ব্রেকিং: বড় এক বাম নেতা যোগ দিলেন বিজেপিতে, দাঁড়াতে পারেন লোকসভা ভোটে

হিসেবটা পরিষ্কার। রাজ্যের মমতা বিরোধী ভোটের অনেকটা বিজেপি পেলে বাংলায় পদ্মফোটার সম্ভবনা থাকছে। ২০১৯ লোকসভায় ভাল ফল করতে মরিয়া বিজেপির পাখির চোখ তাই, বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসে ভাঙন ধরিয়ে নিজেদের দলে টানা। বিরোধী দলে ভাঙন ধরে বিজেপি-র পালে নিয়ে আসতে মুকুল রায় বড় ভরসা। আর মুকুল এবার পুজোর আগে বড় সাফল্য পেলেন। প্রাক্তন এক বামফ্রন্ট সাংসদকে বিজেপিতে নিয়ে এলেন মুকুল রায়। মুকুল বিজেপিতে আসার সময় দাবি করেছিলেন, তৃণমূলর অনেক নেতা, জনপ্রতিনিধি, বিধায়ক, এমনকী সাংসাদও দল ছেড়ে তাঁর পথ ধরে পদ্মে যোগ দিতে পারেন। কিন্তু মুকুল সেভাবে কিছুই করতে পারেননি।

পঞ্চায়েতে ভাল ফল করতে না পারার পর বিজেপিতে মুকুলের অবস্থা খুব ভাল নয়। আর তাই লোকসভা ভোটের আগে গা ঝাড়া দিয়ে ওঠে নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহ-র গুড বুকে নাম লেখাতে চান মুকুল। মুকুলের বক্তব্য, তিনি ধাপে ধাপে মমতা-বিরোধিতাকে তীব্র করে তুলবেন। আস্তিনের নীচে লুকনো সব তাস তিনি এখনই বের করে দিতে চান না। তাঁর কাছে অনেক তথ্য আছে, সময় মতো যেগুলি তিনি প্রকাশ করবেন। বিজেপির আরও প্রত্যাশা লোকসভা ভোটের আগে মুকুল জেলাওয়াড়ি ভাঙন ধরাতে পারবেন তৃণমূল কংগ্রেসে। ৮০ হাজার বুথ নিয়ন্ত্রণ করে তিনি লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলকে বিরাট ভাবে ধাক্কা দিতে পারবেন। লোকসভা নির্বাচনের আগে বিরোধী শিবিরকে গুড়িয়ে দিতে আস্তে আস্তে জাল গোটাচ্ছে বিজেপি। শ্বাসক শিবির থেকে এক এক ভাঙন ধরাচ্ছেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়। সেই ভাঙনের ধারাও অব্যহত রেখেছেন তিনি তা আজও পরিস্কার হয়ে গেলো। সেই রাজনীতি বঙ্গীয় চাণক্য মুকুল রায়ের ডাকে সাড়া দিয়ে মুকুল রায় তথা বাংলার বিজেপির হাত আরো দৃঢ় করল পুরলিয়ার ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রাক্তন সংসদ নরহরি মাহাতো। দীর্ঘ ১২ বছর দলের সম্পাদক ছিলেন তিনি। আজ মুকুল রায়ের ডাকে সাড়া দিয়ে বিজেপি তে যোগাদান করলেন তিনি। এই হেভি ওয়েট নেতা বিজেপি তে যোগাদানের ফলে বিজেপি হাত আরো। মজবুত হলো বলে দাবী করেছেন বিজেপি কর্মীরা।

কে এই নরহরি মাহাতো-

২০১৪ লোকসভা নির্বাচনপুরুলিয়ার মাটিতে ফের দাপুটে জয় পেল তৃণমূল। দিনের শেষে পুরুলিয়া কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী মৃগাঙ্ক মাহাতো পেয়েছিলেন ৪,৬৮,২৭৭ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, তথা কেন্দ্রের বিদায়ী সাংসদ ফরওয়ার্ড ব্লকের নরহরি মাহাতোকে ১,৫৩,৮৭৭ ভোটের ব্যবধানে হারিয়েছিলেন মৃগাঙ্ক। নরহরিবাবুর প্রাপ্ত ভোট ছিল ৩,১৪,৪০০। তবে, জেলা কংগ্রেসের প্রত্যাশার ফানুস চুপসে দিয়ে ২,৫৭,৯২৩ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন দলের জেলা সভাপতি নেপাল মাহাতো।

অথচ কংগ্রেস নেতারা প্রথম থেকেই দাবি করে আসছিলেন, পুরুলিয়ায় এ বার নেপাল-ফ্যাক্টর বড় হয়ে দেখা দেবে। এমনকী, নেপালবাবুর খাসতালুকে জনসভা করে গিয়েছেন খোদ তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি, নেপালবাবুর মতো প্রভাবশালী নেতা প্রার্থী হওয়ায় জেলার বাম শিবির আশায় ছিল, তিনি তৃণমূলের বাড়া ভাতে ছাই দেবেন। আর ফাঁক গলে বেরিয়ে যাবেন বাম প্রার্থী। কিন্তু, ভোটের ফলে স্পষ্ট, সে-সবের কিছুই হয়নি। এই কেন্দ্রের ভোটারেরা আস্থা রেখেছেন শাসক দলের উপরেই। গত বছরের পঞ্চায়েত ভোটের নিরিখে পুরুলিয়া লোকসভা এলাকায় তৃণমূলের প্রাপ্ত ভোট ছিল ৪,২৭,০০০। এ বার শাসক দল সেই ভোট বাড়িয়ে ৪,৬৮,২৭৭-এ নিয়ে গিয়েছে। অন্য দিকে, কংগ্রেসের পঞ্চায়েত ভোটে প্রাপ্ত ভোট ছিল ১,৬৮,০০০। নেপালবাবুর সৌজন্যে তা বেড়ে হয়েছে ২,৫৭,৯২৩। কমেছে বামফ্রন্টের ভোট। পঞ্চায়েত ভোটে প্রাপ্ত ৪,০২,০০০ ভোট এ বার কমে হয়েছে ৩,১৪,৪০০।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: