এই সব জিনিস কিন্তু রোগ ডেকে আনছে আপনার শরীরে, বদলান এই অভ্যাসগুলি

একটু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মহিলাদের সবেচেয়ে বেশি যেটা ভোগায়, সেটা হলো কোমরের ব্যথা। কারণটা ঠিক মতো ডাক্তার বলতে না চাইলেও, আসলে আপনার অতিরিক্ত ফ্যাশন সেন্সই এর মূল। হাঁটুর ব্যাথাও এই কারণেই হয়। এছাড়া, আরও অনেক বিপদ ডেকে আনছেন নিজের এর মাধ্যমে।

আধুনিক হন ঠিক আছে, কিন্তু এই আটটা অভ্যেস বদলান –

১. ফিটিংস জিনস

এখন এটাই চল। একেবারে স্লিম ফিট জিনস মেয়েরা পরতে ভালোবাসেন। ছেলেদের মধ্যে এখন চলটা এসেছে অনেকটাই। কিন্তু, জানেন কি, অতিরিক্ত টাইট কাপড়-জামা পরলে শরীরে রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো হয় না, শিরা ও রক্তজালিকায় চাপ পড়ে। খাবার ঠিকমতো হজম হতে পারেন না বলে বদহজম বাড়ছে এখন। আর টাইট প্যান্ট পরলে পা ঠিকমতো নাড়াচাড়া করা যায় না বলে, উরুতে ব্যথা হয়।

২. উঁচু হিলের জুতো

দেখতে যতোই স্টাইলিশ হোক, কোমরে ব্যথার সবচেয়ে বড় কারণ হাই হিলের জুতো। পেন্সিল হিল তো আরও মারাত্মক। একে তো এদিক ওদিক হলে পা মচকাবেন। আর না হলেও রোজ রোজ এগুলি পরে কোমরটার বারোটা বাজাচ্ছেন। এই হিল তোলা জুতো অস্টিওআর্থারাইটিস, গাঁটে ব্যথার মতো রোগও ডেকে আনে। হাঁটুও ক্ষয়ে যেতে পারে সময়ের আগে।

৩. ভারি গয়না আর হার

মুখ টিপে হাসবেন না। বেশ ভারি আর নক্সাকাটা গয়নাতে ব্যাকটেরিয়া জন্মায়। পরিষ্কার করার অতো সময় কারও নেই। ফলে, ওই ব্যাকটেরিয়ার কারণেই গয়না পরলে ত্বকে ব়্যাশ বেরোচ্ছে আপনার। আর কানে ভারি গয়না পরলে কানের লতিতে চাপ পড়ে। কানের ফুঁটো বড় হয়ে যাচ্ছে। কোনও সময় অসাবধানবশত টান পড়ে গেলে ছিঁড়ে যেতেও পারে। প্লাস্টিক সার্জারি ছাড়া তখন আর কোনও উপায় থাকবে না। আর ভারি ভারি নেকলেস পরলে, গলায় ও ঘাড়ে ব্যথা হয় মাত্রারিক্ত ওজনের কারণে।

৪. টাই ও ছোটো কলারের শার্ট

মেয়েরাও এখন শার্ট আর টাই পরে বলে পুরুষরা কিন্তু এড়িয়ে যাবেন না এটা। ছেলেদের মধ্যেও অভ্যেসটা রয়েছে। শার্ট ফিটিংস দেখানোর জন্য ছোটো কলারের কেনেন। আর তার ওপরে টাই পরায়, গলায় অতিরিক্ত চাপ পড়ে। ফলে ঠিকমতো রক্ত সঞ্চালন হতে পারে না। কাজ করতে করতে হঠাৎ মাথাব্যথা, গা বমিবমি ভাব, ঘাড়ে ও কাঁধে ব্যথা অনুভব হওয়া এই কারণেই।

৫. ফিল্প-ফল্পস    

বলবেন, সমুদ্র সৈকতে গেলে এছাড়া আর কি পরব? কিন্তু, জানেন কি, এসব জুতো খুব অপকারী। ঠিকমতো হাঁটাচলা করা গেলেও, পায়ের ওপর চাপ পড়ে অত্যাধিক। আর আঙুলের খাঁজে খাঁজে অকারণে পা কেটে যেতে পারে। তা থেকে ব্যাক্টেরিয়া শরীরে প্রবেশ করে ওই কাটা জায়গা বিষিয়ে তোলে।

৬. শেপ ওয়্যার

রোগা দেখার জন্য ছেলেরা থেকে শুরু করে মেয়েরাও এটি ব্যবহার করেন পোশাকের ভিতর। পেট রোগা দেখাতে কে না চান? কিন্তু, অতিরিক্ত চাপের ফলে রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো হয় না আর সঙ্গে খাবার হজম হতেও সমস্যা দেখা দেয় পাকস্থলিতে। আবার পেটে অকারণ চাপ দেওয়ায় নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসেও সমস্যা দেখা দেয়। পরুন, তবে দেখেশুনো, ঠিকমতো মাপের কিনুন। নাহলে এসব জিনিস শরীরে ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়। ঠিকমতো হাঁটাচলা করতে না পারার কারণে গাঁটে গাঁটে ব্যথা হয়।

৭. এক্সট্রা লারজ হ্যান্ডব্যাগ

অতিরিক্ত সবকিছুই খুব খারাপ। দেখতে ভালো লাগলেও, বেশি ওজন বওয়া মোটেই ভালো নয়। এতে আপনার শরীরে ভারসাম্য নষ্ট হয়। আর তা থেকেই কোমরে ব্যথা, হাঁটুর ব্যথা থেকে থেকে পাছার পেশিতেও টান ধরার সমস্যা বাড়ছে। ছাড়ুন এসব বড় ব্যাগের স্টাইল। দরকার না থাকলে অকারণে বড় ব্যাগে অযথা মালপত্র নিয়ে কেন বইবেন?

৮. পেন্সিল স্কার্ট

দেখতে খুবস্টাইলিশ পেন্সিল স্কার্ট বা পাইপ স্কার্ট। কিন্তু, তেমনই ক্ষতিকারক। খুব চাপা বলে, দু’পা ঠিকমতো ফেলতে পারেন না। সমানে সমানে ফেলতে হয়। না হলে হোঁচট খেয়ে পড়ার ভয়। আবার গাড়িতে বসতেও সমস্যা। কিন্তু, এই ঠিকমতো হাঁটতে পারছেন না বলে শরীরের ব্যায়াম হচ্ছে না পর্যাপ্ত পরিমাণে। আর তাতে নানা অসুখ শরীরে বাসা বাঁধছে কোমরে ব্যথার সঙ্গে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: