জিতের এই হাফ ডজন নায়িকার কথা মনে আছে! চ্যালেঞ্জ এইসব সুন্দরী নায়িকাদের অনেকের কথাই ভুলে গিয়েছেন

জিত মানেই বিপরীতে শুধু কোয়েল, শুভশ্রী, নুসরত, শ্রাবন্তীরা নন। দেখে নিন জিত-এর বিপরীতে অভিনয় করা এমন ৬ নায়িকাকে যাদের কথা আপনি হয়তো ভুলেই গিয়েছেন।

৬) রেশমী ঘোষ

২০০২ সালে মিস ইন্ডিয়া আর্থ-র শিরেোপা জেতা রেশমী মুম্বইতে বেশ ভালভাবেই কাজ শুরু করেছিলেন। মিস ইন্ডিয়া হওয়ার পরের বছরেই জিতের বিপরীতে ‘আমার মায়ের শপথ’ সিনেমায় অভিনয় করেন রেশমি। তবে সেটা দারুণ কিছু চলেনি। এরপর বেশ কিছু বিজ্ঞাপন ও বলিউডে বি গ্রেড সিনেমায় অভিনয়ের পর রেশমি চলে যান ছোট পর্দায় সেখানে ‘কিউ কি শাস ভি কহি বহু থি’,মাতা কি চৌকি, সাবিত্রী- সহ বহু সুপারহিট সিরিয়াল অবিনয় করেন। ২০১২ সালে ফর্ম সিডনি উইথ লাভ, ২০১৪ সালে বাজার কি হুসন, তারপরের বছর বেনারস-১৯১৮ এ লাভ স্টোরিতে অভিনয় করেন। সব মিলিয়ে জিত-এর সঙ্গে বড় পর্দায় শুরু করে মুম্বইয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেন। অবশ্য বড় পর্দায় সেভাবে চলেননি। অনেকেই বলেন, বাঙলা সিনেমা করলেন বেশি জনপ্রিয়তা পেতেন। ২০১৩ সালে কোয়েল মল্লিক যেদিন নিয়ে করেছিলেন, ঠিক সেদিনই রেশমী বিয়ে করেছিলেন। জিত সেই বিয়েতে গিয়েছিলেন। রেশমী স্বামী হলেন অভিনেতা সিদ্ধার্থ বাসুদেব। রেশমি-সিদ্ধার্থ জনপ্রিয় টিভি সিরিয়াল ‘শোভা সোমনাথ কি’তে ভাইবোনের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন। তবে মজার বিষয় হচ্ছে, ভাইবোনের চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়েই তারা পরস্পরের প্রেমে পড়ে যান।

৫) প্রিয়াঙ্কা ত্রিবেদী

জিতের প্রথম নায়িকা তিনি। জিত-কে টলিউডে সবচেয়ে বড় হিট দেওয়ার নেপথ্যে এই প্রিয়াঙ্কাই। অতি সুন্দরী এই নায়িকার প্রথম সিনেমা ১৯৯৮ সালে ফিরদৌসের বিপরীতে হঠাত্॥ বৃষ্টি নামের সিনেমার মাধ্যমে। এরপর প্রিয়াঙ্কা বেশ কয়েকটা বলিউড সিনেমায় অভিনয় করার পর টলিউডে ফিরে এসে ২০১১ সালে চুপি চুপি, টক ঝাল মিষ্টি- নামের দুটি অবিনয় করেন। তবে সেগুলি চলেনি। ২০০৩ সালে জিত-আর প্রিয়াঙ্কার ‘সাথী’বাঙলা সিনেমার মোড় ঘুরিয় দেয়। বাঙলা সিনেমা দেখলে মুখ বেঁকিয়ে পালানো কলকাতার মানুষ। সহ গোটা রাজ্যের সিনেমাপ্রেমীরা এই সিনেমা দেখতে হলমুখি হলেন। জিতের মতই দুরন্ত অভিনয় করেছিলেন প্রিয়াঙ্কা। সেই সিনেমায় অন্ধ মহিলার চরিত্রে প্রিয়াঙ্কার অভিনয় ভোলার নয়। তবে টলিউডে এত বড় সাফল্য পেলেও প্রিয়াঙ্কা চলে যান দক্ষিণের ইন্ডাস্ট্রিতে। কানাডা, তামিল সহ বেশ কয়েকটি সিনেমায় অভিনয়, এরপর ২০০৩ সালে সঙ্গী নামের একটি সিনেমায় জিত-এর সঙ্গে কাজ করেন। তারপর ২০০৬ সালে অগ্নিপরীক্ষা, আমার প্রতিজ্ঞা, গোলমাল, হ্যাল মেমসাহেবের মত বাংলায় সিনেমায় কাজ করেন। তবে বাংলার থেকেও প্রিয়াঙ্কা বেছে নিতে দক্ষিণের কাজকে। তাই জিত-এর সঙ্গে দারুণ একটা জুটি হওয়ার আশা জাগলেও সেটা মেগাহিট হয়নি।

৪) চন্দনা শর্মা


২০০৪ সালে জিত-এর প্রেমী সিনেমার নায়িকা ছিলেন চন্দনা। সিনেমাটা বেশ ভালই চলে। তবে সেটাই প্রথম, সেটাই শেষ। নায়িকা অঞ্জনা ভৌমিকের মেয়ে নীলঞ্জনা শর্মা, এরপর মুম্বইয়ে পাড়ি জমান। সেখানে জাস্ট মহব্বত থেকে ইয়ে দিল চাহে মোর, শশশশ কোউ হ্যায়ের মত জনপ্রিয় সিরিয়ালে অভিনয় করে খ্যাতি পান। এয়ারটেলের বিজ্ঞাপনে শাহরুখের সঙ্গেও তাঁর বিজ্ঞাপন দারুণ জনপ্রিয়তা পায়। মিষ্টি মুখের চন্দনা-কে মিস করে টলিউড।

৩) বর্ষা প্রিয়দর্শিনী

ওড়িয়া ভাষার সিনেমায় বড় নাম বর্ষা। ২০০৮ সালে জিত-এর বিপরীতে জোর নামের স্বপন সাহা পরিচালিত সিনেমার মাধ্যমে টলিউডে পা রেখেছিলেন বর্ষা প্রিয়দর্শিনী। তারপর ২০০৯ সালে রিলিজ করা জিত-এর হাসিখুশি ক্লাবন নামের সিনেমাতেও অভিনয় করেন বর্ষা। ওড়িয়া সিনেমার এক নম্বর নায়ককে বিয়ে করে এখন সুখে সংসার করছেন বর্ষা।

২) ঋষিতা ভাট


শহীদ কাপুরের ফার্স্ট লাভ ঋষিতা ভাট অভিনয় করেন জিতের বিধাতার লেখা-নামের এক বড় হিট সিনেমায়। ঋষিতার প্রথম সিনেমা ছিল শাহরুখ কানের সঙ্গে অশোকা। তারপর দিল ভিল প্যায়ার ভেয়ার, হাসিল, অব তক ছাপান, কিষ্ণা-র মত একের পর এক বড় বলিউড সিনেমায় নাম করে খ্যাতির বড় সীমা থাকা অবস্থায় টলিউডে আসেন। তবে সেটাই ছিল তাঁর প্রথম ও একমাত্র বাংলা সিনেমা।

১) ঐন্দ্রিতা রায়

দক্ষিণের সিনেমার বাঙালী অভিনেত্রী বেশ কয়েকটা মেগা হিট কান্নাড়া সিনেমায় অভিনয় করার পর ২০১৪ সালে জিতের বিপরীতে বচ্চন সিনেমায় অভিনয় করেন। রাজা চন্দ পরিচালিত সেই সিনেমায় বেশ সুন্দর দেখিয়েছিল ঐন্দ্রিতাকে। রাজস্থানের উদয়পুরে জন্ম, তারপর বেঙ্গালুরুতে বড় হওয়া, তাই বলে ঐন্দ্রিতা রায়ের মধ্যে বাঙালিয়ানার অভাব কোনো কালেই ছিল না। কারণ বাড়িতে বাংলা চর্চাটাই চলত পুরোদমে। ডেন্টিস্ট বাবা কাজ করতেন বিমানবাহিনীতে। মা পুরোপুরি গৃহিণী। বাবার দেখাদেখি দাঁতের ডাক্তারই হতে চেয়েছিলেন তিনি। পড়াশোনাটাও তাই করেছেন বিজ্ঞানে। ভর্তিও হয়েছিলেন ডেন্টিস্ট্রিতে। এ সময়ে পরিচিত একজনের পরামর্শে একটি বিজ্ঞাপনের অডিশনে অংশ নিয়ে সুযোগ পেয়ে যান।

ছোটবেলা থেকে ভীষণ লাজুক ঐন্দ্রিলার তেমন কোনো ইচ্ছাই ছিল না অভিনয় বা মডেলিংয়ে আসার। তবে অনেকের মতোই ছবি দেখতে ঠিকই ভালোবাসতেন। বাসায় বড় বোনের সঙ্গে বসে নিয়মিত ছবি দেখলেও মাথায় সব কিছুকে ছাপিয়ে ছিল পড়াশোনার ভূত। তাই কলেজে ওঠার পর কয়েকটি নাটকের প্রস্তাবও ফিরিয়ে দিতে ভাবতে হয়নি একবারও। কখনো কখনো নিজের অজান্তেই অনেক ইচ্ছা জায়গা করে নেয় মনের ভেতর। জুলিয়া রবার্টসের ‘প্রিটি ওমেন’ ও মাধুরী দীক্ষিতের ‘হাম আপকে হ্যায় কৌন’ ছবি দুটির প্রধান দুই চরিত্র তেমনই ঢুকে গিয়েছিল ঐন্দ্রিতার মধ্যে-‘ইশ! যদি এমন একটা ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ পেতাম।’ কিন্তু মনের ইচ্ছাটাকে কখনোই প্রকাশ করেননি তিনি। এমনকি প্রিয়তম বন্ধু, পথপ্রদর্শক বড় বোনের কাছেও না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: