বাতকম্মের গন্ধমাদনে বিমানের জরুরী অবতারণ

গল্প কথায় প্রচলিত আছে যে রসিক গোপাল ভাঁড় নাকি এক সময় বাত কর্মে প্রদীপ নেভাতে পারতেন, যা নিয়ে তার গর্বও কম ছিল না। তবে গোপাল ভাঁড় গল্পের চরিত্র, বাস্তবে তো সবাই গোপালের মত বড়াই করতে পারেন না বরং সংকোচেই ভোগেন সকলে। সাধারণ মানুষ যখন বায়ুত্যাগ করেন, চেষ্টা করেন অতি সন্তপর্ণে তা করতে, কিন্তু এই স্বাভাবিক ক্রিয়া করতে গিয়ে অনেক সময়েই হয়ে পড়েন বেসামাল ফলে সংকোচে পড়ে যান অনেকেই। ফলে শুধু ব্রক্ষ্মা কেন এই গোপন কান্ডটি জেনে যান সকলেই। ফলে এই বিষম কান্ডটি ঘটানোর মালিককে পড়তে হয় লজ্জায়। অবশ্য সকলেই নন, বেশ কিছু মানুষ আছেন আবার গোপালেরই মত তোয়াক্কাহীন। গোপালের মত এমন নিডর  সংকোচহীন কিছু মানুষকে প্রায়শই দেখা যায় আমাদের রোজকার জীবনযাত্রায় বাসে ট্রামে ট্রেনে। যারা নিঃসঙ্কোচেই এমন কান্ডটি ঘটিয়ে ফেলেন প্রকাশ্যেই লজ্জা শরমের বালাই না করেই। তারা মনে করেন পেটে গ্যাস না জমিয়ে রেখে বরং গোপন কম্মটি স্বাভাবিকভাবেই সেরে ফেলা উচিৎ। কিন্তু বাতকর্মের ঠেলায় বিমানের জরুরী অবতরণ!

না এমন কান্ড শোনা যায় নি কখনও। কিন্তু সম্প্রতি এমনই এক কান্ড ঘটেছে। এক যাত্রীর বাতকম্মের ঠেলায় জরুরী অবতরণ করতে হয়ে এক বিমানের। গন্ধের ঠেলায় নাভিশ্বাস উঠে যাওয়া যাত্রীরা তখন হাসফাস করছেন, কতক্ষণই বা এমন গন্ধ মাদন সহ্য করতে পারেন তারা, ফলে বিমানের জরুরী অবতরণ। আর এমন কান্ডে হার মেনে যান গল্পের গোপাল ভাঁড়ও। ঘটনাটি ঘটেছে দুবাই- আমস্টারডাম ট্রানসাভিয়া এয়ারলাইন্সের বিমানে। এক যাত্রীর বাতকম্মের গন্ধমাদনের ঠেলায় যাত্রীরা অস্থির হয়ে মেজাজ হারিয়ে ফেলেন, ফলে পাইলটকে বাধ্য হয়েই বিমানটির জরুরী অবতারণ করতে হয় ভিয়েনা এয়ারপোর্টে। একটি সুত্র মতে এরপর পুলিশ বিমনের যাত্রীদের তল্লাসি চালিয়ে এই কান্ডের সন্দেহভাজন চার যাত্রীকে প্লেন থেকে নামিয়ে দেন। সেই সঙ্গে ওই চার যাত্রী আর কখনও ওই এয়ারলাইন্সের বিমানে সফর করতে পারবেন না এমন সাজাও হয়। তবে রক্ষে যে বাত কম্মের ঠেলায় এ যাত্রা আর হাতকড়া পড়ে জেলে যেতে হয় নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: