রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তে মাথায় হাত স্কুল টিচারদের, জানুন কেন

ছাত্র শিক্ষক সম্পর্ক আরো সহজ করে তুলতে হবে, যে কারণে ক্লাসরুমে কেবলমাত্র বসেই নয় ছাত্রদের আশেপাশে ঘুরেই এবার থেকে পড়াতে হবে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের। যে কারণে এবার থেকে ক্লাসরুমে শিক্ষক শিক্ষিকাদের জন্য কোন চেয়ার রাখা থাকবে না। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় বিভিন্ন স্কুলগুলিতে ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কের জটিলতাকে আরও সহজতর করে তোলার জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জানা যাচ্ছে, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই প্রত্যেকটি সরকারি এবং সরকারি অনুমোদিত স্কুলগুলিতে এই নিয়ম চালু করতে চলেছে স্কুল শিক্ষা দপ্তর।

শ্রেণিকক্ষে এবার থেকে শিক্ষক-শিক্ষিকারা হাঁটাচলা করে ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াবেন। কেননা কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায় সামনে চেয়ারে বসে শিক্ষক বা শিক্ষিকা যা পড়াচ্ছেন বড় ক্লাসরুম হওয়ার দরুন অনেক সময় শেষ বেঞ্চে বসা ছাত্রটি পড়া শুনতে পারে না কিংবা সামনে বোর্ডে কি লেখানো হচ্ছে তা দেখতে পারে না। এ কারণেই এবার শিক্ষকদের ক্লাস রুমে হেঁটে পড়ানোর নির্দেশিকা জারি করা হচ্ছে।

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা স্কুল শিক্ষা দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে, মূলত ছাত্র শিক্ষক সম্পর্ক আরো নিবিড় করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। কেননা শিক্ষক বা শিক্ষিকা ক্লাসে যদি দাঁড়িয়ে পড়ান তাহলে তার আওয়াজ দূর পর্যন্ত পৌঁছাবে এবং ক্লাসের প্রত্যেকটি ছাত্র-ছাত্রী সমানভাবে শুনতে পারবেন। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি বেসরকারি স্কুলে এই ব্যবস্থা চালু রয়েছে। এবার সরকারি স্কুল গুলি ও ক্লাস রুম থেকে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বসে থাকার ব্যবস্থা দূর করতে চলেছে। মূলত পঠন-পাঠনের মান উন্নয়নের জন্যই স্কুল শিক্ষা দপ্তরের তরফে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও প্রত্যেকটি ক্লাস শেষের পর ১০ মিনিট ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে তাদের প্রয়োজনে কথাবার্তা বলার জন্য অতিরিক্ত সময় এবার থেকে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে। ইতিমধ্যেই জেলার স্কুলগুলিতে এই নির্দেশিকা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

আগামী বছর থেকেই প্রত্যেকটি স্কুলে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকদের চেয়ার সরিয়ে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। যদিও এই বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গিয়েছে। তবে বেশিরভাগই বিষয়টি সমর্থন করেছেন, কেননা ছাত্র শিক্ষকের সম্পর্ক নিবিড় হলেই পঠন-পাঠনের মান উন্নয়ন হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: