যুবরাজ, রায়নাকে ব্রাত্য রাখাটা যে পাঁচটা কারণে হাস্যকর

যুবরাজ সিং, সুরেশ রায়নাকে কিছুতেই সুযোগ দিচ্ছেন না নির্বাচকরা। সামনেই শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ওয়ানডে-টি-২০ সিরিজ। শোনা যাচ্ছে বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারকে বিশ্রাম দিয়ে বেশ কয়েকজনকে দেখে নেওয়া হবে। আমরা বলছি সেই তালিকাতে রাখা হোক যুবরাজ, রায়নাকেও

দেখে নিন কেন কী কীরণে যুবি, রায়নাদের রাখা উচিত-

৫) ইয়ো ইয়ো ‘হানি’ সিং নয়, ফিটনেস টেস্টে ফেল:

আরো পড়ুন-দেখে নিন মাঠে কোন পাঁচবার ধোনি রেগে গেছিলেন

রবী শাস্ত্রী-র আমলে চালু হয়েছে এই হানি সিংয়ের নামের সঙ্গে মিল থাকা এই ফিটনেস টেস্টের। গালভরা নাম থাকলে হবে কী, অনেকেই এই টেস্টটা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। এই ফিটনেস টেস্টে পাশ করতে না পেরেই নাকি যুবরাজ, রায়না-রা জাতীয় দলে সুযোগ পাচ্ছেন না। কিন্তু কী এই ফিটনেস টেস্ট! ইয়ো ইয়ো এন্ডুরেন্স টেস্ট না যত ঢোল বাজছিল, তার সব ঢোল ফাটিয়ে দেন আশীষ নেহরা। যে ফিটনেস টেস্টে পাশ না করলে জাতীয় দলে সুযোগ মেলে না, সেই ফিটনেস টেস্টে নেহরার মত ক্রিকেটাররাও পাশ করে গিয়েছেন।

আরো পড়ুন-এই বার বিসিসিআই যা করলো যুবরাজের সাথে, তা আপনার কল্পনার বাইরে!

ইয়ো ইয়ো টেস্টে ২০ মিটারের একটি দৈর্ঘ্যে দৌড়তে হত। ১৩, ১৪ রেটিংয়ে পৌঁছলে নিজের গতিবেগ বাড়াতে হত। টিম ইন্ডিয়া ১৬.১ মাপ নিজেদের জন্য নির্ধারণ করেছিল। যা খুব দ্রুত ১৬.৫ পর্য়ন্ত বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। নেহরা এটা হাসতে হাসতে পাশ করে বলছেন প্রথমে ভেবেছিলাম কী না কী টেস্ট। তারপর দেখলাম এটা খুব সহজ একটা টেস্ট। আশিস নেহরা জানিয়েছেন তাঁর কাছে ইয়ো ইয়ো টেস্ট বিষয়টিই নতুন নয়। ২০০২-০৩ সালে সৌরভের জমানাতেও এইরকম বিষয় হত। তখন টেস্টটির নাম ছিল ‘ব্লিপ টেস্ট’। এবার আপনিই বিচার করুন। যে ফিটনেস টেস্টে নেহরা পাশ করে যান, সেটা যুবরাজ পাশ করবেন না। জুনে যখন যুবরাজ শেষবার দেশের জার্সিতে খেলেন তখনও তাঁর ফিটনেস ভাল চিল না, সেটা কেউ বললেনি। বরং দলের যে কোনও ফিট ক্রিকেটারকে পাল্লা দিয়ে যুবি ফিল্ডিংয়ে নজর কেড়েছিলেন। রায়নার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।

আরো পড়ুন-ধোনিকে সুযোগ দেওয়া হলে দেশের এই পাঁচ তারকা ক্রিকেটার ব্রাত্য কেন!

৪) ঘরোয়া ক্রিকেটে ফর্ম

আরো পড়ুন-ছয় ভারতীয় ক্রিকেটার, যারা বহু মূল্যবান ঘড়ি পড়েন!

হ্যাঁ, এটাও একটা ব্যাপার। ঘরোয়া ক্রিকেটে না ফর্মে নেই যুবরাজ, রায়নারা। এটাও ঠিক নয়। ঘরোয়া ক্রিকেটে ফর্মের বিচারে যদি ক্রিকেটারকে দলে ফেরাতে হয় তাহলে গৌতম গম্ভীর এতদিন বাইরে বসে থাকতেন না, উথাপ্পাকে এতগুলো বছর শুধু আইপিএলে খেলে কাটাতে হত না। যুবি, রায়নার ব্যাটিংয়ে বড় রান আসেনি ঠিকই, কিন্তু সেই টাচ আছে। বিরাট কোহলি-রবী শাস্ত্রী ২০১৯ বিশ্বকাপের আগে সবাইকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখে নিতে একবার করে দেখে নিতে চান। সেটা দেখানোর মত ফর্ম যুবি, রায়নাদের রয়েছে।

আরো পড়ুন-দেখে নিন এমন পাঁচ ভারতীয় ক্রিকেটার যারা বিশ্ব একাদশ দলে স্থান করে নেবার যোগ্য

৩) সুযোগ পাওয়াটা সবার অধিকার

আরো পড়ুন-বিশ্বের সেরা ১০ হ্যান্ডসাম ক্রিকেটারের তালিকা

হঠাত্॥ করে যেমন কেউ বাজে হয়ে যায় না। তেমনই হঠাত্ করে কাউকে সুযোগও বন্ধ করে দেওয়া উচিত নয়। কেদার যাদব, মনীশ পান্ডে-রা যদি সুযোগ পেতে পারেন তাহলে একেবার যুবরাজ সিং, সুরেশ রায়নাকেও প্রমাণ করতে দেওয়ার সুযোগ না দিয়ে কার লাভ!

আরো পড়ুন-যুবরাজের মা-য়ের বিরুদ্ধে কী বলেছিলেন প্রাক্তন গার্লফ্রেন্ড কিম শর্মা!

২) যুবিকে আর কত প্রমাণ করতে হবে

আরো পড়ুন-জানেন বিয়ের আগে ভারতীয় ক্রিকেটারদের স্ত্রীদের পেশা কি ছিল

বারবার তিনি ফিরে এসেছেন। ২০১১ বিশ্বকাপের আগে যুবরাজকে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। তিনি ম্যান অফ দি টুর্নামেন্ট হয়ে দেশকে বিশ্বকাপ এনে দিয়েছিলেন। তারপর ক্যান্সারে আক্রন্ত হয়ে হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে ফিরে আসেন। শুধু জীবনে নয়, মাঠেও ফিরে আসেন। দেশকে জেতান। চলতি বছরেই চার বছর পর জাতীয় দলে ফিরে ১৫১ রানের স্মরণীয় একটা সেঞ্চুরি করেছিলেন। এরপরেও কী তাঁর একটা সুযোগ পাওয়ার দাবিতে ভুল!

আরো পড়ুন-জানেন কি কোন ৫ জন ক্রিকেটারের উচিত মহেন্দ্র সিংহ ধোনির উপর কৃতজ্ঞ থাকা?

১) রায়না শেষ টি২০ ম্যাচে কত রান করেছিল জানেন

আরো পড়ুন-অশ্বিনের সর্বকালের সেরা একাদশে ধোনির জায়গা নেই, বরং দুই পাকিস্তানি গ্রেট

টি০২- তে তিনি দেশের সেরা ম্যাচ উইনার সেটা এখনও বলা যায়। কোহলিরা টেস্ট, ওয়ানডে-র পর টি-২০তে-ও আইসিসি Ranking-এ শীর্ষে উঠতে চায়। কিন্তু টি-২০-তে ফিনিশারের অভাব রয়েছে। সেটা রায়না অনায়াসে করতে পারেন। যে কারণে ধোনি এখনও টি০২ দলে রয়েছেন, শুধু সেই কারণেই রায়না-যুবিও পুচকে ফরম্যাটের ক্রিকেটে অনায়াসে দলে থাকতে পারেন। তবে রায়নাকে যদি আর জাতীয় দলের জার্সি পরার সুযোগ না দেওয়াটা সেটা একটা কারণে অবাক করা হয়ে থাকবে। রায়না তার শেষ টি-২০ ম্যাচে করেছেন ৬৩ রান। হ্যাঁ, চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচে রায়না ৫৭ বলে ৬৩ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলেছিলেন। রায়না সেই ইনিংসে মেরেছিলেন ৫টা ছক্কা। সেই ম্যাচে ভারত জিতেছিল ৭৫ রানে। সেটাই রায়নার শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ। এবার আপনিই বিচার করুন যে খেলোয়াড় তাঁর কেরিয়ারের শেষ ম্যাচটায় দলের পক্ষে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস খেলেন, তাও আবার সেটা টি-২০ ম্যাচে তাঁকে বাদ দেওয়ার পর তিনি কি সুযোগ পাওয়ার যোগ্য নন!

আরো পড়ুন-যুবরাজকে শেষ ম্যাচ খেলার প্রস্তাব; সে প্রস্তাব পেয়ে যুবি কি করলেন জানেন?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: