বাহুবলী টু-য়ের এই সিনটা আপনি দেখেছেন, কিন্তু খুঁতটা খেয়ালই করেননি, আমরা খুঁজে দিলাম

রাজামৌলি-র মেগাহিট সিনেমা ‘বাহুবলী: দ্য কনক্লুশন'(বাহুবলী পার্ট টু)-দেশের রেকর্ড সংখ্যাক মানুষ দেখেছেন। তাই তো বাহুবলী টু- হল বক্স অফিসে সর্বকালের বানিজ্যিকভাবে সফল সিনেমা। কিন্তু এই সিনেমার একটি দৃশ্যের সামান্য খুঁতটা হয়তো আপনার চোখে পড়েনি, দেখুন কী সেটি-

দৃশ্যে দেখা যাচ্ছে প্রতিশোধ নিতে ভল্লালদেবের ছেলে-র কাটা মুন্ডু হাত নিয়ে দেবসেনা চলছেন রাজপ্রাসাদের দিকে। পিছনে বাহুবলী।

তারপর দেবসেনা সেই কাটা মুন্ডু ছুড়ে দিলেন আকাশে। মহেন্দ্র বাহুবলী সেই কাটা মুন্ডুটিকে লক্ষ্য করে ছুঁড়লেন তীর।

তীরটা গিয়ে লাগল ভল্লালদেবের ছেলের মুন্ডুর ঠিক মাঝখানে।

এবার ছবিটা ভাল করে দেখুনয তীরটা মুন্ডু-র ঠিক মাঝখানে লাগায় বেশ চওড়া একটা দাগ হয়ে যায় তীরবিদ্ধ স্থানে।

এবার বাহুবলীর একেবারে সঠিক নিশানায় সেই ক্ষতবিক্ষত মুন্ডুটি উড়ে গিয়ে পড়ে ভল্লালদেবের রাজপ্রসাদের উপর।

নিজের ছেলের কাটা মুন্ডু হাতে ভল্লালদেব যখন দেখছেন, তখনই বোঝা গেল খুঁতটা

বাহুবলীর তীরের নিশানায় ভল্লালদেবের ছেলের কপালে যে বড় ক্ষতটা দেখানো হয়েছিল, সেটা ভল্লালদেবের কাছে পৌঁছতেই মিলিয়ে গেল!!! ভল্লালদেব যখন তাঁর ছেলের কাটা মুন্ডু হাতে দেখছেন, তখন দেখা গেল সেই মুন্ডুটা কপালে সেভাবে কোনও বড় ক্ষতই নেই। এই একটা খুঁত বড় বেশি চোখে পড়েছে বাহুলবী-তে। এবার আবার ভাল করে দেখে নিন সেই ছবিগুলি।

বাহুবলী প্রথম পর্ব শেষ হয়েছিল একটা প্রশ্ন দিয়ে – কাটাপ্পা কেন বাহুবলীকে মারল? কাটাপ্পা – মহিষ্মতী সাম্রাজ্যের অনুগত সেনাধিপতি‚ আর অমরেন্দ্র বাহুবলী – সেই সাম্রাজ্যের হবু সম্রাট| এহেন পরিস্থিতিতে কাটাপ্পা অমরেন্দ্র বাহুবলীকে হত্যা করবেন – সেটা অকল্পনীয়| তাহলে কি কাটাপ্পা রাজদ্রোহী? এই সমস্ত প্রশ্ন দিয়ে শেষ হয়েছিল বাহুবলীর প্রথ্ম কিস্তি – বাহুবলী: দ্য বিগিনিং| তারপর আসে সিনেমার দ্বিতীয় কিস্তি – বাহুবলী: দ্য কনক্লুশন|

‘বাহুবলী: দ্য কনক্লুশন’, সিরিজের দ্বিতীয় ছবি বক্স-অফিস প্রায় ফাটিয়ে দিয়েছে। গল্প যেমনই হোক, সিরিজের প্রথম ছবিটি দর্শক টেনেছিল মূলত কমম্পিউটার গ্রাফিক্সের জন্য। দ্বিতীয় ছবিটি গ্রাফিক্সের কর্মকাণ্ড নিয়ে গিয়েছে প্রথমটিকে টেক্কা দিয়েছিল। তবে সবই যে কম্পিউটার চালিত, তা একেবারেই নয়। সম্প্রতি এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, নতুন একটি তথ্য জানা গিয়েছে ‘বাহুবলী: দ্য কনক্লুশন’ সম্পর্কে। ছবিতে ভল্লালদেব যুদ্ধের সময় যে রথ ব্যবহার করেছিল তাতে একটি ‘রিভলভিং ব্লেড’ ছিল। হেলিকপ্টারের পাখার মতোই তাকে রথের সামনে বনবন করে ঘুরতে দেখা গিয়েছে ছবিতে। সিরিজের প্রোডাকশন ডিজাইনার সাবু সিরিল জানিয়েছেন, এই বস্তুটি দু’টি ছবিতেই ছিল। তিনি আরও জানিয়েছেন যে, একটি রয়্যাল এনফিল্ড মোটরবাইককে রি-ডিজাইন করে তার ইঞ্জিন দিয়েই তৈরি করা হয় ওই রথ।

৫৫ বছরের সাবু সিরিল আরও অনেক তথ্যই জানিয়েছেন ‘বাহুবলী: দ্য কনক্লুশন’-এর অস্ত্র, দুর্গ ও মহিষমাঠি রাজত্ব নিয়ে। সেনাদের পোশাক ও অস্ত্র নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে কার্বন ফাইবার। দেবসেনার প্রাসাদের জন্য তিনি পছন্দ করেছিলেন হায়দারাবেদের একটি অ্যালুমিনিয়াম কারখানা।

এই দ্বিতীয় কিস্তি শুরু হয় ফ্ল্যাশব্যাকে। যেখানে কাটাপ্পার কন্ঠে আমরা শুনি কি এমন ঘটেছিল যাতে কাটাপ্পা বাহুবলী কে হত্যা করতে বাধ্য হয়েছিলেন| একি ফ্ল্যাশব্যাকে উঠে এসেছে বাহুবলীর সঙ্গে কুন্তল রাজকুমারী দেবসেনার প্রণয়‚ সেই সঙ্গে ঈর্ষাকাতর ভল্লালদেব এবং তার পিতার বাহুবলীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র| সম্রাট পদে অভিষেকের আগে রাজমাতা শিবগামীর আদেশে রাজ্য পরিক্রমায় বেরোন অমরেন্দ্র বাহুবলী – অবশ্যই আত্মপরিচয় গোপন রেখে| উদ্দেশ্য প্রজারা কিভাবে জীবনযাপন করছে‚ কি কি অসুবিধের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে‚ তার পর্যালোচনা করা| বাহুবলীর সঙ্গে কাটাপ্পা| তাঁর বিশ্বস্ত অনুচর – যাঁকে তিনি মামা বলে ডাকেন| এই ছ্দ্মবেশে তাঁরা উপস্থিত হন কুন্তল রাজ্যে‚ এবং সেখানেই বাহুবলীর সঙ্গে প্রথম দেখা কুন্তল রাজকুমারী দেবসেনার| তাঁদের এই প্রণয়্কাহিনী কোনোভাবে ফাঁস হয়ে যায় ভল্লালদেবের কাছে‚ এবং কূটিল ভল্লালদেব রাজমাতা শিবগামীর কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি আদায় করে নেন যে দেবসেনার সঙ্গে বিবাহ হবে একমাত্র ভল্লালদেবের|

রাজমাতা শিবগামীর ভেট পৌঁছায় কুন্তল রাজ্যে – সঙ্গে এই বার্তা – ওনার পুত্রের সঙ্গে উনি দেবসেনার বিবাহ দিতে ইচ্ছুক| কিন্তু দেবসেনা ফিরিয়ে দেন ওনার প্রস্তাব| অপমানিত শিবগামী বাহুবলী কে বার্তা পাঠান দেবসেনাকে বন্দী করে নিয়ে আসতে| এখানে একটা ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয় – বাহুবলী ভাবেন শিবগামী তাঁরই জন্য দেবসেনা কে বধু নির্বাচিত করেছেন‚ যদিও আসলে শিবগামী ভল্লালদেবের জন্যই দেবসেনা কে বেছেছিলেন| এই ভুল বোঝাবুঝির জেরেই নেমে আসে চরম সর্বনাশ – মাহিষ্মতীর কপালে| নাহ আর বলব না – ইন্টারেস্ট নষ্ট হয়ে যাবে| তার থেকে বরং হলে গিয়ে দেখে আসুন এই এপিক সিনেমাটা – গ্রান্টি দিচ্ছি বি আর চোপড়ার মহাভারত বা রামানন্দ সাগরের রামায়নের থেকে ঢের বেশি ভালো লাগবে|

অসাধারণ সব গ্রাফিক্সের কাজ রীতিমত হলিউডকে কে টেক্কা দিতে পারে| এর পরেই অ্যাকশন – প্রভাস এবং রাণা ডাগ্গুবটি দুজনেই কি অপরিসীম খেটেছেন এই ছবির কারণে তা না দেখলে বিশ্বাস করতে পারবেন না| অভিনয়ে অনুষ্কা শেট্টি অসাধারন দেবসেনার চরিত্রে| মাঝে মাঝে প্রভাস ও ফিকে পড়ে গেছেন ওনার সামনে| প্রভাস বাহুবলী চরিত্রের মান রেখেছেন| সেই সঙ্গে কাটাপ্পার চরিত্রে সত্য রাজ যথাযথ|

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: