শহরে জাপানী এনসেফ্যালাইটিসে মৃত্যু, কীভাবেে বুঝবেন এই রোগ? হলে কি করবেন?

ভারত সরকারের তথ্য বলছে উত্তরপ্রদেশ, আসাম, পশ্চিমবঙ্গ ও কর্ণাটক-এই চারটি রাজ্য জাপানি এনসেফেলাইটিস প্রবণ এলাকা বলে চিহ্নিত। এর আগেই ইউনিভার্সাল ইমিউনাইজেশন প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে এই রাজ্যকেও। চালু হয়েছে সিঙ্গল ডোজ টিকাকরণ। রাজ্য সরকারের মাধ্যমে তা দেওয়ার কথা। অন্যদিকে সার্ভিল্যান্স অ্যাকটিভিটি বা নজরদারির কাজও নিয়মিত হয় বলে ঘোষণা রাজ্য সরকারের। অর্থাৎ যেখানে যেখানে রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে সেখানে যথাযোগ্য ব্যবস্থা নেওয়ার কথা। কিন্তু এবছর এই রোগের ব্যাপকতা রাজ্য সরকারের ব্যর্থতাই প্রমাণ করছে বলে চিকিৎসকদের এক বড় অংশ মনে করছেন। ৩ থেকে ১৫ বছর বয়সীদের মধ্যে এই রোগ বেশি দেখা যাচ্ছে।

প্রথমে প্রচণ্ড জ্বর, তার সঙ্গে শরীরে খিঁচুনি, ঘাড় শক্ত হয়ে দৃষ্টি শূন্যতা এবং শেষ পর্যন্ত কোমায় চলে যাওয়াই এর লক্ষণ। উপযুক্ত চিকিৎসায় তাড়াতাড়িই সুস্থ হতে পারেন আক্রান্ত ব্যক্তি। কিন্তু উত্তরবঙ্গের হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে সেই পরিকাঠামো নেই বলেই বক্তব্য বহু চিকিৎসকেরই। রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য ভবনে ভ্যাকসিন চেয়েও পাওয়া যায়নি বলে বহু স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অভিযোগ। ব্লক ও মহকুমা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ফিভার ল্যাব খোলার ঘোষণা ছিল। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে হয়নি তাও। জলপাইগুড়ি ও কোচবিহার সদর হাসপাতালে ঘুরছে শুয়োর। আরও অভিযোগ, সাধারণ রোগীদের সঙ্গে রাখা হয়েছে বহু এনসেফেলাইটিস রোগীকে। এই অবস্থা চলতে থাকলে এনসেফেলাইটিস রোগের প্রকোপ কমানো সম্ভব নয় বলে চিকিৎসকদের আশঙ্কা।

 


জাপানী এনসেফ্যালাইটিস কী?

মাথা (এনসেফ্যালন) অস্বাভাবিক ফুলে গেলে যে রোগটা হয়। যেমন টনসিল ফুললে টনসিলাইটিস বা লিভারের কোষ নষ্ট হলে হেপাটাইটিস।

উপসর্গ?

জ্বর, মাথাব্য়থা, খিঁচুনি, সংজ্ঞা লোপষ ঘড় শক্ত, সঙ্গে ঝুমনিভাব। পরে পরে কোমা।

কীভাবে ধরা যায়?

রক্ত ও সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্রুইড পরীক্ষায়।

চিকিৎসা

নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। উপসর্গভিত্তিক চিকিতসা।

কীভাবে হয়

ছোটবেলা হাম, মাম্পস থেকে ছড়ায়। রোগ প্রতিরোধ ব্যববস্থায় যুক্ত কোষগুলি মস্তিষ্কের কোষকে জীবানু ভেবে আক্রমণ করলে। মসস্তিষ্কে অন্য ভাইরাস, ব্যাক্টেরিয়া বা ছত্রাকের সংক্রমণ হলে।

জাপানি এনসেফ্যালাইটিস ছড়ায় কী করে

শুয়োর, বক, সারসের মত পশু-পাখির শরীরে এই জীবাণু বেড়ে ওঠে। তবে এতে এদের কোনও ক্ষতি হয় না। কিন্তু কিউলেক্স জাতীয় তাদের কামড়ালে ভাইরাসটি রক্তের মাধ্যমে শরীরে চলে যায়। সেই মশার কামড়ে মানুষ আক্রান্ত হয়।

প্রতিরোধের উপায়?

ভাইরাসঘটিত এনসেফ্যালাইটিসের টিকা। জাপানি এনসেফ্যালাইটস রুখতে মশা বিনাশ। শুয়োরর রক্ত পরীক্ষা। মাম্পস ও হামের টিকা নেওয়া থাকলে মস্তিষ্কে সংক্রমণের ভয় কমে। জলবহিত জীবাণু ঠেকাতে পরিশ্রুত জল সরবারহই একমাত্র উপায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: