ্জি দলের একে একে সবাইকে কেক খাওয়ালেন। পরদিন সকালে দাদার কাছে এসে সরি জানিয়ে ভাজ্জি বললেন, সবাই পেলেও দাদা ঘুমোচ্ছিল বলে কেক দিতে পারিনি। সচিন,দ্রাবিড়-রা ও ভাজ্জির তখন পাশে দাঁড়িয়ে। সৌরভ মুচকি হেসে ভাজ্জিকে বললেন, ধুস, তুই কেক কাটার আগেই আমি খেয়ে নিয়েছিলাম। ঘুমনোর ভান করে ছিলাম, না হলে তোদের ভাগে কম পড়ত। এভাবে ভাজ্জির আফশোষকে মেকআপ করে গোটা দলকে সেদিন হাসিয়েছিলেন। ন্যাটওয়েস্ট ট্রফির ফাইনালে লর্ডসে সেই অতি বিখ্যাত গেঞ্জি ওড়ানো কাণ্ডের পরেও যুবরাজের সঙ্গে এরকম একটা ঠাট্টা করেছিলেন। দাদাগিরি সেটেও এরকম বেশ কয়েকবার হয়েছে, যেখানে ক্যুইজের ফাঁকে টুক করে সঞ্চালক সৌরভ এমন একটা ফুট কেটে দিলেন যাতে পরিচালক পর্যন্ত হেসে গড়িয়ে গেলেন। হিউমার হল এমন মানুষের সবচেয়ে দামি পোশাক। আর সেটা সঠিক সময়ে সঠিকভাবে যারা ব্যবহার করতে পারে তাদের সফলতা আসার পথটা সুগম হয়। যে কোনও ক্রিকেটারকে বলবে, এ কথায় বলবে সৌরভের আমলে ফলাফল কী হয়েছে সেটা রেকর্ড বলবে, কিন্তু ড্রেসিংরুমের পরিবেশটা হত সেরা। দাদার ছোট্ট দু একটা টাইমলি জোকস দলের অনেক গুমোট পরিবেশ কাটিয়ে দিত।

৩) ক্যামেরা সেন্স

সৌরভ গাঙ্গুলির ক্যামেরা সেন্সের প্রশংসা করেন সবাই। দাদাগিরির সেটেই হোক বা স্টার স্পোর্টসের স্টুডিওয় ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে কীভাবে প্রেজেনটেশন করতে হয় তাতে দাদা সেরা।

৪) সাংবাদিকের বেয়ারা প্রশ্ন সামলানো

আপনার সঙ্গে গ্রেগ চ্যাপেলের কী সম্পর্ক? আচ্ছা ধোনিকে নিয়ে আপনার কী মনে হয়? কোহলির সঙ্গে কুম্বলের বনিবনা হল না কেন? রবী শাস্ত্রী-র সঙ্গে আপনার সাপে নেউলে সম্পর্ক তবু উনি কোচ হওয়ার পরেও আপনি বিরোধিতা করলেন না কেন? আচ্ছা আপনি নাকি বিজেপি-তে যোগ দিচ্ছেন! আচ্ছা দিদি আপনার কানা কানে কী বলল! জীবনের নানা মুহূর্তে নানা কঠিন সময় এসেছে সৌরভের। যাতে সৌরভের একটা বেঁফাশ কমেন্ট ভাঙিয়ে মিডিয়ায় বড় বড় ব্রেকিং নিউজ করে টিআরপি বাড়াতে পারে। দাদাকে যারা কভার করেন তারা জানেন সাংবাদিকদের বেয়ারা প্রশ্ন কীভাবে সহজেই সামলানো যায় সেটা সৌরভ জানে। হয়তো খুব কঠিন প্রশ্ন, বললেই বিপদ। সেখানে সৌরভ সাংবাদিককে ডেকে এমন একটা উত্তর দেবেন যা লেখা যাবে না, আবার পাল্টা প্রশ্নও করা যাবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: