দক্ষিণ আফ্রিকায় টেস্টে খারাপ হারের পর কোন ৬টা কারণের জন্য বিরাট বদল হল ভারতের

টেস্ট সিরিজে খারাপভাবে হারের পর একেবারে যেন মিডিস টাচে বদলে গেল টিম ইন্ডিয়া। রাজা মিডাস যেমন যে কোনও জিনিসকে ছুঁলেই সোনা হয়ে যেত, ঠিক তেমনই হল ওয়ানডে সিরিজে। কিন্তু কেন এমন ভোল বদল! কী এমন হল যাতে টেস্ট সিরিজে ভরাডুবি-র পর ওয়ানডে সিরিজে এত বড় একটা জয় এল! জানুন সম্ভাব্য আধ ডজন কারণ–

৬) টেস্ট সিরিজের হারটা তাঁতিয়ে দিয়েছিল কোহলিকে


টেস্ট সিরিজে প্রথম দুটো টেস্টে হারের পর বিরাট কোহলিকে অনেক খারাপ সমালোচনা শুনতে হয়েছিল। কোহলিকে বলা হয়েছিল, আসলে তিনিও বাকিদেরই মত। ঘরের মাঠে সফল, বিদেশে ব্যর্থ। এ তকমাটা কোহলির গায়ে অন্যায়ভাবে লেবেল সেঁটে দেওয়া হচ্ছিল। অথচ কোহলি কিন্তু নিজে টেস্ট সিরিজে দারুণ খেলেছিলেন। টেস্ট সিরিজে সর্বাধিক রানসংগ্রহকারী হয়েও কোহলিকে এসব শুনতে হচ্ছিল। কোহলিকে রাগিয়ে দিলে যে ভয়ঙ্কর হয় সেটা এই ওয়ানডে সিরিজেই বোঝা গেল। যে দলটা এই সিরিজের আগে টানা ১৭টা ওয়ানডে-তে জিতে রেকর্ড গড়েছিল, তারাই কি না তাদের দেশের মাটিতে সবচেয়ে কুত্॥সিত হারটা হারল। জোহানেসবার্গ টেস্টে জয়ের পর কোহলি সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছিলেন, এই জয়টা সান্তনার ছাড়া আর কিছু নয়। তবে আমরা ঘুরে দাঁড়াবই সফরের বাকি সিরিজগুলোতে। তারপর যেভাবে ঘুরে দাঁড়ালেন সেটা দেখে গোটা বিশ্ব চমকে গেল। যে দলটা কয়েকটা সপ্তাহ আগে প্রথম দুটো টেস্ট জঘন্য হারাল তারাই কিনা ৬ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ এক ম্যাচ আগেই জিতে ফেলল। তাও আবার জেতা মানে ওই কোনওরকমে নয়, বিরাট ব্যবধানে।

সিরিজে ভারতের জয়ের হিসেব-
৬ ম্যাচের সিরিজে প্রথম পাঁচ ম্যাচে এখনো পর্যন্ত ভারত ৪-১-এ এগিয়ে
১ম ম্যাচ- কিংসমিড,ডারবান– ৬ উইকেটে জয় বিরাট ব্রিগেডের৷
২য় ম্যাচ- সুপার স্পোর্টস পার্ক, সেঞ্চুরিয়ন- ৯ উইকেটে জয় ভারতের৷
৩য় ম্যাচ- নিউল্যান্ডস, কেপটাউন- ১২৪ রানে জয় টিম ইন্ডিয়ার৷
৫ম ম্যাচ – সেন্ট জর্জ পার্ক, পোর্ট এলিজাবেথ- ৭৩ রানে জয় ভারতের৷

৫) পিচ আর পরিবেশ

টেস্টের সঙ্গে ওয়ানডে সিরিজের পিচের আকাশপাতাল ফারাক হয়ে গেল। যে কেপটাউনের পিচে টেস্ট সিরিজে আগুন ছুটছিল, সেখানেই ওয়ানডে সিরিজে যেন ফুল ছুটল। রাবাদা, লুঙ্গি-রা যে ডারবানে পেসে ছারখার করছিলেন, সেখানেই ওয়ানডে সিরিজে কোনও সহায়তাই পেলেন না। পরিবেশটাও বড় বদল হল। সকাল ৯টা থেকে টেস্ট শুরু হওয়ায় দক্ষিণ আফ্রিকায় যে হাওয়া বয়, কিছুটা মেঘলা আকাশ, সেসব ওয়ানডে সিরিজে ছিল না। লাল বল আর সাদা বলে খেলার ফারাকটাও বড় হয়ে দেখা দিল

৪) টেস্ট সিরিজের শেষ ম্যাচে জয়টা


টেস্ট সিরিজে হারের পর জোহানেসবার্গে তৃতীয় টেস্টে জয়টা ভারতীয় দলকে একটা এমন আত্মবিশ্বাস এনে দিয়েছিল, যেটা ওয়ানডে-তে খুব কাজে লাগে। কেপটাউন, ডারবান-টেস্ট সিরিজে দুটো জায়গাতেই ভারত একটা সময় ভাল জায়গায় ছিল, কিন্তু আত্মবিশ্বাসের অভাবভুগে ভরাডুবি হয়। কিন্তু ওয়ানডে সিরিজে এসে সেটা বদলে যায়। ইয়েস উই ক্যান-কথাটা জোহানেসবার্গ টেস্ট জিতেই টিম ইন্ডিয়া-র মনে ঢুকে গিয়েছিল।

৩) চাহাল-কুলদীপদের দলে যোগ দেওয়া আর ধোনি-র উপস্থিতি

টেস্টে অশ্বিন একাই ছিলেন স্পিন বিভাগে। খারাপ বল করেননি। কিন্তু ওয়ানডে সিরিজে এসে কুলদীপ যাদব- যোগবেন্দ্র চাহাল এমন বোলিং করলেন যে সব বদলে গেল। ওয়ানডে সিরিজে আসল ব্যবধানটা গড়ে দিলেন কুলদীপ-চাহাল-ই। গোটা সিরিজ জুড়েই ভেল্কি দেখালেন চাহাল-কুলদীপ।

২) টিম ইন্ডিয়ার প্রিয় ফরম্যাট আর


এটা নি:সন্দেহে বলা যায় টিম ইন্ডিয়া-র কোর টিমের বিচারে ওয়ানডে ক্রিকেটের দলটাই সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী। একবার ভাল করে দেখুন টিম ইন্ডিয়াকে। টেস্টে ওপেন করতে নামেন-শিখর ধাওয়ান, মুরলী বিজয়। ওয়ানডে-তে- ধাওয়ান, রোহিত। এবার ধাওয়ানের ব্যাপারটা বিচার করুন। শিখর ধাওয়ান টেস্টে রান পান না এটা বড় বদনাম হয়ে যাবে। তবে বিদেশেকর মাটিতে টেস্ট রান পান না এটা অনেকটা সত্যি। আসলে বল নড়লে, পিচে পেসাররা সাহায্য পেলেই গব্বর অনেকটা তেরা কেয়া হোগা-র… মত অবস্থায় ভোগেন। বোলিংয়েও তাই বুমরা অনেক ভাল ওয়ানডে বোলার। উইকেটটেকার ভূবি দুই ফরম্যাটেই সফল ঠিকই, কিন্তু ওয়ানডে-তে একটু এগিয়ে। উইকেটকিপার হিসেবে টেস্টে ঋদ্ধিমান বা পার্থিব, আর ওয়ানডে-তে ধোনি। টেস্টে এবার রোহিত শর্মা বোঝা হয়ে যান। সেই রোহিতই ওয়ানডে-তে ভয়ঙ্কর। এই এতগুলো ব্যাপার মাথায় রাখলে বলতে হয় প্রিয় ফরম্যাটে ফিরেই দলটার ভোল বদলে গেল।

১) মিনি ইন্ডিয়ায় খেলার সুযোগ


ওয়ানডে সিরিজে এমন পিচ আর পরিবেশে খেলা হল যা দক্ষিণ আফ্রিকাকে অনেকটা মিনি ইন্ডিয়া বানিয়ে দিল। কেপলার ওয়েসলস বলছিলেন, ওয়ানডে সিরিজে ভারত অসাধারণ খেলেছে, তবে এটাও ঠিক দক্ষিণ আফ্রিকাকে খেলতে হয়েছে মিনি ইন্ডিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: