টলিউডে বন্ধ শ্যুটিং নিয়ে প্রসেনজিৎ কী করলেন জানেন!

বেশ কয়েকদিন ধরেই চলছে আর্টিস্ট ফোরাম ও প্রযোজনা সংস্থাগুলির মধ্যের জট। যার জেরে বন্ধ রয়েছে টালিগঞ্জের বিভিন্ন স্টুডিওতে বাংলা সিরিয়ালের শ্যুটিং। এদিন জট কাটাকে আরও একবার এদিন নজরুল মঞ্চে বৈঠকে বসেন ফোরামের সদস্যরা। বৈঠকে যোগ দেন ফোরামের প্রেসিডেন্ট তথা বাংলা ছবির মেগাস্টার প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়।

৫) এদিন আর্টস্ট ফোরামের বৈঠকের পর প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, শিল্পীরাও চান তাড়াতাড়ি কাজ শুরু হোক। কিন্তু আর্টিস্ট ফোরামের দাবি দাওয়ার প্রেক্ষিতে প্রযোজকদের তরফে আরও নমনীয় মনোভাব আশা করছে ফোরাম।

৪)কাজের ঘণ্টার প্রেক্ষিতে এদিন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় একাধিক বিষয় তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ১০ ঘণ্টা সকলেরই কাজের সময়সীমা। কিন্তু তার চেয়ে বেশি ঘণ্টার কাজ করলে ইনসেটিভের বিষয়টি প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। তিনি বলেন, কাজ করার পরও কেন শিল্পীরা পারিশ্রমিক পাচ্ছেন না সেটা এখনও তাঁর কাছে স্পষ্ট নয়। প্রসেনজিৎ এদিন বলেন, ‘বেশিরভাগ অভিনেতারা দিন হিসাবে ২৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা পারিশ্রমিক পান। সঠিক সময়ে টাকা না পেলে তাঁরে কীভাবে দিন চালাবেন? এরকম অনেক প্রযোজক রয়েছেন যাঁরা প্রায় দেড় বছর টাকা দেননি শিল্পীদের।’

৩) প্রযোজকদের তরফে বলা হয়েছে, ১০ ঘণ্টার যে শিফ্টের কথা বলা হচ্ছে তার মধ্য়ে শিল্পীদের খাওয়ার সময়, মেকআপের সময় ধরে বলা হচ্ছে কী না, সেবিষয়ে তাঁরা নিশ্চিত নন। এপ্রসঙ্গে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় স্পষ্ট বলেন, এই সমস্ত কিছুই গত ৭ জুলাইয়ের বৈঠকে ঠিক করা হয়। সেখানে স্পষ্ট করা হয় ১০ ঘণ্টার শিফ্টের মধ্যে আধঘণ্টার লাঞ্চ ব্রেক ধরা থাকবে।

২) প্রসেনজিতের বক্তব্য, ‘গত ১২০ দিন ধরে বহু অভিনেতাই পারিশ্রমিক পাননি। এনিয়ে অভিনেতারা যখন ফোরামে জানান, তখন তা নিয়ে প্রযোজনা সংস্থাগুলিকে জানানো হয়। প্রযোজনা সংস্থাগুলি জানায়, এত অর্থমূল্য একসঙ্গে দেওয়া যাবে না। তাঁদের ৭ অক্টোবর পর্যন্ত সময় দেওয়ার কথা বলা হয়। সেবিষয়টিও মেনে নিয়েছি আমরা। আর তা লিখিত ভাবেই মেনে নেওয়া হয়। এরপরও কীভাবে আমাদের ওপর অনৈতিক দাবি তোলার অভিযোগ ওঠে?’ প্রযোজনা সংস্থাগুলিকে এদিন এভাবেই বেঁধেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়।

১) বকেয়া পারিশ্রমিকের দাবিতে গত শনিবার থেকেই টালিগঞ্জে বহু জনপ্রিয় বাংলা ধারাবাহিকের শুটিং বন্ধ হয়ে রয়েছে। অনির্দিষ্টকালীন এই ধর্মঘটের সমাধান সূত্রের খোঁজে রবিবার আর্টিস্ট ফোরামের সদস্যরা এবং প্রযোজকদের একাংশ বৈঠকও করেন। তাতেও কোনও সমাধানসূত্র মেলেনি। এতদিন আলোচনা চলছিল নিজেদের মধ্যে। এ বার টলি পাড়ার ধর্মঘট নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করতে বাধ্য হলেন ফেডারেশন এবং আর্টিস্ট ফোরামের সদস্যরা।

তবে এই ঘটনা প্রথম নয়,গত মাসেও বাংলা ধারাবাহিকের শিল্পী সংগঠন বা আর্টিস্ট ফোরামের সদস্যদের প্রতিবাদের জেরে বন্ধ ছিল সিরিয়ালের শুটিং৷ সে সময় অভিযোগ উঠেছিল, কাজের কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। কাজের সময় বেঁধে দেওয়ার দাবি উঠেছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: