নোট বাতিলের ঠিক আগে অমিত শাহ পরিচালিত ব্যাঙ্কে এতো কোটি টাকার বাতিল নোট জমা পড়েছে, খবরে উত্তাল দেশের রাজনীতি

নরেন্দ্র মোদী সরকারকে অস্বস্তিতে ফেলে দিল এক আরটিআই। নোটবন্দি ইস্যুতে ফের বিজেপি, তাদের সভাপতি অমিত শাহকে আক্রমণ কংগ্রেসের। নরেন্দ্র মোদীর নোট বাতিলের সিদ্ধান্তকে সবচেয়ে বড় কেলেঙ্কারি বলল তারা। কংগ্রেস নেতা রণদীপ সিংহ সুরজেওয়ালার অভিযোগ, মোদীর বিমুদ্রাকরণের নির্দেশ কালো টাকা নির্মূল করার বদলে তাকে সাদা করতে সাহায্য করেছে। বিপুল পরিমাণ কালো টাকা সাদা করেছেন বিজেপি নেতারা।

মোদী সরকারের নোট বাতিলের ঘোষণার পাঁচদিন পর গুজরাটের ১১টি সমবায় ব্যাঙ্কে ৩,১১৮.‌৫১ কোটি টাকা বাতিল নোট জমা পরে। এই ১১টি ব্যাঙ্কের সঙ্গে বিজেপি যোগ রয়েছে বলে জানায় কংগ্রেস। তথ্য জানার অধিকারে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানার পর শুক্রবারই তা জানানো হয় কংগ্রেসের পক্ষ থেকে। এরই মধ্যে একটি সমবায় ব্যাঙ্কের ডিরেক্টর পদে রয়েছেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। ২০১৬ সালের ৮ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাতারাতি পুরনো ৫০০ এবং ১০০০ টাকার নোট বাতিল করে দেন। এই ঘোষণার পরই দেশজুড়ে ব্যাপক আর্থিক সঙ্কট দেখা দিতে শুরু করে। নরেন্দ্র মোদির নোট বাতিলের সিদ্ধান্তকে সবচেয়ে বড় কেলেঙ্কারি বলে জানাল কংগ্রেস। সমবায় ব্যাঙ্কগুলিতে যে পুরনো টাকাগুলি জমা পরেছে তা সবই ২০১৬ সালের ১৪ নভেম্বরের পর। কালো টাকাকে এই পথ দিয়েই পাচার করেছে বিজেপি, জানায় কংগ্রেস। বিরোধি দলের বিবৃতিতে জানা গিয়েছে, সুরাত জেলা সমবায় এবং সবরকান্তা সমবায় সহ আরও ন’‌টি ব্যাঙ্কে বিজেপির বাতিল নোট জমা রয়েছে।

সাংবাদিক সম্মেলন করে কংগ্রেস জানায়, বাতিল নোটের অবৈধ লেনদেন ঠেকানোর অজুহাত দেখিয়ে নোট বাতিলের ঘোষণার ৫ দিন বাদে বলা হয়েছিল, সমবায় ব্যাঙ্কগুলি আর বেআইনি ঘোষিত ৫০০, ১০০০ টাকার নোট গ্রহণ করতে পারবে না। কিন্তু ততদিনে বিজেপি নেতাদের পরিচালিত একাধিক সমবায় ব্যাঙ্ক বাতিল নোট জমা নিয়ে ফেলেছে।

আহমেদাবাদের ওই সমবায় ব্যাঙ্কে ২০০০ সাল থেকে ডিরেক্টর পদে রয়েছেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। এর পাশাপাশি, রাজকোটের সমবায় ব্যাঙ্কের চেয়ারম্যান জয়েশভাই বিট্টলভাই রাডাদিয়া হলেন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রুপানি সরকারের মন্ত্রী। সেই ব্যাঙ্কে জমা রয়েছে পুরনো নোটের ৬৯৩.‌১৯ কোটি টাকা। আশ্চর্যের বিষয়, ২০০১ সালে লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির হয়ে নরেন্দ্র মোদি রাজকোট থেকেই প্রথম নির্বাচিত হন। বিজেপির পায়ের জোর এই গুজরাটেই রয়েছে সবচেয়ে বেশি। অ্যাপেক্স গুজরাট রাজ্য সমবায় ব্যাঙ্কে জমা রয়েছে ১.‌১১ কোটি টাকা।

সুরজেওয়ালা দাবি করেন, বিজেপি নেতাদের পরিচালিত গুজরাতের ১১টি জেলা সমবায় ব্যাঙ্কে বিমুদ্রাকরণের ঘোষণার পর মাত্র পাঁচদিনে ১৪ হাজার ৩০০ কোটি টাকা জমা পড়ে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নোট বাতিলের ঘোষণার পর মাত্র ৫ দিনে আমদাবাদ জেলা সমবায় ব্যাঙ্কে ৭৪৫.৩৯ কোটি টাকা মূল্যের বাতিল নোট জমা পড়ে। ঘটনাচক্রে ওই ব্যাঙ্কের ডিরেক্টর অমিত শাহ। রাজকোট জেলা সমবায় ব্যাঙ্কে ৬৩৯.১৯ কোটি টাকা অর্থমূল্যের বাতিল নোট জমা পড়ে। ওই সংস্থার চেয়ারম্যান গুজরাত সরকারের ক্যাবিনেট মন্ত্রী বিঠলভাই রাডিয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: