টলিউডের আধ ডজন ‘ভ্যালেনটাইন’, যে জুটিগুলো পর্দা ছাপিয়ে ব্যক্তিগত জীবনেও প্রভাব ফেলেছে

ভ্যালেনটাইন্স ডে নিয়ে দেশের সঙ্গে বাংলাও গা ভাসিয়েছে। এমন সময় দেখে নিন টলিউডের এমন সেরা ৬ জুটিকে, যাদের নিয়ে বাঙালীর উত্॥সাহ এমন পর্যায়ে ছিল যা যে কোনও রিয়েল ভ্যালেনটাইনকে চ্যালেঞ্জ ছুড়বে। দেখে নিন এমনই আধ ডজন সফল জুটিকে।

৬) প্রসেনজিত চ্যাটার্জি- দেবশ্রী রায়
পর্দায় দুজনকে দারুণ মানাত। প্রসেনজিত আর দেবশ্রী জুটি মানেই একটা সময় ছিল হিট। এই দুজনের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে একটা সময় ঝড় বয়ে গিয়েছিল। সেই প্রসেনজিত আর দেবশ্রী কম বয়েসে বিয়ে করেন। খুব বেশিদিন টেকেনি তাদের সম্পর্ক। খুব তিক্ততার মাধ্যমে দুজনের সম্পর্ক শেষ হয়েছিল। পরে প্রসেনজিৎ বিয়ে করেন অর্পিতাকে এবং দেবশ্রী বিয়ে করেন এক ব্যবসায়ীকে।

৫) জিত্॥-কোয়েল


জিত আর কোয়েল। বাঙলা সিনেমায় একটা সময় সেরা জুটি। জিত আর কোয়েল-জুটির সিনেমা মানেই হিট। একটা সময় বাংলা বাণিজ্যিক ছবির সবচেয়ে বড়ো বাজি এই জুটি। ২০০৩ সালে নাটের গুরু সিনমার মাধ্যমে জিত-কোয়েলের হিট জুটির শুরু। তারপর মানিক, শুভদৃষ্টি, হিরো, ঘাতক, সাত পাকে বাধা–একের পর এক মেগাহিট সিনেমায় এই জুটির সফল পারফরম্যান্স। দুজনকে স্ক্রিনে এত সুন্দর মানাত, অনেকেই এর মধ্যে ব্যক্তিগত ছোঁয়া পেতেন। ‘জিকো’ জুটি নিয়ে তখন নানা জল্পনা। একটা সময় শোনা গিয়েছিল কোয়েল আর জিত বিয়ে করছেন। প্রেমের কাহিনি মানেই এক যে আছে নায়ক৷ আর আছে তার নায়িকা৷ শুধু নামগুলো যায় পালটে! যে-কোনও ইন্ডাস্ট্রিতেই হাতে গোনা যায় প্রথম সারির নায়ক-নায়িকাদের সংখ্যা৷ ঠোঁটস্থ থাকে নাম৷ তাদের মধ্যেই পারমুটেশন-কম্বিনেশনে ছবির প্রযোজক-পরিচালকরা বাছেন কোনও নির্দিষ্ট ছবির জন্য নায়ক-নায়িকা৷ কিন্তু কিছু কিছু প্রেমের কাহিনি হয় এমনই, যেখানে কোনও পারমুটেশন-কম্বিনেশন চলে না…সেখানে ছবির নায়ক হতে পারেন একমাত্র জিৎ৷

আর জিতের পাশে যে নামটি বাধ্যতামূলক সেটি কোয়েল মল্লিক৷ ট্যুইটার হ্যাশট্যাগ ‘জিকো’! বেনারস৷ পড়ন্ত বিকেল, গঙ্গারঘাট ঘেঁসা চেতসিং রাজবাড়ি৷ সেই লোকেশনেই উপস্থিত জিৎ আর কোয়েল৷ ভেঙ্কটেশ ফিল্মস আর সুরিন্দর ফিল্মস-এর যৌথ প্রযোজনায় তাদের নতুন ছবির একটি রোম্যান্টিক গানের শ্যুটিংয়ে৷ সাধারণত একজন নায়ক আর একজন নায়িকাকে নিয়ে ছবি তোলার জন্য হাতড়াতে হয় প্রপ! কিন্তু এইদিন আয়োজনটা ছিলো বড্ড সহজ৷ যেখানে প্রপ নিষ্প্রোয়জন…জিৎ এসে দাঁড়ালেন৷ কোয়েলকে নিজের কাছে টেনে নিলেন…এতোটুকুই৷ আর সেটাই সেরা!

৪) তাপস পাল- শতাব্দী রায়

টলিউডের সেরা দুই বন্ধুর উদাহরণ। বহু বাংলা সিনেমায় একসঙ্গে দুজনে কাজ করেছেন। একসময়ে যাত্রার জগতে ‘হিট’ জুটি ছিলেন তাপস পাল এবং শতাব্দী রায়। দু’জনেই এখন তৃণমূলের সাংসদ। প্রায় সাতবছর একসঙ্গে চুটিয়ে যাত্রা করেছেন তাঁরা। তাপস পাল-শতাব্দী রায়ের মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে নানা কথা শোনা যায়। দুজনেই অভিনয় জীবনে কিছুটা বিরতি নিয়ে তৃণমূলের হয়ে ভোটে লড়েন, ও জেতেন। দুজনেই সাংসদ হয়ে দিল্লি যান। শোনা যায় সেখান থেকে তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক আরও ভাল হয়। তাপস পাল রোজভ্যালি কাণ্ডে জেল খাটার সময়, তাঁর গ্রেফতারি নিয়েও কথা হচ্ছিল। কৃষ্ণনগরের সাংসদ তাপস আর বীরভূমির সাংসদ শতাব্দী যা সিদ্ধান্ত নেন তা মিলিত। তাপসের গ্রেফতারি নিয়ে মিডিয়ায় সতর্ক মন্তব্য করলেও সবার জানা তিনি সেদিন দাদার কীর্তি-র নায়কের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।

৩) সৌমিত্র চ্যাটার্জি- শর্মিলা ঠাকুর
দুজনেই সত্যজিত রায়ের পছন্দের নায়ক-নায়িকা। চারুলতা সিনেমার সময় দুজনেকর সম্পর্ক নিয়ে জোর জল্পনা হয়। আসলে দুজনকে এত ভারী মানাত, তাতে মানুষ জল্পনায় দুজনের সম্পর্ক নিয়ে নানা কথা বলতে শুরু করে।

২) দেব-শুভশ্রী
‘চ্যালেঞ্জ’ ছবি দিয়েই প্রথমবারের মতো জুটি বাধেন দেব-শুভশ্রী। ২০০৯ সালে মুক্তি পাওয়া এ ছবিতে নায়ক-নায়িকার অনস্ক্রিন রোমান্স গড়ায় বাস্তব জীবনেও। কিন্তু নানা কারণে দেব-শুভশ্রী জুটির সেই প্রেম বেশিদিন টেকেনি। দুজনেই তাদের কেরিয়ারে শুরুতে জুটি বেধে সাফল্য পাওয়ার পর, ব্যক্তিগত জীবনে সম্পর্ক গড়ে ঘেঁটে ফেলেন। ২০১২ সালে তাই ‘চ্যালেঞ্জ’ ছবির রিমেকে দেব নায়ক হলেও তাই নায়িকা হিসেবে শুভশ্রীকে দেখা যায়নি। ২০১৩ সালের শেষ দিকে হঠাৎ করেই সেই সম্পর্কে ফাটল ধরে। একসাথে ছবি করা দূরে থাক, কেউ কারো ছায়াও মারাতেন না তখন। দেবের সঙ্গে সম্পর্ক ভাঙার পরই শুভশ্রী ব্যক্তিগত জীবনে ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়েন পরিচালক রাজ চক্রবর্তী-র সঙ্গে। অন্যদিকে, রাজনীতিতে নেমে সাংসদ হয়ে আর বড় বড় হিট সিনেমায় কাজ করে ব্যস্ত হয়ে পড়েন দেব।

১) উত্তম কুমার-সুচিত্রা সেন

উত্তম কুমার ও সুচিত্রা সেন এই দুই নামেই জড়িয়ে রয়েছে এক আলাদা রোমান্টিকতা, নস্টালজিয়া। তবে শুধু উত্তম-সুচিত্রার অনস্ক্রিন জুটি নিয়ে উন্মাদনার পাশাপাশি তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়েও বাঙালিদের মধ্যে একটা আলাদা কৌতুহল বা বলা ভাল রহস্য রয়েছে। উত্তম-সুচিত্রা জুটির সবচেয়ে প্রথম হিট ছবি ‘সাড়ে চুয়াত্তর’। ১৯৫৩ সালে মুক্তি পাওয়া হাসির এ ছবিটিতে উত্তম কুমার কিংবা সুচিত্রা সেন কেউই প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেননি। এ ছবিটি যখন মুক্তি পায়, তখন ছাপানো পোস্টারে উত্তম-সুচিত্রার কোনো পাত্তাই ছিল না। ছবির প্রদর্শকেরা ব্যবসায়িক মানদণ্ডে চরিত্রাভিনেতা তুলসী চক্রবর্ত্তীকে পোস্টারের প্রধান মুখ বানিয়েছিলেন। কিন্তু ছবিটিতে উত্তম-সুচিত্রার রোমান্টিক অভিনয় বাংলা সিনেমার জগতে যেন এক প্রলয়ের ডাক দিয়ে যায়। একটি চমত্কার রোমান্টিক জুটির জন্য হাপিত্যেশ করে ফেরা কলকাতার সিনেমাশিল্প যেন পেয়ে যায় এক কোরামিন। যে কোরামিন কলকাতার সিনেমাশিল্পকে স্বর্ণ সময়ে প্রবেশ করায়। উত্তম-সুচিত্রা জুটি রুপালি পর্দার এমনই এক প্রেমিক-যুগল, যা চিরদিনের। এই জুটির পঞ্চাশের দশকের কোনো ছবির একটি রোমান্টিক দৃশ্য দেখলেও আজকের প্রেমিক হূদয়ে তোলপাড় ওঠে।

১৯৭৮ সালের পর সুচিত্রা সেন কোনো ছবিতে অভিনয় করেননি। ৪৭ বছর বয়সে অভিনীত তাঁর শেষ ছবি ‘প্রণয়পাশা’ ব্যবসায়িক দিক দিয়ে মার খাওয়ার পর কিছুটা অভিমানেই তিনি চলে গিয়েছিলেন লোকচক্ষুর অন্তরালে। এরপর থেকে মৃত্যুর আগপর্যন্ত সুচিত্রা কখনোই জনসমক্ষে আসেননি। তিনি নিজের চারদিকে অদ্ভুত এক বাতাবরণ তৈরি করে নিজেকে বানিয়ে ফেলেছিলেন এক রহস্য। এই প্রজন্ম ব্যাপারটিকে এক দিক দিয়ে ইতিবাচক হিসেবেই দেখে। এই প্রজন্ম খুশি যে তাদের কখনোই জীবনের স্বাভাবিক ধারায় বয়সের কাছে আত্মসমর্পণকারী উত্তম-সুচিত্রা জুটিকে দেখতে হয়নি। তাদের কাছে উত্তম-সুচিত্রা জুটি চিরসবুজ, চিরতরুণ এক জুটি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: