ফের ডানা ছাঁটা হল শোভনের, শোভনের ওপর মমতার অনাস্থার পাঁচ কারণ

পরিবেশ মন্ত্রক হাতছাড়া হয়েছিল আগেই।  এবার শোভন চট্টোপাধ্যায়ের থেকে কেড়ে নেওয়া হল পৌর দলের কর্তৃত্বও। কোর কমিটির বৈঠকেই দলীয় দায়িত্ব থেকে সরানো হল মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়কে। পরিবর্তে রাজ্যের সমস্ত পৌরসভা সাংগঠনিক ভাবে দেখার গুরু দায়িত্ব পেলেন ফিরহাদ হাকিম।এত দিন পর্যন্ত রাজ্যের সমস্ত পৌরসভা দলীয়ভাবে দেখতেন শোভন চট্টোপাধ্যায়ই। রাজ্যের সমস্ত তৃণমূল পৌর প্রতিনিধিরা দলীয়ভাবে রিপোর্ট করতেন তাঁকেই। দমকল ও আবাসন মন্ত্রকের পাশাপাশি মেয়র তাঁর এই সাংগঠনিক দায়িত্ব নির্বাহ দেখে বেশ খুশিই ছিলেন নেত্রীও। তবে ইদানিং নেত্রীর সঙ্গে মেয়রের শীতল সম্পর্কের কারণেই সেই দায়িত্ব হারাতে হল তাঁকে। এমনটাই তৃণমূল সূত্রের খবর। এক নজরে দেখে নিন মূলত কোন কারণগুলির জন্য মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের ওপর এমন শাস্তি আরোপ করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

৫) কাজে মন নেই শোভনের :

কিছুদিন আগে দলীয় কাজকর্মে মন দেওয়ার জন্য মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় কে সতর্ক বার্তা দিতে দেখা গিয়েছিল তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে। তার পরেও কাজে সঠিকভাবে মনোনিবেশ করেন নি মেয়র। যে কারণে কিছু কিছু সময় তৃণমূল নেত্রী কে মেয়রের কৃতকর্মের ফল ভুগতে হয়েছে। বারংবার কাজে মন দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া সত্বেও মনোনিবেশ না করায় তাকে পদচ্যুত করতে বাধ্য হয়েছেন তৃণমূল নেত্রী।

৪) দিদির টোটকারও পরেও ঝিমিয়ি আছেন :

দলীয় কাজে যাতে নিজের পারিবারিক অশান্তি মিটিয়ে মনোনিবেশ করতে পারে। যে কারণে পৌর প্রতিনিধিদের রিপোর্টিংয়ের দায়িত্ব দিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী তার ওপর। কিন্তু পরবর্তী সময়ে দেখা গিয়েছে মেয়রের সাথে তৃণমূল সুপ্রিমোর সম্পর্কের উন্নতি তো ঘটেনি বরং সম্পর্কের শীতলতা আরো বেড়েছে এবং কাজের সঠিক ভাবে মনোনিবেশ না করার খবরা-খবর পেয়েছেন তৃণমূল নেত্রী, যে কারণে মেয়রের ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি।

৩) মেয়র হিসেবে দ্বিতীয় দফায় আসার পর কাজ করতে পারছেন না :

প্রথমবার মেয়র হিসেবে কাজে নামার পর এক অদম্য উৎসাহে কাজ করে উন্নয়ন করেছিলেন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে পারিবারিক অশান্তি এবং নিজের জীবনের জটিলতার কারণে দ্বিতীয় বার মেয়র পদে আসার পর সঠিকভাবে রাজ্যের উন্নয়ন তো দূরে থাক নিজের প্রয়োজনীয় কাজটুকু মেয়র করতে পারেন নি বলে মুখ্যমন্ত্রীর বিরাগভাজন এর জন্য দায়ী হয়েছেন তিনি।

২) দলের নেতাদের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করেছেন :

দলের অত্যন্ত জনপ্রিয় মুখ হওয়া সত্বেও একটা সময় পর দলীয় নেতৃত্ব দের সাথে তার দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। নিজের ব্যক্তিগত জীবনে মেয়রের অতিরিক্ত মনোনিবেশই রাজ্যের রাজনৈতিক ক্ষেত্রে তাকে দূরত্ব সৃষ্টি করছেন বলে মনে করা হচ্ছে। এক সময় যখন প্রথম সারির নেতৃত্তের সাথে তিনি ওঠাবসা করতেন তাদের সাথে পরবর্তী সময় দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

১) মেয়রের ব্যক্তিগত সম্পর্কের কদর্যতা দলের অস্বস্তি বাড়িয়েছে :

স্ত্রী রত্নার সাথে পারিবারিক অশান্তি বাইরে এসে মেয়রের রাজনৈতিক জীবনের ওপর প্রভাব ফেলেছে। এমন কি মেয়রের পারিবারিক অশান্তি কিছু কিছু সময় দলের ওপরেও আঘাত করেছে বলে তৃণমূল নেত্রী বারবার সতর্ক করেছিলেন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়কে। তবে পরবর্তী সময়ে তার স্ত্রী এবং বান্ধবী সব মিলিয়ে এক জটিল পরিস্থিতির শিকার হন তিনি। যে কারণে ব্যক্তিগত সম্পর্ক বাইরের জগতে এসে তা আরও কদর্যতা বাড়িয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: