পশ্চিমবঙ্গের বেকারদের জন্য সুখবর নিয়ে এলো মুকেশ আম্বানি!

আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে পশ্চিম বাংলার একশো শতাংশ জনগোষ্ঠীকে জিও নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হবে। মঙ্গলবার (১৬ জানুয়ারি) রাজ্যের বুকে দাঁড়িয়ে এই ঘোষণা করেছেন রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের কর্ণধার এবং চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানি। সেই সঙ্গে এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, আগামী তিন বছরে জিও ছাড়াও আরও অন্যান্য ব্যবসায় রিলায়েন্স পাঁচহাজার কোটি লগ্নি করবে এরাজ্যে।

বেঙ্গল গ্লোবাল বিজনেস সামিটে ভাষণ দিতে গিয়ে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ গোষ্ঠীর মালিক আম্বানি জানান, পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগের সব সুযোগের ওপরই নজর রাখছেন তিনি। এই রাজ্যে ইলেক্ট্রনিক্স ম্যানুফ্যাকচারিং ফেসিলিটি গড়ে তোলার ব্যাপারেও উদ্যোগী হবেন মুকেশ। ”এই রাজ্যে একহাজার শহর এবং প্রায় ঊনচল্লিশ হাজার গ্রাম জিও’র নেটওয়ার্কের আওতায় পড়ে। ২০১৮’র ডিসেম্বরের মধ্যে জিও পশ্চিমবঙ্গের একশো শতাংশ জনগোষ্ঠীকে নেটওয়ার্কের আওতায় আনবে। রাজ্যের সর্বশেষ প্রান্তিক গ্রামগুলিতেও ৪জি ডিজিটাল টেকনোলজি পৌঁছে দেওয়া হবে। আমরা পুরো বাংলাকে অপটিক ফাইবার কেবল দিয়ে জোড়ার উদ্যোগ নিতে চলেছি।”

দেশের সবচেয়ে ধনী মানুষের দাবি অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এরাজ্যের সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং চিকিৎসা পরিষেবা প্রদাণকারী ফেসিলিটিগুলিতে জিও সংযোগ দেওয়ার কাজ সম্পূর্ণ হয়ে যাবে। বিশ্ব বাংলা ব্যবসা শিখর সম্মেলনে আম্বানি আরও বলেন, পশ্চিমবাংলায় ডিজিয়াল সার্ভিস সেন্টার খোলা হবে এবং তাতে অনেক চাকরির সুযোগ তৈরি হবে রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য। সেই সঙ্গে শহর এবং গ্রামাঞ্চলে আর্থিক বিকাশও হবে। ”আমি বেশ খুশির সঙ্গে ঘোষণা করছি, রাজ্যসরকারের সহায়তায় বাংলার পাঁচ জেলায় অবিলম্বে এই উদ্যোগ নেওয়া হবে। এরফলে গ্রাম এবং ছোটো শহরগুলিতে ডিজিটাল উদ্যোগপতি তৈরি হবে। ই-কমার্স চালু হবে। কৃষি ক্ষেত্রও এগোবে। ছোটো এবং মাঝারি মাপের শহরগুলিতে শিল্প হবে।”

নেক্সট জেনারেশন ইলেক্ট্রনিক্স ম্যানুফ্যাকচারিং ফেসিলিটি তৈরির জন্য একাধিক অংশীদারকে যুক্ত করবে রিলায়েন্স এই প্রোজেক্টে। পশ্চিমবাংলাকে আম্বানি মোবাইল ফোন, সেট-টপ বক্স এবং অন্যান্য ইলেক্ট্রনিক্স যন্ত্র তৈরির হাব হিসেবে গড়ে তুলতে চান আগামী দিনে। আর এই লক্ষ্যে রাজ্যের প্রতিটি মানুষের হাতে নিখরচায় ৪জি ফোন তুলে দিতে চান তিনি। জিও ছাড়া অন্যান্য ব্যবসার খাতে যে পাঁচহাজার টাকা ঢালবে রিলায়েন্স, তাতে রিটেল ইকোসিস্টেম এবং প্রেট্রোলিয়াম আউটলেটও রয়েছে।

২০১৫ সালে এই ব্যবসায়িক সম্মেলনের দ্বিতীয় সংস্করণে এরাজ্যে এসেছিলেন মুকেশ আম্বানি। সেবারের কথা উল্লেখ করে রিলায়েন্স কর্ণধার বলেন, ”সেসময় আমরা বাংলায় নতুন ছিলাম। রিলায়েন্স বাংলায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে বলেছিল। আমরা প্রতিশ্রুতির সাড়ে চার হাজার কোটি টাকার চেয়ে তিনগুনের বেশি বিনিয়োগ করেছি এরাজ্যে। গত দু’বছরে পনেরো হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে বাংলায়।” আর তার কারণ হিসেবে আম্বানি জানিয়েছেন, এরাজ্যে শিল্পবান্ধব পরিবেশ, নিয়মনীতি এবং পরিকাঠামো রয়েছে। আগামী দিনে রিলায়েন্সের লক্ষ্য বিশেষ করে ছোটো ব্যবসায়ীদের সফল করে তোলা। আর এই উপলক্ষ্যে গোটা বাংলাকে ডিজিটাল করে তুলতে বদ্ধপরিকর রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: