টেস্টের আসরে রানের বিচারে অধিনায়ক বিরাট অল্প সময়েই বহু কিংবদন্তিকে ছাপিয়ে গিয়েছেন

দিল্লির ক্রিকেটার থেকে ভারতীয় দলের অধিনায়ক হন যখন বিরাট কোহলি, তখন তাঁর বয়স ছাব্বিশ বছর। সেই কোহলি এখন ঊনত্রিশ বছরের। ২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাসে ভারত তখন অস্ট্রেলিয়া সফর করছিল। আচমকাই সিরিজের মাঝপথে দ্বিতীয় ম্যাচের পর টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়ে নেন ভারতের সর্বকালের সেরা অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি। তারপর থেকে ভারতীয় দলকে টেস্টের আসরে নেতৃত্ব দিতে দিতে বিরাট এখন অনেকটাই পরিণত। ব্যাটসম্যান হিসেবে অনেক বড় বড় নেতাকে ছাপিয়ে গিয়েছেন তিনি। দিল্লির ক্রিকেটারটি এখন দলের অন্যদের সামনে অনুপ্রেরণা। পারফরম্যান্স লেভেল কোন উচ্চতায় থাকা উচিত, তা বিরাট নিজেই দেখিয়ে দিচ্ছেন।

বছর তিনেকের ওপর ধরে টেস্টের আসরে ভারতীয় ক্রিকেট দলকে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে ৩৫টি টেস্টে ম্যাচে অংশ নিয়েছেন বিরাট। এরমধ্যে ২০টি টেস্টে ভারত জিতেছে। ৫টিতে হেরেছে আর ১০টি টেস্টে ড্র হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় এসে টেস্ট সিরিজ খোয়ানোর আগে পর্যন্ত টানা ৯টি সিরিজে ভারতীয় ক্রিকেট দল অপরাজিত ছিল। টেস্টের আসরে এমন রেকর্ড কেবলমাত্র প্রাক্তন অজি অধিনায়ক রিকি পন্টিংয়ের রয়েছে।

টেস্টের আসরে এক নম্বর টিম হয়ে ভারত প্রোটিয়াদের দেশে এসেছিল। ফলে একটা প্রত্যাশা ছিল, এবার দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে সিরিজ জেতার খরা কাটবে। কিন্তু, ভারতীয় বোলাররা তাঁদের কাজটা করে দিলেও, ব্যাটসম্যানরা ব্যর্থ হন। বিরাট প্রথম ম্যাচে ব্যর্থ হলে দ্বিতীয় ম্যাচে ১৫৩ রানের একটি ইনিংস খেলেন। এরপর তৃতীয় টেস্ট সিরিজ খোয়ানোর পর ঘুরে দাঁড়ায় ভারত। ড্র নয়, দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারায় বিরাটের ভারত। তৃতীয় টেস্টে জো’বার্গের ওয়ান্ডারার্সের পিচ ম্যাচ করানোর মতো উপযোগী ছিল কি না, তা নিয়ে কথা না বাড়ালেও পিচের অসমান্ বাউন্স দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটসম্যানদেরও সমস্যায় ফেলে। সেখানে বিরাট প্রথম ইনিংসে হাফসেঞ্চুরি করেন আর দ্বিতীয় দফার ব্যাট হাতে ৪১ রান লুটে নেন।

তৃতীয় টেস্টের তৃতীয় ইনিংসে ওই ৪১ রান করার ফাঁকে ভারত অধিনায়ক হিসেবে বিরাট কোহলি তাঁর পূর্বসুরি মহেন্দ্র সিং ধোনিকে ছাপিয়ে যান ব্যাটসম্যান হিসেবে। অধিনায়ক থাকাকালীন ধোনি ৩৪৫৪ রান করেন। সেখানে বিরাটের রান এখন ৫৭টি ইনিংসে ৩৪৫৬ রান। এই পর্বে ১৪টি সেঞ্চুরি বেরিয়ে এসেছে তাঁর ব্যাট থেকে। ওর মধ্যে আবার ৬টা ডাবল সেঞ্চুরি। হাফসেঞ্চুরির সংখ্যা ৬টি। ভারতীয় দলের নেতৃত্ব মনসুর আলি খান পতৌদি, সৌরভ গাঙ্গুলি, মহম্মদ আজহারউদ্দিনে মতো বড় বড় ব্যাটসম্যানদের কাঁধে উঠেছিল। ওই তালিকায় কিংবদন্তি ক্রিকেটার সুনীল গাভাস্কার ও শচীন তেন্ডুলকরেরও নামও রয়েছে। কিন্তু, বিরাট এই অল্প সময়েই সবাইকে ছাপিয়ে গিয়েছেন ব্যাটহাতে। যাঁদের যাঁদের নাম এই তালিকায় নেওয়া হয়েছে, তাঁরা সকলেই ভারতীয় ক্রিকেট দলকে অন্তত ২৫টি টেস্টে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

তালিকায় সবার শেষে থাকা শচীন, ভারতীয় দলকে ২৫টি টেস্টে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এবং রান করেছিলেন ২০৫৪। আর গাভাস্কার ৪৭টি টেস্টে ভারতীয় দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার ফাঁকে ৩৪৪৯ রান করেছিলেন। ধোনি ভারতীয় দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ৬০টি টেস্টে।

টেস্টের আসরে রানের বিচারে সেরা ভারত অধিনায়ক –

৭. শচীন তেন্ডুলকর


ভারতীয় দলকে ২৫টি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছেন ক্রিকেট গড। তার মধ্যে ৪৭টি ইনিংসে তাঁর মোট রান ২০৫৪। সাতটি করে শতরান ও অর্ধশতরান করেন।

৬. মনসুর আলি খান পতৌদি

ভারতকে ৪০টি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন টাইগার। ৭৩টি ইনিংসে তাঁর মোট রান ছিল ২৪২৪। ৫টি শতরান ও ১৩টি অর্ধশথরান রয়েছে এর মধ্যে।

৫. সৌরভ গাঙ্গুলি


ভারতীয় ক্রিকেট দলকে ৪৯টি টেস্টে নেতৃত্ব দেন দাদা। ৭৫টি টেস্ট ইনিংসে নেতা সৌরভের রান ছিল ২৫৬১। যার মধ্যে ৫টি শতরান ও ১৩টি অর্ধশতরান রয়েছে।

৪. মহম্মদ আজহরউদ্দিন

জাতীয় দলকে ৪৭টি টেস্ট নেতৃত্ব দেওয়া আজহর ৬৮টি ইনিংসে ২৮৫৬ রান করেছিলেন। ৯টি করে শতরান ও অর্ধশতরান করেন এই পর্বে।

৩. সুনীল গাভাস্কার


৪৭টি ম্যাচে দেশকে নেতৃত্ব দেওয়া গাভাস্কার ৩৪৪৯ রান করেছিলেন ৭৪টি ইনিংসে। এর মধ্যে ১১টি শতরান ও ১৪টি অর্ধশতরান রয়েছে।

২. এমএস ধোনি

ভারতের সর্বকালের সেরা অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি ৬০টি টেস্ট ম্যাচে ভারতকে নেতৃত্ব দেন। এর মধ্যে ৯৬টি ইনিংসে তাঁর সংগ্রহ ৩৪৫৪ রান। এই পর্বে ৫টি শতরান ও ২৪টি অর্ধশতরান করেছিলেন ধোনি।

১. বিরাট কোহলি


৩৫টি ম্যাচের ৫৭ ইনিংসে নেতা বিরাটের সংগ্রহ ৩৪৫৬ রান। ১৪টি শতরান ও ৬টি অর্ধশতরান করেছেন এর মধ্যে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: