কান্সারের সঙ্গে লড়াই করে জীবনের মূলস্রোতে ফিরে এসেছেন যে সব সেলেবরা

এ এমন এক রোগ যার কবলে পড়লে মানুষ বাঁচার আশাই ছেড়ে দেয়। এই মারণ রোগ একবার শরীরের থাবা বসালে এর কোনো প্রতিকার নেই চিকিৎসা বিজ্ঞানে। যদিও বা প্রথম স্টেজে ধরা পড়লে কেমো থেরাপির মাধ্যমে কিছুটা হলেও চিকিৎসা করা যায় কিন্তু অ্যাডভান্স স্টেজে ধরা পড়লে সাক্ষাৎ মৃত্যু। কিন্তু এমন কিছু মানুষ আছেন যারা এই মারণ রোগকে হারিয়ে দিয়ে ফিরে এসেছেন জীবনের মূল স্রোতে। তারা কেউ অভিনেতা কেউ বা খেলার জগতের মানুষ। কেউ বা রয়েছেন অন্য পেশায়। একবার দেখে নেওয়া যাক এমন কিছু মানুষকে যারা এই মারণ রোগ কে হারিয়ে দিয়েছেন।

চন্দন সেন

বাংলা থিয়েটার হোক, চলচ্চিত্র হোক বা টেলি সিরিয়াল, চন্দন সেন বাঙালির ঘরের পরিচিত মুখ। এবং বাংলা ইন্ডাস্ট্রির একজন শক্তিশালী অভিনেতা হিসেবেই পরিচিত তিনি। এই সদা প্রাণ চঞ্চল মানুষটির শরীরেও বাসা বেঁধে ছিল মারণ কর্কট রোগ। প্রায় আট বছর ধরেই শরীরে সেই রোগ নিয়েই তিনি দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন বাংলা থিয়েটারের মঞ্চ থেকে সিনেমার টেলিভিশনের ফ্লোর। এখনও পর্যন্ত ৩৯টি কেমো নিলেও থেমে থাকে নি তার জীবন। বরং সব বাধাকে কাটিয়েই তিনি দাপটের সঙ্গে অভিনয় করে চলেছেন। এমনকী চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে তিনি আবদ্ধ হন বিবাহ বন্ধনে। বিয়ে করেন উচ্চপদস্থ আইটি কর্মী ঋতুপর্ণা ঘোষকে।

অনুরাগ বসু

বলিউডের এই বিখ্যাত পরিচালকও এই মারণ রোগের শিকার। অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরই তিনি জানতে পারেন কর্কট রোগ বাসা বেঁধেছে তার শরীরে। তা সত্ত্বেও থেমে থাকেন নি তিনি।  তাকে তার রোগের কথা জানানো হয়নি বাড়ির লোকের পক্ষ থেকে। তার রোগের কথা তাকে জানান বিখ্যাত পরিচালক মহেশ ভাট। তখনও ভেঙে পড়েন নি তিনি বলেছিলেন সব ঠিক হয়ে যাবে। আর তার সেই হার না মানা মনোভাবের কাছে হার মানতে বাধ্য হয় এই মারণ রোগ।

যুবরাজ সিং

২০১১ র বিশ্বকাপ চলাকালীনই অসুস্থ হন তিনি। খেলা চালিয়ে যান তিনি, সেই বিশ্বকাপের ম্যান অফ দ্য টুর্নামেন্টও হন তিনি। এরপর হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে গেলে জানতে পারেন ক্যান্সার বাসা বেঁধেছে তার শরীরে। প্রথম প্রথম ভেঙে পড়লেও পড়ে মানসিকভাবে তীব্র হয়ে  ওঠেন ক্রিকেট মাঠের এই বিস্ফোটক ব্যাটসম্যান।  এখনও তার কেমো চলছে। বিয়ে করেছেন দীর্ঘদিনের বান্ধবী হেজেল কিচকে। এমনকী চালিয়ে যাচ্ছেন খেলাও। এই মুহুর্তে তিনি পাঞ্জাবের সহ অধিনায়কও নির্বাচিত হয়েছেন।

লিজা রে

বলিউডের একসময়কার নায়িকা অথা মডেল লিজা রেও আক্রান্ত হন এই মারণ রোগে। কিন্তু তাকেও কাবু করতে পারে নি এই রোগ। নিজেই বার বার প্রকাশ্যে এনেছেন নিজের রোগের কথা। তবে কেমো নিয়ে এখন অনেকটাই সুস্থ তিনি।

মনীষা কৈরালা

এক সময় তিনি ছিলেন বলিউডের এক নম্বর অভিনেত্রী। তিনি নেপালের রাজ পরিবারের সদস্য। কিন্তু ৬ বছর আগে তার শরীরে ধরা পড়ে মারণ রোগ। ওভারিতে ক্যান্সার ধরা পড়ে তার। এরপরই তিনি চলে যান আমেরিকায় চিকিৎসা করাতে। আপাতত তিনি অনেকটাই সুস্থ হয়েছেন।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: