মমতাকে ডি.লিট করেছিল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, এবার রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে ডি.লিট দিচ্ছে অমিতাভ বচ্চনকে

বলিউডের সবচেয়ে বড় তারকা তিনি। গোটা দেশের হৃদয় তিনি। তাঁর অভিনয় দেখে গোটা দেশ মুগ্ধ হয়। সেই অমিতাভ বচ্চন এবার রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে ডি.লিট উপাধি পাচ্ছেন। অমিতাভ বচ্চনকে ডি.লিট দেওয়ার কথা সোমবারই জানান রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সব্যসাচী বসু রায়চৌধুরি। রবীন্দ্রভারতীর ইতিহাসে হিন্দি ছবির কোনও অভিনেতাকে ডি’লিট দেওয়া এই প্রথম। অমিতাভর কর্মক্ষেত্র মুম্বই হলেও, সত্তরের দশকে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়েছিল এই কলকাতা থেকেই।

আগামী ৮ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানেই বিগ বি-কে ডি.লিট সম্মানে সম্মানিত করা হবে বিগ-বিকে। ভারতীয় সিনেমার সবচেয়ে বড় সুপার স্টার অমিতাভ বচ্চনকে ডি.লিট দেওয়ার প্রস্তাব ইতিমধ্যে রাজ্যপাল তথা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য কেশরীনাথ ত্রিপাঠীর কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানান উপাচার্য সব্যসাচী রায় চৌধুরী। এবিষয়ে বিগ-বি অমিতাভকেও জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, বাঙালিদের বিশেষ করে কলকাতার মানুষদের সঙ্গে অমিতাভ বচ্চনের একটি বিশেষ আবেগ জড়িয়ে রয়েছে। কেননা অমিতাভ বচ্চন তো শুধু আর একজন বলিউড অভিনেতা নন তিনি তো বাঙলার জামাই, পাশাপাশি কলকাতাতেই কর্মজবীন শুরু করেছিলেন অমিতাভ। পিকু সিনেমায় অভিনয়ের সময় কলকাতার রাস্তায় শ্যুটিং করতে গিয়ে বলেছিলেন, এই শহরটা সঙ্গে নিয়ে আত্মার টান খুঁজে পান। কলকাতার মেয়ে জয় ভাদুরীকে বিয়ে করার পর থেকেই কলকাতার সঙ্গে এই সম্পর্ক জুড়ে গিয়েছে তাঁর। কর্মজীবনের শুরুতে কলকাতার রাস্তায় রাস্তায় ঘুরতেন অমিতাভ। কিংবদন্তী এই অভিনেতার স্ত্রী জয়া বচ্চন শুধু বাঙালিই নন, অমিতাভর শ্বশুরমশাই তরুণ কুমার ভাদুড়ি ছিলেন সাহিত্যিক। ফলে পারিবারিক সূত্রেই বাংলার সঙ্গেই অভিনেতার গভীর যোগাযোগ। বিশ্ববিদ্যালয় এই চার কৃতীর নাম রাজ্যপালের কাছে পাঠালে তিনি এই প্রস্তাবে সিলমোহর দেন।

এর আগে অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনের একটি বিশ্ববিদ্যালয় এবার অমিতাভ বচ্চনকে ডক্টরেট দেয়। ২০০৯-এ ভারতীয়দের ওপর আক্রমণের ঘটনায় ব্যথিত বচ্চন একটি অস্ট্রেলিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের ডক্টরেট প্রদানের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। এর আগে আর তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় বিগ বি-কে এই সম্মান দিয়েছে। প্রথম দিয়েছিল ব্রিটেনের লেস্টারের একটি বিশ্ববিদ্যালয়। তার পর ঝাঁসি ও দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ও সিনিয়র বচ্চনকে সাম্মানিক ডক্টরেট দেয়।

প্রখ্যাত ভারতীয় চলচ্চিত্রশিল্পী অমিতাভ বচ্চনের জন্ম ১৯৪২ সালের ১১ অক্টোবর। গ্রেট ব্রিটেনের মন্টফোর্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০৬ সালের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি গ্রহণের সময় তিনি এই বক্তব্য দেন।

সেইদিন অমিতাভ সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি নিতে গিয়ে বলেছিলেন, তখন তা শুনেই আমার মনে সর্বপ্রথম যে প্রশ্নের উদয় হয়েছিল তা হলো, ‘আমি কি ডিগ্রি পাওয়ার যোগ্য?’ প্রথমে আমার মনে হলো, ‘হ্যাঁ, এটা আমার প্রাপ্য।’ কিন্তু পরক্ষণেই মনে হলো, ‘আমি তো দিনের পর দিন কোনো গবেষণাকাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না। তাহলে?’ এমন ‘হ্যাঁ’ আর ‘না’-এর মধ্যেই আটকে গিয়েছিলাম আমি।যা-ই হোক, এখন আমি আমার একান্ত ব্যক্তিগত কিছু অনুভূতি ভাগাভাগি করে নেব সবার সঙ্গে। ডি মন্টফোর্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে এই ডক্টরেট ডিগ্রি পাওয়াটা আমার জন্য আসলে অনেক বড় কিছু। কারণ, এই বিশ্ববিদ্যালয় তার অনবদ্য শিক্ষাপদ্ধতি ও শিক্ষার্থীদের জন্য সুপরিচিত। এটা এমন এক বিশ্ববিদ্যালয়, যেখানে ঐতিহ্য আর নতুনের মেলবন্ধন ঘটেছে। পুরোনোর সঙ্গে আধুনিকতার মিশেল ঘটেছে এখানে। এটি যুক্তরাজ্যের গর্ব। এখান থেকে সৃষ্টিশীল শিক্ষার্থী তৈরি হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: