ক্যান্সার রোগীদের জন্য যুবরাজ যে কথাটা বললেন, সেটা শুনলে চোখে জল আসবে আপনার

দেশকে বিশ্বকাপ জেতানোর মহানায়ক তিনি। ওভারে ৬টা ছক্কা সহ ক্রিকেটের নানা রেকর্ড তিনি ভেঙেছেন, গড়েছেন। দেশের সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডারের তালিকাতেও তাঁকে রাখা হয়। তবে যুবরাজ সিংয়ের অন্য একটা বড় পরিচয়ও আছে। যে পরিচয়টায় তিনি বিশ্বের বহু মানুষের বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা। ক্যান্সারকে হারিয়ে মৃত্যুমুখ থেকে ফিরে এসে যুবরাজ সিং সবকিছুকে হারয়ে দিয়েছিলেন। ক্যান্সারে আক্রান্ত ন্যাড়া মাথার যুবরাজ যখন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন, তখন গোটা দেশ তার জন্য কাঁদছে। ডাক্তাররাও বলেছিলেন, বেঁচে থাকতে হলে বড় কঠিন লড়াই লড়তে হবে যুবরাজকে। যুবরাজ লড়েছিলেন। ক্যান্সারের মত মারণ রোগের বাউন্সারকে ছক্কা হাঁকয়ে জীবনে ফিরে এসে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সেঞ্চুরি করেছেন, দলকে জিতিয়েছেন। ক্যান্সার দিবসে যুবরাজই দেশের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা লক্ষ লক্ষ ক্যান্সার পীড়িত মানুষের। আর এমন দিনে যুবি এমন এক টুইট করলেন যাতে ক্যান্সার আক্রান্ত মানুষ ও তাদের পরিবারের লোকেরা মানসিক জোর পেতে পেরানে। টুইটারে যুবরাজ লিখলেন, ইয়েস উই ক্যান।

তারপর যুবি লেখেন, কখনও এটা অনেকটা দেরী হয়ে যায় না, কখনও এটা এতটা খারাপ হয়ে যায় না, কখনও তুমি এতটা বুড়ো হয়ে যাও না। অসুস্থতা থেকে ঘুরে দাঁড়াও। আবার শুরু কর। প্রতি বছর প্রায় ৯০ লক্ষ গরীব মানুষের পরিবারের সদস্য মারা যান। ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমরা সবাই একসঙ্গে লড়বে, কারণ হ্যাঁ আমরা পারি।

প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের অক্টোবর মাসে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছিলেন যুবি। যুবরাজ যে ধরনের ক্যান্সারে ভুগেছিলেন সেটি হল টিউমারটি ম্যালিগন্যান্ট। যেহেতু যুবরাজের ক্যান্সার প্রথম স্টেজেই ধরা পড়ায় ৯সপ্তাহ ধরে কেমোথেরাপি চলার পর যুবরাজ সেরে ওঠেন ।

২০১১ বিশ্বকাপের কথা বললেই নায়ক হিসেবে সামনে চলে আসে যুবরাজের নাম। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই ব্যাটে বলে ছিলেন এককথায় অনন্য, ৩৬২ রানের পাশাপাশি নিয়েছিলেন ১৫ উইকেট। ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে তাই একপ্রকার অমরই হয়ে গেছে যুবরাজের নাম।

কিন্তু স্বপ্নের ওই বিশ্বকাপই যুবরাজকে উপহার দিল জীবনের দুঃসহ যন্ত্রণাময় কিছু সময়। বিশ্বকাপ চলাকালেই শারীরিক অসুস্থতা দেখা দিল যুবরাজের। রাতে হঠাৎ হঠাৎ তীব্র কাশিতে ভেঙ্গে যেত ঘুম, শ্বাস নিতে গেলে দম বন্ধ হয়ে আসত। চাইলে ওই সময়েই খেলা বন্ধ করে হাসপাতালে ভর্তি হতে পারতেন, কিন্তু ছোট থেকেই তীব্র আকাঙ্ক্ষা মনে নিয়ে বড় হওয়া যুবরাজ মাঠের লড়াই আর জীবনের লড়াই দুটোই একসাথে চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন।

বিশ্বকাপ শেষে বুকে স্ক্যান করা হল, আর তখনি সামনে এল নির্মম সত্য, ভারতের বিশ্বকাপ জয়ের নায়কের বাম ফুসফুসে বাসা বেঁধেছে প্রাণঘাতী ক্যান্সার! যুবরাজ নিজে একথা বিশ্বাসই করতে চাননি, পাত্তা দেননি রোগকে। ক্যান্সারকে পাত্তা দিলে যে ক্রিকেটকেই ছেড়ে দিতে হত!

শুরুতে জানা যায়নি কিছুই, কিন্তু আস্তে আস্তে বেরিয়ে আসতে থাকে ভয়ানক সব তথ্য। ডাক্তাররা নিজেরাই পরে জানিয়েছিলেন, বিশ্বকাপ চলাকালে যেকোনো সময়েই হার্ট অ্যাটাক করে মারা যেতে পারতেন যুবরাজ। প্রায় ১৪ সেন্টিমিটার সাইজের বিশাল এক টিউমার যে তাঁর ধমনী সংকুচিত করে ফেলেছিল! রক্ত চলাচলে বাধা দেখা দেয় যুবরাজের, তা সত্ত্বেও একের পর এক ম্যাচজয়ী পারফরম্যান্স করে গেছেন তিনি।

শেষ পর্যন্ত সকলের প্রার্থনায় আর নিজের মনোবলের জোরে ক্যান্সারকে পরাজিত করে ফেরত আসেন যুবরাজ। কিন্তু বিছানায় শুয়ে অলস সময় কাটানোর মানুষ তো নন তিনি! অন্য অনেক মানুষ যেখানে ক্যান্সার ধরা পরার পরেই হাল ছেড়ে দিতেন, যুবরাজ সেখানে ব্যাট হাতে অনুশীলনে নেমে পরলেন! জীবনের ঝুঁকি দেখা দিতে পারত, কিন্তু যুবরাজ তোয়াক্কা করেননি। যে জীবনে ক্রিকেট নেই, সে জীবন যে কোন জীবনই নয় তাঁর কাছে!

অদম্য সাহসিকতার এই মানুষটির সামনে তখন অসংখ্য চ্যালেঞ্জ। শরীরকে আবার আগের মত ফিট করে তোলা, ব্যাটে রান এনে জাতীয় দলে জায়গা করে নেয়া- সব বাধাই তিনি পেরিয়ে গেছেন অনায়াসে। কঠিন এই পরিশ্রম আর আত্মত্যাগের পুরস্কার হিসেবে ফিরলেন ২০১২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দলে। ক্যান্সার কাটিয়ে ফেরার প্রথম ম্যাচেই করেছিলেন ৩৪ রান, ভারতের হয়ে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারিও হয়েছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: