বিস্ফোরণে দিলীপ-আরএসএসের যোগের প্রমাণ পেয়েছি – জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক

নাগেরবাজার বিস্ফোরন নিয়ে শুরু হয়ে গেল রাজনৈতিক তরজা। গতকাল বিস্ফোরনস্থল থেকেই দমদম মিউনিসিপ্যাল চেয়ারম্যান পাঁচু রায় ঘটনাটিকে প্রতক্ষ্যভাবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন যদিও সরাসরি ইঙ্গিত যে বিজেপির দিকে ছিল তাও বলা যাবেনা। ওয়াকিবহাল মন্তব্যের ধারনা স্থানীয় এলাকার তৃনমূল প্রভাবশালী একটি অংশের সাথে ইদানীং বহুতলের নকশা অনুমোদন না করায় পাঁচু রায়ের সাথে বনিবনা হচ্ছিলনা। যদিও তা বিস্ফোরনের কারন কিনা সে সম্পর্কেও এখনই নির্দিষ্ট করে কিছু বলা সম্ভব না।

গান্ধী জয়ন্তীর সকালেই কাজিপাড়ার বোমা বিস্ফোরনে দু জন মৃত ও একাধিক আহত হওয়ায় সিআইডির প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে বিস্ফোরনে ব্যবহৃত হয়েছে সকেট বোমা, এবং প্রায় আট ইঞ্চি লম্বা আর চার ইঞ্চি ব্যাসার্ধের সকেট বোমায় ব্যবহৃত সপ্লিন্টারও উদ্ধার হয়েছে আহতদের দেহ থেকে বলে তদন্তকারীরা জানান। বিস্ফোরনের পরে পরেই স্বভাবতই প্রশ্ন উঠেছে বিজেপির চক্রান্ত না কি তৃনমূলের আভ্যন্তরীন গোষ্ঠীদ্বন্ধ এর জন্য দায়ী! রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক সরাসরি এই বিস্ফোরনের সাথে দিলীপ ঘোষ ও আরএসএসের সরাসরি যোগ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন – “ ঘটনাস্থলে তৃনমূলের স্থানীয় নেতা পাঁচু রায়ের অফিস এবং সেখানে অনেক তৃনমূল কর্মী সহ মন্ত্রী পূর্নেন্দু বসুর রোজকার যাতায়াত। বিস্ফোরনের স্থান এবং ধরন দেখেই বোঝা যাচ্ছে বোমা আগে থেকে রাখা ছিল।“  জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক আরও বলেন –“ সারাদেশে বিজেপি হিংসার রাজনীতি করছে, এ রাজ্যে সেটাই করতে এলে ওদের মনে রাখতে হবে প্রত্যাঘাত মানুষের থেকেই আসবে।“

অন্যদিকে রাজারহাটের বিধায়ক ও রাজ্যের মন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসু বলেন –

“সিপিএমের আর এত ক্ষমতা নেই ফলে এটা নিশ্চিত করে বলা যায় বিস্ফোরনের পুরো চক্রান্তটাই বিজেপি আরএসএসের। সিপিএমের মেরুদন্ড ভেঙে গেছে। তৃনমুল এ কাজ করবে না। ফলে বিজেপি ছাড়া এহেন সন্ত্রাসের কাজ অন্য কারো হতে পারেনা।”

তবে উল্টোদিক থেকে বিজেপির দলীয় মন্তব্যও আসা শুরু হয়েছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন –

“তৃনমুল এখন সবেতেই বিজেপির ভূত দেখে। নিজেদের গোষ্ঠীদ্বন্ধের ব্যর্থতা লুকোতে এবং মানুষের হাত থেকে বাঁচতে এখন বিজেপির ঘাড়ে দোষ চাপাচ্ছে।”

দিলীপ ঘোষ এনআইএ তদন্ত দাবী করে বলেন –

“এনআইএর হাতে তদন্ত ছেড়ে দিলেই বোঝা যাবে দমদমের মত এত জনবহুল জায়গায় বোমা রেখে চলে গেল কেউ আর পুলিশ জানতেও পারল না কেন।”

আর এস এস নেতা জিষ্ণু বসু বলেন –

“তৃনমুলের আমলে রাজ্যটা একেবারে জতুগৃহ হয়ে গেছে।”

অন্যদিকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্রও তৃণমুলের দিকেই অভিযোগের আঙুল তুলেছেন। তিনি বলেন-

“আমরা বারুদের স্তুপের ওপর বসে আছি। শাসক দলের নেতাকেই নিরাপত্তা দিতে না পারলে সরকার সাধারন মানুষকে কি নিরাপত্তা দেবে?”

প্রতিবারই বিস্ফোরন ঘটার পর বিরোধীদের দিকে দায় ঘুরিয়ে দেওয়া নিয়েও শাসক দলের নীতির প্রশ্ন তুলেছে রাজনৈতিক মহলের অনেকজন। সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্ত্তী বলেন-

“আমডাঙায় বোমা পড়ল,সরকার বলল বাংলাদেশের হাত, নাগেরবাজারে বিস্ফোরন হলে সরকার বলল অন্য কেউ বোমা ফাটাচ্ছে। তাহলে প্রশাসন আর পুলিশের কাজ কি? বিস্ফোরন হওয়া না অবধি দাঁড়িয়ে দেখা?”

Source : 24 Ghanta

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: