টলিউডের এমন দশটা ভয়ের সিনেমা যা দেখলে গা ছমছম করে

বাঙালী বারবরই ভয় পেতে ভালবাসে। তাই বাংলা সিনেমায় ভূত, সাসপেন্স, ভয়- বারবার ফিরে এসেছে। দেখুন এমন দশটা বাংলা সিনেমা যা দেখলে সত্যি ভয় লাগে।

১০) লুডো (২০১৫, অভিনয়ে- ঋ, পরিচালনা- কিউ)

এই তালিকায় এই সিনেমাটাকে রাখা যাবে কি না তা নিয়ে কথা উঠতে পারে। তবে একেবারে হলিউডি কায়দার ব্যতিক্রমী চেষ্টা বলে এই সিনেমাটিকে তালিকায় রাখতেই হল। একটু ব্যতিক্রীম চেষ্টা। তবে শালীনতার মাত্রা ছাড়িয়েছিল বেশ কয়েকটি দৃশ্যে। কৌশিক মুখোপাধ্যায়ের গান্ডু একদিকে ছিল পর্নগ্রাফির দায়ে অভিযুক্ত অন্যদিকে ছিল বিষয়ের নতুনত্ব। ভারতে নিষিদ্ধও ছিল বেশ কিছুদিন। সম্প্রতি তার আরেকটি সিনেমা মুক্তি পেতে যাচ্ছে নাম ‘লুডো’। কিন্তু এবারও একই বিতর্ক। সিনেমার ট্রেলারটি এরই মধ্যে নগ্নতা হিংস্রতার খেতাব পেয়েছে! কৌশিক মুখোপাধ্যায়কে অনেকেই কিউ নামেই চেনে। শুধু নগ্নতার জন্যই নয় বরং অনেক ভালো সিনেমার জন্যও তিনি ব্যাপক পরিচিত। তার সঙ্গে আছে তার গার্লফ্রেন্ড ঋ। গান্ডুসহ বেশ কিছু সিনেমায় সম্পূর্ণ নগ্ন হয়েছেন ঋ। আর লুডোতে আবার তাকে সে ধরনের দৃশতেই দেখা যাবে সেটা ট্রেলার দেখা বুঝা যায়। কিউ পরিচালিত ‘লাভ ইন ইন্ডিয়া’ ও ‘তাসের দেশ’ ছবিতে সম্পাদনার দায়িত্বে থাকা নিকোনই এবার কিউয়ের সঙ্গে পরিচালনায় নামতে চলেছেন ‘লুডো’ ছবিতে।

৯) সব ভূতুড়ে (২০১৭, পরিচালক-বিরশা দাশগুপ্ত)

অদ্ভুতুড়ে ভুতুড়ে মার্কা গপ্পো তেলো চেটে দর্শক খাবে এমন কোনো ইশারা বা ইঙ্গিত ছবিতে নেই। বিজ্ঞান ও যুক্তির সঙ্গে চিত্রনাট্যকার কল্লোল লাহিড়ি অবৈজ্ঞানিক আষাঢ়ে ও ভূতের গপ্পের এক বিষম ককটেল বানিয়েছেন। গাঁয়ের স্কুলের ‘দখল’ নেওয়ার জন্য আত্মীয় মাস্টারমশাইকে (বিশ্বজিৎ) প্যাঁচে ফেলার ব্যাপারটায় রবীনের (কৌশিক) পরিকল্পনা অদ্ভূতুড়ে লাগলেও যুক্তিতে টিকে যায়। কিন্তু নন্দিনীর (সোহিনী) অস্তিত্ব নিয়েও তো প্রশ্নের মীমাংসা হয় না। সেই-ই কি প্যারানরমাল জীব? এর কোনো বাস্তব ব্যাখ্যা ছবিতে নেই। যেমন অবাস্তব ও সমাধানহীন থাকে কিশোরী মিনির (ইদা) মৃত্যু। নন্দিনীর ভয়ংকর শক্তি হল, সে ভূত দেখতে পায়। তাঁর এই ভূত দেখতে পাওয়া নিয়েই চরসখুরি গল্প। ‘সব ভূতুড়ে’ পত্রিকার অফিসে প্রয়াত সম্পাদকের তদ্বিরি চিঠি নিয়ে নন্দিনী আসে বর্তমান মালিক অনিকেত (আবির) এবং সম্পাদক কৃপাধরের (সুপ্রিয়) কাছে। একটু পরেই উপস্থিত হন স্কুলের মাস্টারও। তাঁর অনুরোধ ভূতের হাত থেকে গ্রামের একমাত্র স্কুলটাকে বাঁচান প্লিজ। ভূতের তথ্যানুসন্ধানে অভিজ্ঞ মালিক-সম্পাদক-সহকারী নন্দিনী রওনা হন কোনো এক কুসুমপুর গ্রামের দিকে। তাঁদের গাইড সেই ভূত দেখা মানবী নন্দিনী। পরিচালক যে এই চরিত্রটার উপস্থিতি দিয়ে কী বোঝাতে চাইলেন সেটা না বোঝাই রয়ে গেল!

৮) গল্প হলেও সত্যি (২০১৪ সালে মুক্তি পায়, সোহম-মিমি)


হরর-থ্রিলার এই ছবিটি সাউথ-এর ‘পিজা’র রিমেক| বাংলা ইন্ড্রাস্ট্রিতে হরর-থ্রিলারকে কেন্দ্র করে খুব কমই ছবি তৈরি হয়| ছবি গল্পটা এই রকম | রুদ্র (সোহম), একটি পিজা ডেলিভারি বয় এবং অনুরাধা (মিমি)ভূতের উপন্যাস লেখিকা | তাদের প্রেম দিয়ে কাহিনী শুরু | লিভ ইন সম্পর্কে তারা থাকে | রুদ্র একটি পিজা ডেলিভারি করার জন্য একটি বিশেষ বাড়িতে যায় এবং সেখান থেকেই ফিল্ম একটি মোড় নেয় | অদ্ভুত সব ব্যাপার ঘটতে থাকে এবং ফিল্ম একটি ভৌতিক চেহারা নেয়| অনুরাধা আদৌ বাস্তবে আছে কিনা এই নিয়ে ধন্দে পড়ে রুদ্র | চিন্তা শুরু হয় | শুরু হয় রুদ্রর মানসিক ভারসাম্যহীনতা|

৭) যেখানে ভূতের ভয় (২০১২ সালে মুক্তি পায়, পরিচালক- সন্দীপ রায়)


যে তিনটে গল্প নিয়ে সন্দীপ রায় এই ছবি বানালেন, সেগুলো অনেকেরই ফেলে আসা সোনালি কৈশোরের বড় আদরের বন্ধু ছিল।এই সিনেমায় ব্যবহৃত তিনটে গল্পই প্রায় সবার জানা। তাই দর্শককে আকৃষ্ট করতে পরিচালকের ভূমিকা অনেক। আশ্চর্য, `যেখানে ভূতের ভয়`-এর ক্ষেত্রে সিনেমার সঙ্গে দর্শকের যতটুকু আত্মীয়তা তৈরি হয়েছে তার কৃতিত্বের দাবিদার পরিচালকের থেকে ঢের বেশি গল্পের নমস্য লেখকরা এবং সিনেমার অভিনেতারা। সত্যজিৎ রায়ের `অনাথ বাবুর ভয়` আর `ব্রাউন সাহেবের বাড়ি` এবং শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের `ভূত ভবিষ্যৎ`, এই তিনটে গল্পকে এক ফ্রেমে ধরেছেন পরিচালক সন্দীপ রায়। এর সঙ্গেই সত্যজিৎ রায়ের বিখ্যাত তারিণীখুড়ো চরিত্রটিকে এই সিনেমায় নিয়ে এসেছেন সন্দীপ। পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এই ছবিতে চিরাচরিত কথকের ভূমিকায়। খুদে অনুরাগীদের অভিজ্ঞতার ঝুলি উজাড় করার সময় তিনি একে একে এই তিনটি গল্প শুনিয়েছেন। তারিণীখুড়োর ভূমিকায় পরাণ বন্দোপাধ্যায়।

৬) ভূতের ভবিষ্যত (২০১২ সালে মুক্তি পায়, অনীক দত্তের পরিচালনা)


টলিউডের ট্রেন্ড সেটার৷ বলা হয় কাল্ট ছবিও৷ পরিচালক অনীক দত্তের প্রথম পরিচালিত ছবি ‘ভূতের ভবিষ্যত’ শুধু বক্স অফিসে জিতে নিয়েছিল সমালোচকদের মনও৷ এই ছবি ঘিরেই প্রায় একবছর টলিউড টেনে নিয়েছিল দেশ-বিদেশের নজর৷ আর তার প্রমাণ বলিউড পরিচালক সতীশ কৌশিকের এই ছবি রিমেকের আবদার৷ সংবাদমাধ্যমে ব্রেকিং নিউজ কেড়ে নিয়ে একসময় বিনোদন জগতে ছিল একটাই খবর বলিউডে ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’৷ বাংলার বক্সঅফিস কাঁপিয়েছিল একদল ভূত। নবীন পরিচালক শুটিং এর জন্যে লোকেশন দেখতে আসেন একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে। হঠাৎ তার আলাপ হয় বাড়িরই একজন ব্যক্তির সংগে যিনি নাকি ওখানেই থাকেন। তার কাছে থেকে সেই বাড়িতে থাকা কতিপয় ভুতেদের কাহিনী শোনেন পরিচালক। যে গল্পের উপজীব্য বিষয় হল প্রমোটারি আর দখলদারীর ভিড়ে পুরোনো ভুতেরা কিভাবে স্বার্থান্বেষী মানুষদের সাথে লড়াই করে বাড়ির অধিকার অর্জন করলো। তারা প্রথমে আস্তানার খোঁজে আসে পরিত্যক্ত চৌধুরী বাড়িতে। সকলেই অপঘাতে মারা গেছিল।

৫) কঙ্কাল (১৯৫০)
নরেশ মিত্র পরিচালিত এই সিনেমাটিকে মনে করা স্বাধীন ভারতের প্রথম সফলভাবে ভয় দেখাতে পারা এক সিনেমা। টানটান চিত্রনাট্য। পরতে পরতে সাসপেন্স। না দেখা থাকলে দেখে ফেলুন। অভিনয়ে আছেন কেতকী দত্ত, শিশিবর বট্টব্যাল, পরেশ ব্যানার্জি-র মত অভিনেতারা।

৪) ক্ষুধিত পাষাণ (১৯৬০ সালে মুক্তি, অভিনয়ঃ সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, অরুন্ধতি দেবী)


তপন সিনহা পরিচালিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাহিনি অবলম্বনে তৈরি এই সিনেমাটা সর্বকালের সেরাদের মধ্যে পড়ে। অভিনয় করেছেন অভিনয়ঃ সৌমিত্র চেট্টোপাধ্যায়, অরুন্ধতি দেবী, রাধামহান ভট্টাচার্য্য, ছবি বিশ্বাস, রসরাজ চক্রবর্তী, বিনা চাঁদ, পদ্মা দেবী, দিলীপ রায়, রবিন বন্দোপাধ্যায়-র মত নামী অভিনেতারা। নতুন চাকরির সুবাদে পুরনো এক রাজবাড়ীতে থাকতে আসে এক তরুন অফিসার। রহস্যে ভরপুর সে বাড়ীর প্রতিটি অংশ। সেই বাড়ীতে মিলেমিশে এক হয়ে যায় তরুনের অতীত এবং বর্তমান।

৩) মণিহারা (১৯৬১ সালে মুক্তি)


তিন কন্যা সত্যজিৎ রায় পরিচালিত বাংলা চলচ্চিত্র যা ১৯৬১ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১০০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে মুক্তি পায়। এটি প্রকৃতপক্ষে রবীন্দ্রনাথের তিনটি ছোট গল্প থেকে করা তিনটি চলচ্চিত্রের সংকলন। রবী ঠাকুরের তিনটি গল্পের তিনটি প্রধান চরিত্রই নারী, এই তিন নারী চরিত্রকে বোঝানোর জন্য সিনেমার নাম দেয়া হয়েছে তিন কন্যা। এর মধ্যে দ্বিতীয় সিনেমা মণিহারা-তে কন্যা থাকে বিবাহিতা, ২০-২৫ তো হবেই। সেখানেই ভয় পাওয়ার এক কাহিনি দেখা গিয়েছিল। লোভী স্ত্রী মণিমালিকা-র চরিত্রে কণিকা মজুমদার আর স্বামী ফণীভূষণ সাহা-র ভূমিকায় কালী বন্দ্যোপাধ্যায়-এর অভিনয় ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল।

২) হানাবাড়ি (১৯৫২ সালে মুক্তি)


প্রেমেন্দ্র মিত্র পরিচালিত এই সিনেমাটি মুক্তি পায় ১৯৫২ সালে। অভিনয়ে ছিলেন ধীরাজ ভট্টাচার্য, নবদ্বীপ হালদার, শ্যাম লাহা, প্রণতী ঘোষ প্রমুখ। ভূতের হাত থেকে বাঁচতে গিয়ে আর এক ভূতের খপ্পরে পড়ার গল্প। সবশেষে গল্পে অসাধারণ ট্যুইস্ট। সবমিলিয়ে এক অসাধারণ গা ছমছমে সিনেমা।

১) কুহেলি (১৯৭১ সালে মুক্তি)


আসছে সে আসছে… সিনেমাটায় এই গানটার সময় গায়ে কাঁটা দিয়ে দেয়। বিশ্বজিত্॥, সন্ধ্যা রায়ের এই সিনেমা দেখে বাঙালী ভয় পেয়ে গিয়েছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: