চোখ মেরে কী আইনের চোখে অপরাধ করেছিলেন প্রিয়া প্রকাশ! কী জানাল সুপ্রিম কোর্ট

রূপোলি পর্দায় প্রথমবার আবির্ভাব। ‘ওরু আদার লাভ’ নামে একটি দক্ষিণী ছবিতে কাজ করেছিলেন তিনি। তাও আবার এক্কেবারে মামুলি লুকে। সেখানে এক স্কুল ছাত্রীর ভূমিকায় দেখা গিয়েছিল তাঁকে। পরনে স্কুল ইউনিফর্ম। ক্লাসে বসেই পাশের বেঞ্চের সহপাঠীর সঙ্গে ফ্লার্ট করছে সেই তরুণী। ব্যস, তাতেই বাজিমাত। রাতারাতি বিখ্যাত হয়ে গিয়েছিলেন প্রিয়া প্রকাশ ভারিয়ের।

তাঁর কটাক্ষ আর বুলেট চুম্বনে ঘায়েল কিশোরটি। আসলে ঘায়েল হল তাবত্‍ পুরুষকুল। রাতারাতি নেটদুনিয়ায় সেনসেশন হয়ে ওঠেন প্রিয়া। বহু সেলেব তাঁর প্রশংসাও করেন। ওই দৃশ্যই যেমন পরিচিতি এনে দিয়েছিল, তেমনই আবার বিপাকেও পড়েছিলেন প্রিয়া। ‘মাণিক্য মালারায়া পুভি’ গানে প্রিয়ার চাউনিতে মুসলিম সম্প্রদায়ের একাংশের ভাবাবেগে আঘাত লেগেছে বলেই দাবি করা হয়। হায়দরাবাদ পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে দুটি এফআইআর-ও দায়ের করে।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে স্বস্তিতে মালয়ালম অভিনেত্রী প্রিয়া প্রকাশ ভারিয়ের। বছর আঠেরোর জনপ্রিয় ওই অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া দুটি এফআইআর খারিজ করে দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। আর নতুন করে প্রিয়া ও ‘ওরু আদার লাভ’ সিনেমার সঙ্গে জড়িত কারও বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ দায়ের করা যাবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। শুনানির পর শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র এফআইআরগুলি খারিজ করে দেন। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়, ওই দৃশ্যের মাধ্যমে মুসলিম সম্প্রদায়ের ভাবাবেগে আঘাত করা হয়েছে, এমন দাবি আর কেউ করতে পারবেন না।

দেশের সর্বোচ্চ আদালতের মতে, ওই গানের সঙ্গে প্রিয়ার ঘায়েল করা চাউনি কখনওই কারও ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করতে পারে না। ধর্মীয় ভাবাবেগকে আঘাত করার কোনও পরিকল্পনা কারও ছিল না বলেও জানিয়ে দেয় সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র আরও জানান, কোনও ধর্মের পরিপন্থী হিসাবেও ওই আচরণকে চিহ্নিত করা যায় না। তাই ভারতীয় দণ্ডবিধির ২৯৫ ধারায় দায়ের করা এফআইআর গ্রাহ্য করা যায় না। নতুন করে তাঁর বিরুদ্ধে আর কোনও অভিযোগ দায়ের করা যাবে না বলেও জানিয়ে দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: