তাপস পালের নাম শুনলেই বাঙলার মানুষ কোন দশটা জিনিস মনে করে

অবশেষে জামিন পেলেন তৃণমূল সাংসদ এবং অভিনেতা তাপস পাল। দীর্ঘ ১৩ মাস বন্দি থাকার পর বৃহস্পতিবার ১ কোটি টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে তার জামিনের আবেদন মঞ্জুর করল ওড়িশার বিশেষ আদালত। ২০১৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর রোজভ্যালি দুর্নীতির ঘটনায় ২০১৬ সালের ৩০ ডিসেম্বরে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। কেন্দ্রীয় সংস্থার হেফাজতে থাকাকালীন গুরুত্ব অসুস্থ হয়ে পড়েন তাপস পাল। বন্দি জীবনের বেশিরভাগটাই কেটেছে বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউ-তে। আসুন এমন একটা দিনে জেনে নিই তাপস পালকে নিয়ে দশ কথা-

১০) নাদুসনুদুস হিরো


প্রথম যখন বড় পর্দায় এসে ছিলেন তখন অতটা ছিলেননা। কিন্তু দিন যত গিয়েছে। তাপস পাল ধারে ভারে, ওজনে বেড়ে গিয়েছেন। এক বাঙলা সংবাদপত্রে তিনি নিয়ে লিখেছিল..বাঙলা সিনেমার নাদুসনুদুস হিরো…

৯) চন্দননগরের মাল

আলালের দুলাল থেকে রাতারাতি তাঁর পরিচয় বদলে হয়েছে, ‘চন্দননগরের মাল’। চৌমুহা কাণ্ডের পরে, শাসক দলের কৃষ্ণনগরের সাংসদ তাপস পাল যে দলীয় নেতা-কর্মী, সকলের কাছেই অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন, রাখঢাক না রেখেই তা কবুল করছেন দলের নেতারা। ২০১৪ সালের জু নের মাঝামাঝি এক দলীয় কর্মী খুনের পরে নাকাশিপাড়ার চৌমুহা, হরনগর-সহ পাঁচ-পাঁচটা গ্রামে গিয়ে শাসক দলের সাংসদের হুমকি ছিল, ‘দানা পুরে দেওয়া’র। সিপিএম কর্মীদের বাড়িতে ‘ছেলে ঢুকিয়ে রেপ’ করানোর শাসানিও দিয়েছিলেন তিনি। শুধু মহিলা মহলেই নয়, দলীয় নেতাদের কাছেও তাপস এখন তাই বিড়ম্বনার অপর নাম হয়ে উঠেছেন। তাপস অনুগামী কয়েক জন দলীয় নেতা, এ ব্যাপারে কর্মীদের ক্ষোভ প্রশমনে বার কয়েক বৈঠকও করেছিলেন বলে জানা গিয়েছে। ফল মেলেনি। দলের খবর, নিচুতলার কর্মীরা প্রায় এক জোট হয়েই জানিয়ে দিয়েছেন, ওঁর (তাপস পাল) হয়ে কথা বলা মানে দলের সমর্থন নষ্ট করা। সম্প্রতি হাইকোর্টের রায়ের পরে সেই অস্বস্তি আরও বেড়েছে। চৌমুহা ঘটনায় ভিডিও ফুটেজে তাঁর মুখ ধরা পড়ায় দলের এক কর্মীর আর্তি, “দয়া করে আমার মুখটা বাদ দিয়ে দিন না দাদা। বাড়িতে মা-বোনের কাছে মুখ দেখাতে পারছি না।” অন্য এক কর্মীর আবেদন, “তাপস পালের ওই মন্তব্যের পরে আমার স্ত্রী-মেয়ে আমার সঙ্গেই কথা বন্ধ করে দিয়েছেন।”

৮) লোক ঢুকিয়ে রেপ করে আসা (দিদির দলে দাদার কীর্তি)


চৌমাহা গ্রামে চলে যান তাপস। সেখানে উত্তেজিত ভাবে তিনি বলেন, “আমি প্রচুর মস্তানি করেছি। একটা কেউ বিরোধী যদি মস্তানি করতে আসে, আমাদের ছেলেদের ঢুকিয়ে রেপ করে দেব! এই তাপস পাল ছেড়ে কথা বলবে না। তাপস পাল নিজের রিভলভার বের করে গুলি করে মারবে!”

৭) ২০০১ সালে বলেছিলেন, দিদিই একদিন মুখ্যমন্ত্রী হবে এই আলিপুরের বুকে লিখে গেলাম


২০০১ সালে বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের ভরাডুবির পর একদিন নিজের বিধানসভা কেন্দ্র আলিপুরে গিয়ে তাপস পাল সিপিএমের বিক্ষোভের মুখে পড়ে বলেছিলেন, দিদিই একদিন মুখ্যমন্ত্রী হবে এই আলিপুরের বুকে লিখে গেলাম

৬) রোজভ্যালির রাজা


মাস ছয়েকের জন্য রোজভ্যালির ফিল্ম ডিভিশনের একজন ডিরেক্টর ছিলেন তাপস পাল | অভিযোগ ওই সময়ে পদাধিকারকে কাজে লাগিয়ে সংস্থা থেকে টাকা তুলেছেন তিনি | সুবিধে পাইয়ে দিয়েছেন স্ত্রী ও মেয়েকে | রোজভ্যালি কর্তাদের জেরা করে এবং নথিপত্র তল্লাশিতে গোয়েন্দারা জানতে পারেন সংস্থার দায়িত্ব নেওয়ার আগে থেকেই তাপস পাল টাকা নিতেন | এসব অসঙ্গতির সদুত্তর তাপস পাল দিতে না পারায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয় |

৫) সাহেবের সেই চোখে জল এনে দেওয়া অভিনয়

কী দারুণ অভিনয়। ১৯৮১ সালে বিজয় বসু-র পরিচালনায় তাপস পাল যে অভিনয়টা করেছিলেন সেটার কোনও তুলনা হয় না। অভিনেতা তাপস পাল সত্যি অসাধারণ।

৪) দাদার কীর্তি

আর কী। এমন সব কথা বলে ফেললেন। তিনি দাদার কীর্তি দিয়ে নিজের নাম ছড়িয়েছিলেন। শেষ অবধি নিজেও এমন এক কীর্তি করলেন, যাতে তাঁর প্রথম সিনেমায় তাঁর কীর্তি-র কথা সবাই ভুলে গেলেন।

৩) আলিপুরের বিধায়ক


দক্ষিণ কলকাতা লোকসভা-মানে মমতা ব্যানার্জি-র কেন্দ্রে আলিপুর বারাবর বাম বিরোধী গড়। সেই আলিপুরে ২০০১ সালে সৌগত রায়কে ঢাকুরিয়ায় পাঠিয়ে তাপস পালকে দাঁড় করান মমতা ব্যানার্জি। তাপস পাল জিতে আসেন।

২) টলিউডে মমতার প্রথম সঙ্গী


এই যে এখন মমতার চারিধারে টলিউডের ছোট বড় মেজো কলাকুশলীরা। আগে কিন্তু মমতাকে এড়িয়ে চলতেন টলি শিল্পীরা। তখন টলিউডের অভিনেতারা ছিলেন বাম ঘেঁষা। একমাত্র তাপস পাল জোর গলায় মমতার সমর্থক ছিলেন।

১) কু ভাষণ যেমন আছে সু ভাষণও আছে

তাপস পালকে একটা সময় ভাল কথা বলতে পারতেন বলে টলিউডে বিভিন্ন সভায় বলতে ডাকা হত। তাপসের মত ভাল কথা কম লোকে বলতে পারে। এরকম কথা টলিউডের অনেকেই বলতেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: