মিথ্যা কথা বলছেন আম্বানি-রা, জিও আসলে কত টাকা লাভ করলো জানেন

সব ফ্রি। কল, এসএমএস, রোমিং ডেটা। সব সব ফ্রি। ২০১৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর রিলায়েন্স যখন তাদের নতুন টেলি সার্ভিস ‘জিও’চালু করেছিল গোটা দেশ চমকে গিয়েছিল। সব ফ্রি-এর সুযোগ নিতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল গোটা দেশ। জিও-ময় হয়েছিল দেশের টেলি দুনিয়া। তখন বড় প্রশ্ন ছিল, সব বিমানূল্য দিয়ে এত খরচসাপেক্ষ পরিকাঠামো করে কী আদৌও লাভ তুলতে পারবে মুকেশ আম্বানি-র রিলায়েন্স টেলিকম। এক লাফে রেকর্ড সংখ্যাক সাবস্ক্রাইবার হয়ে যায় জিও-র।

শুতেরু রিলায়েন্স জিও- জানিয়েছিল ২০১৭-১৮ আর্থিক বর্ষ থেকে লাভের মুখ দেখবে। কিন্তু গত বছরের শেষের দিকে রিলায়েন্স জানায়, তারা জিও থেকে বছরের শেষ কোয়ার্টারে ৫০৪ কোটি টাকা লাভের মুখ দেখেছে। তবে স্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালেয়র এক সমীক্ষা জিও-র লাভের এই দাবি উড়িয়ে দিল। তারা জানাল, চলতি আর্থিক বছরে জিও-র পক্ষে কিছুতেই লাভের মুখ দেখা সম্ভব নয়। জিও যে লাভের হিসেব দেখাচ্ছে তাতে অনেক খরচ এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। ২০২০ সাল থেকে জিও লাভের মুখ দেখবে। সেই সমীক্ষা বলছে, জিও এখন ২১০০ কোটি টাকা ক্ষতিতে চলছে। যেটা আগামী বছর এই সময় ২১০ কোটিতে নামার সম্ভবনা রয়েছে। আর ২০২০ সালে মোটা লাভ দেখতে পাবে।

রিলায়েন্স জিও–‌র। পরিষেবা চালু হওয়ার পর থেকে পরবর্তী ৭ মাসে জিও বিভিন্ন কোম্পানিকে মোট আইইউসি দিয়েছে ২৫৮৯ কোটি টাকা। কারণ, জিও থেকে এতদিন অন্য কোম্পানির মোবাইলে ফোন গেছে বিপুল হারে। এই বছরের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত জিও শুধু এয়ারটেলকেই কানেক্টিভিটি চার্জ দিয়েছে ৪৯৮ কোটি টাকা। এই খরচ এবার অনেকটাই কমবে। তার মানে আয় কমবে অন্যান্য মোবাইল কোম্পানির। ফলে ট্রাইয়ের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ এয়ারটেল এবং ভোডাফোনের মতো বড় বড় সংস্থা। ভোডাফোনের সরকারি মুখপাত্র চাঁচাছোলা ভাষায় বলেছিছেন, ‘‌মোবাইল পরিষেবা শিল্প যখন এক গভীর সঙ্কটের মধ্যে দিয়ে চলেছে, তখন এটি ট্রাইয়ের আরও একটি সিদ্ধান্ত, যার ফলে লাভবান হবে বাজারে নতুন আসা একটি কোম্পানি।’‌ পাশাপাশি এয়ারটেলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘‌ট্রাইয়ের সিদ্ধান্তে কোনও স্বচ্ছতা নেই। উপকৃত হবে শুধুমাত্র একটি কোম্পানি, ক্ষতিগ্রস্ত হবে সামগ্রিক মোবাইল শিল্প, যারা দীর্ঘদিন ধরে দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধি হার চাঙ্গা রেখেছে। এই সিদ্ধান্তে আমরা অত্যন্ত দুঃখিত।’‌ অন্যদিকে আর্থিক বিশ্লেষকদের হিসেব, ট্রাইয়ের এই সিদ্ধান্তে জিও-র করপূর্ব আয় ৪১% বাড়তে পারে।‌

এক মোবাইল কোম্পানির ফোন থেকে আরেক মোবাইল কোম্পানির ফোনে ‘কল’ ঢুকলে যে কোম্পানির ফোন থেকে ‘কল’ আসছে, তাকে দিতে হয় ইন্টারকানেক্ট ইউসেজ চার্জ, সংক্ষেপে আইইউসি। ২০০৩ সালে এই আইইউসি ছিল মিনিট পিছু ৩০ পয়সা। পরের ১০ বছরে সেই আইইউসি নেমে এসেছিল মিনিট পিছু ২০ পয়সায়। ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে টেলিকম অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (ট্রাই) আরও কমিয়ে আইইউসি করেছিল মিনিট পিছু ১৪ পয়সা। ট্রাই জানিয়েছে, চলতি বছরের অক্টোবর থেকে আইইউসি আর এক দফা কমিয়ে করা হচ্ছে প্রতি মিনিটে ৬ পয়সা এবং ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে পুরোপুরি তুলেই দেওয়া হবে আইইউসি।

টেলিকম শিল্পের একটা অংশ মনে করছে, এর ফলে বিনা খরচে মোবাইল ফোনের পরিসর ক্রমশই বাড়বে। অন্য একটা অংশের আবার আশঙ্কা, ইতিমধ্যেই বিপুল চাপে পড়ে থাকা মোবাইল ফোন শিল্পকে আরও চাপে ফেলারই ব্যবস্থা করল ট্রাই। এতে শেষ পর্যন্ত প্রতিযোগিতা কমবে এবং তার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন গ্রাহকরাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: