অবসরের পর কি করবেন ঠিক করে ফেলেছেন যুবি

এই মুহূর্তে ভারতীয় ক্রিকেট দলের বাইরে থাকা তারকা ক্রিকেটার যুবরাজ সিংকে দলের ফেরানোর ব্যাপারে নির্বাচকদের মধ্যে কোনও ইচ্ছেই দেখা যাচ্ছে না। গত জুনে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর সেই যে যুবিকে বাইরের পথ দেখানো হয়েছে, তারপর থেকে অবহেলার পর্ব দীর্ঘয়িত হয়েই চলেছে। প্রথমে বলা হতে শুরু হয়, যুবরাজকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। এরপর বলা হলো, যুবির ফিটনেস নেই। পরের অজুহাত যুবরাজ ইয়ো-ইয়ো টেস্টে পাশ করেননি। আর যখন ইয়ো-ইয়ো টেস্টে পাশ করলেন, তখন বলা হচ্ছে, যুবরাজ ম্য়াচ প্র্যাক্টিসের মধ্যে নেই। যদিও যুবি জানিয়ে রেখেছেন, ২০১৯ বিশ্বকাপ খেলার লক্ষ্যে লড়াই তিনি চালিয়ে যাবেনই।

এবার কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের হয়ে আইপিএলে খেলবেন ভারতের সর্বকালের অন্যতম সেরা ম্য়াচ ফিনিশার। লক্ষ্য জাতীয় নির্বাচকদের নিজের গুরুত্বটা ভালো করে বুঝিয়ে দেওয়া। দেখানো যে এখনও শেষ হয়ে যাননি তিনি। ভারতীয় ক্রিকেটকে দেওয়ার জন্য অনেক ক্রিকেট বাকি রয়েছে তাঁর মধ্যে। তবে, ২০১৯ বিশ্বকাপই যুবির কেরিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ হতে চলেছে, এনিয়ে কোনও দ্বিমত নেই। দলে আসা, বাদ যাওয়া, আবার ফেরা, ছিটকে যাওয়ার এই সময়ের মধ্যে দেড় দশকেরও বেশি সময় অতিবাহিত হয়ে দু’দশক হতে চলল।

কেরিয়ারে যখন মধ্য গগণে বিরাজ করতেন সেই সময় ক্যান্সারের থাবা যুবরাজের কেরিয়ারের অনেকটা সময় কেড়ে নিয়েছে। যদি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ না আসে, তাহলে আগেভাগেই অবসর নিয়ে নেবেন কি না, সেই ইঙ্গিত না দিলেও, অবসরের পর কি করবেন, সেটা ভালোভাবেই পরিকল্পনা করে নিয়েছেন ভারতের সর্বকালের সেরা অন্যতম বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। ধারাভাষ্যকার হওয়ার বিন্দুমাত্র ইচ্ছে নেই যুবির। বরং সমাজসেবায় নিজের বাকি জীবনটা উৎসর্গ করতে চান। নিজের সংস্থায় ইউউইক্যান’কে সঙ্গে নিয়ে ক্যান্সার রোগীদের পাশে দাঁড়াতে চান যুবরাজ। আর চান, অসহায় বাচ্চাদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে। দেশে স্পোর্টিং কালচার গড়ে তুলতে ছোটো ছোটো বাচ্চাদের কোচিং দিতে চান যুবি।

ক্রীড়া বিষয়ক সংবাদ মাধ্যমকে সাক্ষাৎকারে ২০০৭ ও ২০১১ বিশ্বকাপজয়ী ধোনি ব্রিগেডের অন্যতম সদস্য বলেন, ”ধারভাষ্যকারের কাজ আমার দ্বারা হবে না। ভবিষ্যতে ক্যান্সারের বিষয় নিয়েই কাজ করব। ছোটো বাচ্চাদের সমর্থন দিতে আমার খুব ভালোলাগে। তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করার ইচ্ছা আছে। কোচিং নিয়ে ভাবছি। যাদের সাহায্য দরকার সেই সমস্ত বাচ্চাদের সাহায্য করতে চাই। ওদের খেলাতে যুক্ত করতে চাই। শিক্ষা ও খেলাকে ওদের জীবনের অঙ্গ করে তুলতে শেখাব। কারণ, খেলার মতো পড়াশোনাও সমান দরকারী। দু’টি বিষয়েই মনোযোগ দিত হবে। শিক্ষাকে জলাঞ্জলি দিয়ে  খেলাকে বড়ো করে দেখলে হবে না।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: