স্বামীর মৃত্যুর আড়াই বছর পর জন্ম দিলো কন্যাসন্তান, পড়ুন এক অবাক করা কাহিনী!

নানান ঐতিহাসিক প্রেম কাহিনী শুনেছেন। আবার পড়েওছেন। পশ্চিমের রোমিও-জুলিয়েটের গল্প থেকে প্রাচ্যের হির-রাঞ্ঝা, সোহনি-মাহিওয়াল, আবার শশী-পুন্নুম, মিরজা-সাহিবা – এঁদের প্রেম কাহিনী পার্থিব প্রেম’কে এমন এক রূপ দিয়েছে, যা কালজয়ী ইতিহাসে পরিণত। যুগের পর যুগ এইসব কাহিনী প্রেমুক হৃদয়কে সাহস আর মনের জোর জুগিয়েছে, তাঁদের প্রেমকে আগে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার। তবে, আজ এক এমন কাহিনী বলব যেটা এই সব প্রেম কাহিনীকেও পিছনে ফেলে দেবে। স্বামীর মৃত্যুর পর স্বামীর ঔরসজাত সন্তানকে জন্ম দিয়েছেন স্ত্রী। তাও আবার আড়াই বছর পর।

এ ভালোবাসা পার্থিব জগৎকে ছাড়িয়ে পৌঁছে গিয়েছে এমন এক মাত্রায় যা ইতিহাসের পাতায় কালজয়ী প্রেমকাহিনীকেও পিছনে ফেলে দেবে। এ কাহিনী মুমতাজের স্মৃতির উদ্দেশ্যে শাহজাহানের অমর প্রেমের নির্দশনের থেকে অনেকাংশে উজ্জ্বল। কারণ, সেই প্রেমের নির্দশন জলজ্যান্ত এক কন্যা সন্তান। অবাস্তব নয়, তবে রোমাঞ্চকর কাহিনী। স্বামীর মৃত্যুর পর অনেক মহিলাই তাঁদের সন্তানের জন্ম দিয়েছেন, এতে নতুন কোনও তথ্য নেই। তবে, স্বামীর মৃত্যুর আড়াই বছর পর তাঁর ঔরসজাত সন্তানের জন্ম দেওয়ার ঘটনা অবশ্যই আশ্চর্যজনক। বিজ্ঞান। মানব সভ্যতার যাবতীয় উন্নতির পিছনে এই একটি শব্দেরই অবদান সবচেয়ে বেশি। মেরি শেলি’র লেখা কাল্পনিক উপন্যাস ফ্র্যাঙ্কেনস্টেইনের মতোই চিত্তাকর্ষক স্বামী হারা সানি লিউ’র কাহিনী। বিজ্ঞান পারে না, এমন কোনও বিষয় বোধহয় নেই! এই বিজ্ঞানই সানি’র গর্ভে এনে দেয় তাঁর স্বামীর ঔরসের সন্তানকে। আর সেই সন্তানই সানি’র কাছে তাঁর স্বামীর একমাত্র স্মৃতিচিহ্ন আজ।

ঘড়ির কাঁটা খানিকা পিছিয়ে নেওয়া যাক ক্যালেন্ডার পাতায় রিওয়াইন্ড করতে। ২০১৪ সালের বিশে ডিসেম্বরের কথা। নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের ডিটেক্টিভ ওয়েনজিয়ান লিউ ও তাঁর সতীর্থ রাফায়েল রামোস কর্তব্যরত অবস্থায় ইসমাইল আব্দুল্লা ব্রিন্সলে নামের এক দুষ্কৃতীর গুলিতে প্রাণ হারান। বছর বত্রিশের লিউ’র সঙ্গে তার মাস কয়েক আগেই বিয়ে হয়েছিল সানির। দু’জনের মধ্যে প্রেম বেশ গাঢ় ছিল। হঠাৎ করে জীবনসঙ্গীকে হারিয়ে পড়ায় অনেকটাই ভেঙে পড়েছিলেন সানি। কিন্তু, এরপর যা করেন, তা প্রেমিক-প্রেমিকার কাছে চিরন্তন নিদর্শন হয়ে থেকে যাবে।

স্বামীর মৃতদেহর উদ্দেশে শেষ সম্মান জানানোর আগে ডাক্তাদের কাছে সানি অনুরোধ করেন, তাঁর স্বামীর স্পার্ম (শুক্রানু) যেন সযত্নে ফ্রিজড করে রেখে দেওয়া হয়। যাতে নিজেকে সামলে নেওয়ার পর, কোনও এক সময়ে সেই স্পার্ম ব্যবহার করে ইন-ভাইট্রো ফার্টিলাইজেশন পদ্ধতির সাহায্যে তিনি। কর্মরত অবস্থায় ওয়েনজিয়ান মারা গিয়েছিলেন বিশে ডিসেম্বর। সেই ঘটনার ঠিক দু’বছর সাত মাস পাঁচ দিন পর ২০১৭ সালের ২৫ জুলাই সানি জন্ম দেন এক কন্যা সন্তানকে। ওয়েনজিয়ান ও তাঁর প্রেমের একমাত্র স্মৃতি। সানি তাঁদের কন্যা সন্তানের নাম রেখেছেন অ্যাঞ্জেলিনা।

কন্যা সন্তানের জন্ম দেওয়ার পর ভীষণভাবে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন সানি। তাঁর বক্তব্য ছিল, তিনি নাকি জানতেন যে তাঁদের কন্যা সন্তানই হবে। আর স্বামীর স্পার্ম সুরক্ষিত রাখতে বলার পিছনেও এমন একটি কাহিনী আছে, যা আশ্চর্য করে দেওয়ার মতো। যেদিন ওয়েনজিয়ান মারা যান, তার পরের রাতের ঘটনা। ঘুমন্ত অবস্থায় স্বপ্নে সানি দেখতে পান যে তাঁর স্বামী তাঁর কোলে এক কন্যা সন্তানকে তুলে দিচ্ছেন। যাইহোক, সানি যেদিন অ্যাঞ্জেলিনা’কে জন্ম দেন, সেদিন হাসপাতালে তাদের নাতনীকে দেখতে ছুটে এসেছিলেন ওয়েনজিয়ানের বাবা-মা’ও। অ্যাঞ্জেলিনার মাধ্যমে সানি যেমন তাঁর স্বামীর ছোঁয়া পেয়েছেন, তেমনই ওয়েনজিয়ান লিউ’র বাবা-মা’ও, ফিরে পেযেছেন তাঁদের ছেলেকে। সানি-ওয়েনজিয়ানের ভালোবাসার গল্প সত্যিই কালজয়ী প্রেমগাথা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: