আইফেল টাওয়ারের আদলে উপমহাদেশের সবচেয়ে উঁচু টাওয়ার নির্মান করল বাংলাদেশ

দেশে বিদেশের বহু পর্যটকই ছুটে যান প্যারিসে আইফেল টাওয়ার দেখার আশায়। ফ্রান্সের যাবতীয় গর্ব নিয়ে রাজধানি প্যারিসের কেন্দ্রস্থলে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে এই সুদৃশ্য মিনার। তবে এবার এশিয়াবাসীর জন্য সুখবর নিয়ে এল বাংলাদেশ। আইফেল টাওয়ারের আদলেই তারা নিজেদের দেশে এবার বানালো এশিয়ার সবচেয়ে বড়ো টাওয়ার।

বাংলাদেশের ভোলায় নির্মিত হয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে উঁচু মিনার জ্যাকব টাওয়ার। গত ২৪ জানুয়ারি বুধবার বাংলাদেশের ভোলার চরফ্যাসন উপজেলা শহরে তৈরি এই সুদৃশ্য ওয়াচ টাওয়ারটির উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। বাংলাদেশের সরকারি সূত্রের খবর অনুযায়ী এই টাওয়ারটির তৈরিতে খরচ হয়েছে প্রায় ২০ কোটি টাকা।

টাওয়ারটির উচ্চতা ২২০ ফুট। এখনও পর্যন্ত এই টাওয়ারটির এই উপমহাদেশের সবচেয়ে উঁচু ওয়াচ টাওয়ার হিসেবেই পরিগনিত হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকার এই জ্যাকব ওয়াচ টাওয়ারটির নির্মান কার্য শুরু করেন ২০১৩র ফেব্রুয়ারি মাসে। এটিতে রয়েছে সর্বমোট ১৬টি তল। মাটির তলায় প্রায় ৭৫ ফুট ভিত তৈরি করে তাতে ঢালাই এবং পাইলিং ফাউন্ডেশন করা হয়। সেই ফাউন্ডেশনের উপরেই সম্পূর্ণ ইস্পাত দিয়ে গড়ে তোলা হয় এই টাওয়ারটি।

এই বিশেষ ধরনের ফাউন্ডেশনের জন্যই টাওয়ারটি ৮ রিখটার স্কেল এককের ভূমিকম্পের আঘাতেও ক্ষতিগ্রস্থ হবে না। আদলের দিক থেকে অনেকটাই আইফেল টাওয়ারের মত দেখতে এই টাওয়ারটির চারপাশে অ্যালুমিনিয়ামের উপর রয়েছে স্বচ্ছ কাঁচের আচ্ছাদন। সিঁড়ির পাশাপাশি ১৬ তলার এই টাওয়ারটিতে ওঠার জন্য রয়েছে ১৩ জনের ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন বিশেষ ধরনের প্রযুক্তিতে তৈরি অত্যাধুনিক ক্যাপসুল লিফট।

এছাড়াও এই ওয়াচ টাওয়ারটিতে রয়েছে অত্যাধুনিক মানের উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন বাইনোকুলার। এই মিনার দেখতে আসা পর্যটকরা ওই বিশেষ বাইনোকুলারের মাধ্যমে বাংলাদেশের চর কুকরী-মুকরী, তারুয়া সৈকতসহ বঙ্গোপসাগরের একাংশের চারপাশের অবস্থিত প্রায় ১০০ কিলোমিটার এলাকার সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন। ছাড়াও টাওয়ারটিতে রয়েছে দূরদূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের জন্য বিশেষ সুবিধা। যেমন রয়েছে বিশ্রামাগার, পর্যটকদের জন্য প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যবস্থা, সেই সঙ্গে খাবারের সু বন্দোবস্তও রয়েছে। চরফ্যাসন উপজেলা শহরের ফ্যাশন স্কোয়ারের একদম গায়েই এই টাওয়ারটির নির্মান হওয়ার ফলে ভীষণই খুশি ওই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা।

তাদের কথায় এই অঞ্চলে এই টাওয়ারটির নির্মান হওয়ার ফলে এটি বাংলাদেশের একটি বিশেষ পর্যটন কেন্দ্রে পরিনত হবে। ফলে সেখানে পর্যটকদের ভীড় বৃদ্ধির কারণে এই অঞ্চলের মানুষের সামনে অনেক আয়ের রাস্তা খুলে যাবে। ফলে সেখানকার মানুষের আর্থিক উন্নতির পাশাপাশি বদলে যাবে জীবনযাত্রাও। সেই সঙ্গে সরকারের রাজস্বও বৃদ্ধি পাবে পাল্লা দিয়ে। এই টাওয়ারটিকে বাংলাদেশের আইফল টাওয়ার বলছেন স্থানীয় মানুষজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: