ঘরোয়া ক্রিকেটে রানে ফিরলেন যুবরাজ, বড়ো রান করেও দিল্লির হার আটকাতে ব্যর্থ গম্ভীর

শেষ ওভারে রান আটকানোর নিজের স্বভাবকে জারি রাখলেন সিদ্ধার্থ কৌল, যা তিনি ২০১৭র আইপিএলে শিখেছিলেন। এবং পাঞ্জাবকে সফল নেতৃত্ব দিয়ে দিল্লির বিরুদ্ধে ২ রানের সরাসরি জয় তুলে নিলেন তিনি। শেষ ওভারে সিদ্ধার্থকে ১৩ রান বাঁচাতে হত, এবং সেই সময় ক্রিজে ছিলেন দিল্লির দুই ব্যাটসম্যান ললিত যাদব এবং পবন নেগী, কিন্ত এই বোলার তার কাজটি বেশি সফলভাবেই করলেন। আগে ব্যাট করতে পাঠানোয় পাজ্ঞাব শুরুটা দারুণভাবে করে, কারণ ওপেনার মনন ভোরা এবং মনদীপ সিং দলকে দারুণভাবে এগিয়ে নিয়ে যান।

পবন নেগির বলে মিড অফে নভদীপ সাইনির হাতে ক্যাচ দিয়ে মনদীপের আউট হওয়ার আগে, এই দুই ওপেনার মিলে ৫.৪ ওভারে প্রথম উইকেট জুটিতে ৫৪ রান করেন। তিন নম্বর ব্যাটসম্যান হিসেবে আনমোলপ্রীত সিং শুরু থেকেই তার ইনিংসকে অ্যাকসিলেরেট করতে শুরু করেন এবং একটি লফটেড শট খেলার চেষ্টায় পবন নেগীর বলে নিতিশ রানার হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। এরপরই ক্রিজে আসেন যুবরাজ সিং। যাকে দর্শকরা অভিনন্দন জানিয়ে চিয়ার করেন। একদিকে যুবরাজ পাজ্ঞাবের ইনিংসকে দাঁড় করানোর চেষ্টা করতে থাকেন এবং অন্যদিকে মনন ভোরা তার বড়ো শট মারা চালু রাখেন। তেজস বরোকা যিনি এই ম্যাচে দিল্লির হয়ে অভিষেক করেন মনন ভোরার প্রধান টার্গেট ছিলেন।

তার দ্বিতীয় ওভারে ভোরা তাকে পরপর দুটি ছক্কা হাঁকান। পিছিয়ে ছিলেন না যুবরাজও, তিনিও এই বোলারকে একবার মাঠের বাইরে পাঠান। বরোকা তার দ্বিতীয় ওভারে ২৩ রান দেন এবং শেষ পর্যন্ত তিনি তার বোলিং কোটায় দেন ৩২ রান। পাজ্ঞাবের ১৭১ রান তাড়া করতে নেমে দিল্লির হয়ে ওপেন করতে নামেন ঋষভ পন্থ এবং গৌতম গম্ভীর। তাড়াহুড়ো না করে এই দুজনে মিলে ব্যাপারটাকে সহজ করে নিয়ে ধীরে সুস্থে রান করতে শুরু করেন। মাঝে ঋষভ বাউন্ডারি মারতে শুরু করেন। দিল্লির ইনিংসের ১০ ওভারে দিল্লির দুই ওপেনারের মধ্যে কনফিউশন দেখা দেওয়ায় ঋষভকে আউট হয়ে প্যাভিলয়নে ফিরতে হয়। এটা খুবই শক্ত সিঙ্গলস ছিল, কিন্তু অনমোলপ্রীত সিংয়ের স্ট্রেট থ্রো উইকেটকীপার অভিষেক গুপ্তার পক্ষে যথেষ্ট ছিল ঋষভের উইকেটে পৌঁছোনোর আগেই স্ট্যাম্প ভেঙে দেওয়ার। এরপরই নিতিশ রানা ক্রিজে এসে তার অভিজ্ঞ সতীর্থর সঙ্গে যোগ দেন এবং আউট হওয়ার আগে ২৯ রানের যোগদান করেন। পাঁচ ওভারে দিল্লির প্রয়োজন ছিল ৫০ রান, সেই সঙ্গে ক্রিজে ছিলেন গৌতম গম্ভীর। সেখান থেকে এই ম্যাচকে সি সর মত দুই দলের পক্ষেই ঝুঁকতে দেখা যায় এবং শেষ ওভার পর্যন্ত গড়ায়। কিন্তু সিদ্ধার্থ আরও একবার তার বোলিংয়ের শক্তি দেখান এবং শেষ ওভারে ম্যাচ দিল্লির হাত থেকে ছিনিয়ে নেন। তবে এই ম্যাচের আসল প্রাপ্তি ভারতীয় দল থেকে ব্রাত্য দুই অভিজ্ঞ প্লেয়ারের রানে ফেরা। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে আশা থাকলেও নির্বাচিত হন নি যুবরাজ। কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছিল ইয়ো ইয়ো টেস্ট পাশ করা সত্ত্বেও যুবরাজ ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় অংশ না নেওয়া। এবং গৌতম ২০১৭-১৮ তে ধারাবাহিকভাবে রান করে গেলেও কোনো এক অজ্ঞাত কারণে দলে নির্বাচিত হন নি। দুজনেই এই ম্যাচে হাফ সেঞ্চুরি করেন, যেখানে পাজ্ঞাবকে নির্ভরতা দিয়ে যুবরাজ শেষ পর্যন্ত ৫০ রানে অপরাজিত থাকেন সেখানে পাঞ্জাবের রান তাড়া করতে নেমে গম্ভীর ৬৬ রান করেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: পাঞ্জাব ১৭০/৩,( মনন ভোরা ৭৪, যুবরাজ সিং ৫০*; পবন নেগি ২-৮)

দিল্লি ১৬৮/৪ (গম্ভীর ৬৬*, ঋষভ পন্থ ৩৮; সন্দীপ শর্মা ১-২৪) দিল্লি ২ রানে পরাজিত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: