সোশ্যাল মিডিয়ায় দেবকে নিয়ে কেন এত খিল্লি! কারণ খুঁজে দিলাম আমরা

দেবকে নিয়ে যে উচ্চতায় ট্রোলিং হয় সেটা খিল্লি বললেই ভাল মানায়। এমনিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় দেবকে নিয়ে বরাবরই খিল্লি হয়। তা সে অ্যামাজন অভিযান রিলিজ নিয়েই হোক, বা যখন তিনি সাংসদ হলেন। দেবকে নিয়ে ট্রোলিং সবসময়ই রোলিং। কিন্তু কেন!!! দেব সফট টার্গেট কেন!!! খোঁজার চেষ্টা করলাম আমরা

৫) সেলেবদের কমন সমস্যা, তবে দেবের ক্ষেত্রে সেটা মহাসমস্যা

সলমন থেকে অভিষেক বচ্চন, শাহরুখ খান থেকে আমির খান, সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোল বা বাংলায় যাকে বলে খিল্লি সেটা খুব কমন ব্যাপার। তবে দেবকে নিয়ে ব্যাপারটা বাড়াবাড়ি হয় সেটা ঠিক। দেবকে নিয়ে যেসব খিল্লি হয় সেগুলির বেশিরভাগই অত্যন্ত নিম্নমানের। তবে কিছু ট্রোল পোস্ট দেবকে নিয়ে হয় সেগুলো তাঁর অভিনয়ের দুর্বলতা সামনে আসে। অভিষেক বচ্চনকেও এমন ট্রোলের মুখোমুখি হতে হয়।

৪) দেবের উচ্চারণ


বাঙালী উচ্চারণ নিয়ে বরাবরই খুঁতখুঁতে। সিঁড়িকে কে সিরি বললেই কানমোলা দেওয়ার সামিল হয়। সেখানে দেবের উচ্চারণ একেবারে বলার মত। চ্যালেঞ্জ সিনেমায় দেবের উচ্চারণ নিয়ে খিল্লি হলে সেটা অবাক হওয়ার থাকে না। কারণ এ যুগে সামান্য এদিক, ওদিক হলেই ট্রোলিং হয়। এই তো ক দিন আগে অমিতাভ বচ্চন বিগ বসের দুই সুন্দরী প্রতিযোগিকে ফলো করেন বলে তাঁকেও ট্রোল হতে হয়। দেবের উচ্চারণ কোনও কালেই ভাল নয়। ককটেল সিনেমায় বাংলা, ইংরেজি উচ্চারণে দেবের সমস্যা একেবারে বাড়াবাড়ির পর্যায়ে চলে যায়। খারাপ উচ্চারণকে ঢাকতে অভিব্যক্তি, শরীরী ভাষা, শারীরিক আবেদনেও তিনি মাত করতে পারেন না।

৩) দেবের অ্যাপিয়ারেন্স


যে কোনও নায়কের সিনেমায় অ্যাপিয়ারেন্সটা খুব গুরুত্বপর্ণ। সুদর্শন দেবের চেহারা, উচ্চতা নিয়ে কোনও কথা হবে না। তবে অ্যাপিয়ারেন্স মাঝেমাঝেই কেঁচিয়ে ফেলেন।

২) বেশিরভাগ সিনেমাতেই দেবের পারফরম্যান্স হতাশজনক, তাঁর মত বড় তারকা টলিউডে কম আছে, তিনি যখন হতাশ করেন, তখন তো ট্রোল হতে হবেই। গত পাঁচ বছরে দেবের সিনেমা বক্স অফিসে দারুণ সাফল্য পেয়েছে সেটা যেমন ঠিক, তেমন তাঁর বেশিরভাগ সিনেমাই চিত্র সমালোচকরা একেবারেই নম্বর দেয়নি সেটাও ঠিক। দেব এমন এক প্রযোজক সংস্থার হয়ে কাজ করেন, যারা এতটাই শক্তিশালী মিডিয়ার বেশিরভাগই তাদের খারাপ নম্বর দিতে পারেন না, আর্থিক চুক্তি থাকায়। তাই চাঁদের পাহাড়-কে বলা হয় বাংলা সিনেমার শোলে। ককপিট সিনেমাটার রিভিউ নিয়ে তো এক জনপ্রিয় বাংলা সংবাদমাধ্যমে প্রশংসা করতে গিয়ে লিখে ফেলে, বাংলা সিনেমাকে ককপিটে চড়িয়ে সাফল্যের মহাস্বর্গে নিয়ে চলেন দেব। এসব গুলো নেটিজেনদের আরও তাঁতিয়ে দেয়। সাধারণকে অতি অসাধারণ প্রমাণের চেষ্টা হলে ব্যাকফায়ার হতে হয় কী।

১) শুধু নায়ক হিসেবে নয় রাজনীতিবিদ হিসেবেও দেবকে ট্রোলের সমালাচোনা হয়। মানে ডবল ডোজ আর কী। নায়ক-অভিনেতা।। নেতা-সাংসদ।। ফলে তাঁকে নিয়ে ট্রোলের মাত্রাটা বেড়ে যায়। সাংসদ-রাজনীতিবিদদের ট্রোল হতেই হয়। কথায় বলে গালগাল না খেলে নেতা হয় যায় না, আর মার না খেলে পুলিস হওয়া যায় না। তাই দেবকে একদিকে হিরো, অন্যদিক, সাংসদ দুভাবেই সমলাচোনার চাপ নিতে হয়।

এই প্রতিবেদনকে দেবের ট্রোলিংগুলোকে কখনই সমর্থন করা হয়নি। ভুল গেলে চলবে না অ্যামাজন অভিযান, চাঁদের পাহাড়-বাংলা সিনেমার সর্বকালের সেরা হিটগুলোর মধ্যে একেবারে প্রথমের দিকে আছে। অনেক কষ্ট করে দবে টলিউডের প্রথম সারির নায়ক হতে পেরেছেন। অনেকে এসেছেন, গিয়েছেন। কিন্তু খুব কম জনই এভাবে দেবের মত সাফল্য পেয়েছেন। তবে ট্রোলকে বলিউড খুব স্বাস্থ্যকরভাবেই নেয়। যত ট্রোল যত প্রচার। কে না জানে ‘নেগেটিভ পাবলিসিটি ইউ দ্য বিগেস্ট পাবলিসিটি’।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: